Posts

Showing posts from September, 2021

মাকড়সা

হুহু ফাঁকা সাদামারা দেওয়ালে  সরীসৃপের ফাঁপা, সর্বগ্রাসী গিলে খাওয়া অস্তিত্বকে অস্বীকার করে  নিজের লালা, শ্রম, শিল্প দিয়ে মাকড়সাটা গড়ে তুলেছিল একটা ঘর কারোর যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করেনি সৃষ্টি করেছিল এক জালের উপনগরী পুরো ঘরটাই মানুষটার পুরো বাড়িটাই তার দেওয়ালের এক কোণ তবু মাকড়সাকে ছাড়তে পারল না সে তিলতিল করে গড়ে তোলা কারুকার্যময় জালিকাকে ঝুলঝাড়ুতে জড়িয়ে নিল মাকড়সাটা চুপচাপ চলে যাচ্ছিল তাকে ভ্যাকিউম দিয়ে টেনে নিল অথচ প্রত্যহ কত কুমির মানুষকে টেনে নিয়ে যায় তাদের কিছু করতে পারবে তুমি?  কুমির হাসে, সে শক্তিমান মাকড়সার গরীব বস্তি ওপড়ানোর জন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে হয় না...

মিয়াও

গ্যাঁট হয়ে বসে আছে হুলো রান্নাঘরে ফ্রিজের সামনে নিজের খাবারের বাটিটা আগলে কখন পেটটা একটু খালি হবে, আবার খাবে!  মাঝে মাঝে জুলজুল চোখে এদিক ওদিক দেখছে আমার ভিতরের বাচ্চা ছেলেটার বিল্লির গোল নাদুটা চটকানোর জন্য হাত নিশপিশ করছে বিল্লি বলছে, "মিয়াও!" কি? খাবার তো দেওয়াই আছে! "মিয়াও!" বিল্লি বলছে মিয়াও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, মিয়াও।  একটা অদরকারি কাগজ যেই মুড়ে ফেলেছি ঘরের কোণে ছুট্টে এসে হুলো গাপ করে ধরেছে ওটা নিয়ে বল খেলবে মোবাইল চার্জারের তারটা মাটিতে ঝুলছে তাই দেখে কামড়াকামড়ি শুরু করেছে "মিয়াও!" ওরে ওটা ছিঁড়ে যাবে রে!  "মিয়াও!" অন্য কিছু নে আহ! ওখানে উঠিস না, সব পড়ে যাবে যে! "মিয়াও!" বিল্লি বলছে মিয়াও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, মিয়াও। 

ভূতের সাথে আড্ডা

বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দিন দুয়েক ধরে হচ্ছে এরকম, বর্ষা এসে গেল বলে। বর্ষার সাথে সাথে আমার মধ্যে বাঙালিয়ানার বহর বেড়েছে হঠাৎ। কয়েক দিন ধরেই খুব ইচ্ছে করছে এরকম একটা দুর্যোগময় সন্ধ্যায় (এখন দুপুর) একটা ভূতের গল্পের আড্ডা দেব বন্ধুদের সাথে। এইরকম আড্ডা আজকাল বিরল হয়ে গেছে, বিশেষত এই টেকনো-হাব নিউ টাউনে কোথাও এইরকম খাস বাঙালি আড্ডা হয় কিনা আনার জানা নেই। বড় বেশি যান্ত্রিক এই অফিস পাড়াময় নিউ টাউন। হিউম্যান টাচটা পাই না। তার উপরে এখন নিউ টাউনের যেখানে থাকি, সেটা একেবারেই কলকাতার শেষপ্রান্ত।  যাকগে, একলা চলো রে! ঠিক করে ফেললাম আজ বন্ধুদের কে ডেকে নিয়ে আড্ডা দেবই। আমি নিজের ফ্ল্যাটে একা থাকি, বাবা মা গত হয়েছেন বেশ কিছু বছর হলো আর আমি বিয়ে করিনি। অতএব কেউ মদ খেয়ে রাতে থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। অন্যান্য দিন রান্নাবান্না করে খেয়ে দেয়ে লাইব্রেরী যাই লেখালিখি করতে। কিছু পত্রপত্রিকায় লেখালিখি করে আর অন্য লেখকদের বই অনুবাদ করে আমার সংসার চলে। সংসার মানে আমি আর আমার কুকুর, শান্তিগোপাল। হ্যাঁ, কুকুরের নাম রেখেছি শান্তিগোপাল। আজ লাইব্রেরি যাওয়া ক্যান্সেল করলাম। মুদির দোকানে কিছু সরঞ্জামাদি বলে দিল...

বাবা

খালি দিতে এসেছিলে এ জীবনে তাই চাওয়া কি শেখায়নি বিধাতা মনে পড়ে যায় শৈশবের বাগানে তোমার আমার আর লাকির খেলা।  আজ তুমি একা শীত শেষের হাওয়ায় ভাসে স্মৃতির ছেঁড়া পাতা সব দিয়েও মানুষ ফুরিয়ে যায় না তাই আজও সবার জন্য সব আনিয়ে দেওয়ার তাড়া।  অসৎ চিন্তা এলে মাথায় ভেসে আসে তোমার রাগী মুখটা হতাশ হলে বাজে মাথায়, তোমার "লড়ে যা" বিপ্লব আর সংসারের জাঁতাকলকে ব্যালান্স করার খেলা জীবন আমিও ট্রাপিজে চড়ি টলমল পায়ে...

বসুন্ধরা

দূর থেকে পুলিশের সাইরেনের আওয়াজ শুনে বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে আবারও আমাকেই ধরতে আসছে নাকি? না না কেন আসবে চার কুড়ি পার হয়ে গেল বন্ধুরা, কমরেডরা সময় করে সব কেটে পড়েছিল ভালো চাকরি, ব্যবসা করতে ঘরসংসারের টানে রেগুলার রাতে সেক্স, দিনভর মেকি ঝগড়া ন্যাকামি আমিই আজও হলদেটে পুরনো বইয়ের পাতায় বদলের স্বপ্ন দেখছি গা গোলায় মাঝে মাঝে নারীর যোনির গন্ধে ঘেন্না হয় এত অন্যায়, তবুও তুমি প্রসূতি? এত শত দর্শনের মাঝে মাঝে ঝরঝরে বাতাস এনে দেয় পিওর ছাগলামির বসন্ত উৎসব আহা! ছাগলারাই আনন্দে আছে পিঠে রং মেখে... আবার সাইরেন বেজে ওঠে হঠাৎ যদি কোন পুরনো লাফড়ার জন্য শালা কেস খাই? হলদেটে বইয়ের পাতায় ঢুকে থাকি...

প্রথম আলো

মনে হয় যুগ যুগ যুগ ধরে কত জন্ম মরে আমি ফেলে এসেছি তোমায়... কালের বন্ধন ছিঁড়ে জীবনের ঋণ জুড়ে আমি খুঁজেছি তোমায়। হৃদয়ে স্পন্দন হয়ে জেগে আছো  না পাওয়ার ছাতিফাটা জ্বালা এ জীবন হেসে খেলে চালিয়েছি তবু আমি একদিন তোমায় ফিরে পাবো বলে... না সে প্রেম ছিল না, মোহ মাত্র বলে কাটিয়ে দিয়েছি সংসারের গারদ ভিজে ন্যাকড়া দিয়ে মুছে পরিস্কার করেছি কারণ এ ছেড়ে আমার ঘর কই? এ ঘরে তুমি নেই প্রিয়তমা প্রথম আলো যেমন নিশাচরের ভাগ্যে নেই  সেই প্রথম আলোর মত তুমিও আমার ভাগ্যে নেই... দুরস্তের সকালে মাঝে মাঝে ওপারের ডাক আসে যেন দেখি সবুজ জঙ্গলের স্বপ্ন আফ্রিকার আদিবাসী হাস্যমুখে আমাকে করে আবার স্বাগত আমার প্রথম মনুষ্য জন্মে এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে এভাবেই মিলিয়ে যাবো অন্য ঠিকানায়।  প্রিয়তমা আমার ভাগ্যে তুমি নেই তাই আমাকে জ্যোতিষী বললেন একাই থাকলাম তাই তোমার প্রতিক্ষায় জানতাম, কিন্তু মানতাম না যা হবার তা হবেই তবু যদি না হয়? একলা মরিতে ভয় নাই আছে কেবল রাশি রাশি হতাশা মহাকাশীয় পরিহাসের পালা সেখানে সময় ততটাই অসহায়, যতটা সময়ের কাছে আমি কোটি কোটি তারা আর লক্ষ লক্ষ সৌরজগতের সীমানায় আমি খুঁজেছি শুধু তোমায় যুগ যুগ যুগ ধ...

নিচুজাত

আমরা মানুষ, তবে ওরা বেশি মানুষ ওরাই সত্যিকারের মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায় আমাদের ঘরকে ওরা বস্তি বলে আমাদের ঘরের সামনে ওরা হেগেমুতে মাটি উর্বর করে দিয়ে যায় সেই উর্বর মাটিতে ফসল কিছুই হয় না আমার ছেলেটা খেতে পায় না আমার মেয়েটাকে বেচে দিল সেদিন যে ক'টা পয়সা দিল,  তাতে দুটো মানুষ এক হপ্তাও দু বেলা নুন ভাত হয় নে কো তারপর আবার মুতে দিল আমরা মাটিতে শুইবসি ওদের মুত এসে মুখে ছিটলো তারপর সেই হেগেমুতে উর্বর করা মাটিতেই ভাত খেলাম রোজই খাই যেমন।  চকচকে কাঁচের মত কিসব যন্তর ওরা টিপতে টিপ্তে যায় ইস্মাটফোন না কি বলে খায় না মাখে, জানি নে কো আমরাও মানুষ, কিন্তু ওরা অনেক বেশি মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায়।  ওদের গৃহদেবতার কল্যাণে ওদের সন্তান থাকে দুধেভাতে আমাদের গরীবের দেবতা নাই ওদের দুধভাত খাওয়া মোটা সন্তানের মুত দিয়ে আমাদের সন্তান থাকে মুতে ভাতে ওদের ভোট হয় বছর বছর ওদের নেতারা আমাদের মুখে মুতে দেওয়ার সুযোগ পায় ভোটের পর আবার মুতে দেয় বছর বছর ফিবছর এই চলে শুধু মুত আর মুত মুতের গন্ধে ভরপুর জীবন একে বেঁচে থাকা বলে না তাই বোধহয় ওরা আমাদের মানুষ মানুষ বললেও ঠিক মন থেকে মানুষ ভাবে ...

দিগগজের মৃত্যুদিন

এক দিগগজের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে বাইরে থেকে সন্দিগ্ধ শবযাত্রীরা এসে বসে আছে তার পুরুষ জন্ম সার্থক অচেনা বাগানের প্রত্যাবর্তিত ঝর্ণায় প্রতিটা গাছ নিয়তি চেনায়।  অমোঘ মৃত্যুর কালো আকাশ ফুটপাথবাসীর গায়ের নোংরা কালো চাদর হয়ে তাজে ঢেকে ফেলেছে আজ অস্বস্তি তো হবেই একটু।  মালি গেছে পরস্ত্রীকে নিয়ে চতুরঙ্গে  ভ্রান্তি মুকুরে কান পেতে বসে আছি আমি প্রেমের ফুল শুঁকছি অন্ধকার শালবন পিঠের কাছে ছায়ামরিচ স্থায়ী ঝাউয়ের ডাকে স্বেচ্ছাচারী হৃদয়পুর কখনও বুকের মাঝে ওঠে মহেঞ্জোদারো  ঠাকুমার আঁচলের খুঁট থেকে মেসোপটোমিয়া ব্যবিলনের বাগান ঝোলে অনন্ত কুয়োর জলে বৃষ্টি নেমেছে সন্ধ্যায় চাঁদকে মনে পড়লো  আনন্দ-ভৈরবীর বাড়ির চাবি আছে?  হলুদবাড়ির সরোজিনী কোনদিনই পাবে না তাকে নীল ভালোবাসায়।  একলা পাখি যেতে যেতে বলে গেল বড় আনন্দের সময় নয় এখন এ নয় আনন্দের সময় জাতীর মৃত্যু চায়, অশিক্ষিতের জাতীয়তাবাদ।  বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে স্বপ্নের মধ্যে তুমি, তোমার হাত ধরে মনুমেন্টে চড়ি আমি  অরণ্যের মেসেঞ্জার  লম্পট ময়ুর মেলে পেখম যেখানে।  পুরনো স্মরণিকা জাগিয়ে রেখেছিলো আমায় একটা বাগানঘ...

তুমি যাও

তুমি যাও তুমি না গেলে আমি পাগল হতে পারব না কবি হতে হবে কবি হওয়ার সব উপাদানই পেয়েছি এই ফালতু জীবনে সময় নষ্ট, দুঃখ, হতাশা, ব্যর্থতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে কাগজের টুকরোর মত নিয়তিকে উড়িয়েছি বাতাসে  যেখানেই গেছি, লাথ খেয়েছি কব্জি ডুবিয়ে  রশি কাটা পালের মত সামুদ্রিক ঝড়ে উথালপাতাল উড়ছে জীবন  কেবল তুমি হাল ধরে আছো শক্ত হাতে তুমি বাদে কেউই নেই আমার কিন্তু তুমি কেন ধরে আছো? তুমি যাও তুমি চলে যাও!  তুমি না গেলে আমি পুরো পাগল হবো কেমন করে? ল্যাংটো হয়ে লোককে ভেঙচি কেটে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরব কেমন করে?  এই সুখের ভণিতা করে সমাজের জঞ্জালকণা হয়ে বেঁচে থাকা আর কতদিন? কার জন্য এই খাঁচা? খাঁচার বাইরে বাজপাখি ছিঁড়ে খাবে যেমন খেয়েছে আমার কমরেডদের বিপ্লব সফল হয়েছে তাদের মৃত্যুতে, আমার জন্য পুঁতিগন্ধময় অবশেষ রয়ে গেছে ভাত খাওয়া আর হাত ধোয়ার একেকটা দিন স্বাভাবিকতার অভিনয় করে যাওয়ার আর সন্ধ্যা রাতে নিয়ন্ত্রিত নেশা করে বাড়ি ফেরার এ কি জীবন?  কেবল ঘড়ির ব্যাটারি শেষ করা কেবল সীজন চেঞ্জ দেখা বছর ফি বছর নতুন দলের ক্ষমতায় আসা আমি আর পারছি না প্রেয়সী, এই শেষ বাঁধন তুমি খুলে নাও তুমি এবার যাও তুমি আমাকে ...

ডালকুত্তার দিনরাত্রি

আরেকটা সূর্য জানালা দিয়ে ছুঁড়ে দিলাম আবার কালকে ফেলবো ডালকুত্তা বালক  লাথি খেয়ে বেড়ায় যে বেশি ভালোবাসা দেখায়, সে পিডোফাইল বোধহয়।  আরেকটা দিন জানালার কাঁচ বেয়ে ঢুকে পড়েছে নির্লজ্জ রকমের বিন্যাস ছোট জীবনে এত গল্প বলবে কি করে? সময় লাগবে হয়ে দেখাতে, যা তুমি হয়েই জন্মেছিলে। 

ডারউইন

কিছু মানুষের দিনগুলো অপেক্ষায় অনাহারে কেটে যায় কেন সবার দিন সমান হয় না? এর পর যদি তাদের বলি জীবনের পরে কোন জীবন নেই তবে? কোথায় তাদের ভগবান? কোথায় তাদের কেউ? আরেকটা চান্সও বলছ পাবে না?  এই সভ্যতার কোন প্রয়োজন নেই কোন প্রয়োজন নেই মেকি সর্বহারার রক্তচোষা সভ্যতার এ সভ্যতা মানব জাতির লজ্জা এ সভ্যতা কেবল অর্থের গোলাম এ সভ্যতা সভ্যতা নয়। 

কৃষ্ণ কর্ণ সংবাদ

এমনই এক বজ্রনিনাদের ভোর রাতে দেবতাদের দিয়েছিলাম দান আমার কবচ কুন্ডল মহাযুদ্ধ তখন শিয়রে  দুপক্ষেই অধর্ম, কিন্তু বিজয়ে ঈশ্বরের পক্ষপাত।  এ সমগ্র সংসার আমার ঋণী  আমার ঋণ মেটাতে পারবে না কখনও আমার মা ঋণী আমার ভগবান  কেবল খলনায়কের কাছে ঋণ আমার তাই তা মেটানোর জন্য তোমাকে ফেরালাম, হে মধুসূদন।  পরিচয় দিয়ে পেলাম দ্রোণের প্রত্যাখ্যান পরিচয় লুকিয়ে পরশুরামের অভিশাপ অনন্ত সূর্যের ন্যায় আবার উঠে দাঁড়ালাম  হে মধুসূদন, কেবল তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম দু-দুবার কারণ বিজয়ে তোমার পক্ষপাত। 

ঈশ্বর চেতনা

ঈশ্বর চেতনা মানুষকে সংস্কারাচ্ছন্ন করে দেয় না, তাকে মুক্ত করে দেয়। সংস্কারের বেড়াজালে পড়ে যে পুজো করছে নিত্যনৈমিত্ত্য বা ৫ বার ঘটা করে নামাজ পড়ছে, তার মধ্যে প্রকৃত ঈশ্বর চেতনা জাগেনি। সে হয় মনে করছে এসব করে তার কিছু বস্তু লাভ হবে বা সে ধর্মভীরু কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তবে নাস্তিক্যবাদ এর সমাধান না। একজন ঘোর নাস্তিকের সাথে একজন ধর্মোন্মাদ ব্যক্তির কোন বিশেষ পার্থক্য নেই। তারা উভয়েই ঈশ্বরের স্বরূপ সম্বন্ধে কোনদিন অবগত হতে পারবে না। তারা কেবল ঈশ্বর আছে না নেই, এই প্রশ্ন করেই সাড়া হবে সারা জীবন। বা ওই ঘটা করে চার বেলা শাঁখ বাজিয়ে ধূপ দিয়ে পুজা করে বা নামাজ সেজদা করে বা "ওইসব ঈশ্বর ফিশ্বর কিছু হয় না" এই তর্ক করেই জীবন শেষ করে ফেলবে। বোধশক্তিহীন মানুষের কাছে ধর্ম একটি বোঝা। হতে পারে সে নাস্তিক অথবা ধর্মোন্মাদ। চেতনার জাগরণ না হলে কিছুতেই কিছু হবে না। নিজেকে জ্ঞানী সবাই মনে করে, কিন্তু কোন মতবিরোধ হলেই অপরপক্ষকে  আক্রমণ করে বা গাধার মত এক কথা বারবার বলতে থাকে। তর্কে যেতে যে ভয় পায়, সে জ্ঞানহীন। তবে যুক্তিপূর্ণ তর্ক। কেবল তর্কের জন্যেই তর্ক করে কোন লাভ নেই।  কিন্তু আমার মতে একজন নাস্তিকের ...

আরেকবার

আরেকবার তোর কাঁধে হাত রেখে চলে যাব কৈশোরের রেকলেস বেলায় হতাশা বিহীন মৃত্যু বর্জিত সেই দিন বিল্ডিং এর ট্যাঙ্কে বসে গাঁজা টানব তুই বলবি তোর নীলাঞ্জনার কথা, কবে কোথায় ওর হাতে ধরে বলেছিলি চলো আমার সাথে সাথে পিছনে ওর পরিবারের কে কোন গুরুগম্ভীর সদস্য তাড়া করেছিল এইসব গল্প শুনব আর জোর করে বিশ্বাস করাবো নিজেকে যাতে একটু উৎসাহ পেয়ে এরকম আরো গল্প বলিস তুই এই সব আর রক এন্ড রোল শুনেই কেটে যাবে স্কুল বাঙ্ক মারা দিনটা তারপর গিটারটা পিঠে নিয়ে আবার বেড়াতে বেরোবো দুজনে সন্ধেবেলা বাজাতে পারি ছাই না, গিটার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটাই আসল। 

আরেকটা সকাল

আরেকটা সকাল ঢুকে এসেছে ভাঙা জানালা দিয়ে অপমান নিত্যসঙ্গী দারিদ্র্য যেন এক নিশ্ছিদ্র প্রাচীর এক দুর্ভেদ্য আঁধার প্রাচুর্যদায়িনী জীবন আবার সব কেড়েও নেয় কামের ফাঁদ। মুখের থেকে গ্রাস ছিনিয়ে নেয় "মা প্রকৃতি" আমি ফুল ফল মৌমাছি দেখতে পাই না কারণ সে প্রিভিলেজপ্রাপ্ত জাতি আমি নই আমি খালি দেখতে জীবন্ত দগ্ধ হওয়া মানুষ ও খাঁচায় জীবন কাটিয়ে দেওয়া প্রাণীদের  আমি দেখতে পাই কেবল সর্বহারাদের যাদের কোন মানসম্মানের ধার ধারে না কেউ আমি খালি রক্তমাংসমাখা ভয়াবহ মৃত্যুগুলো দেখতে পাই যখনই তাকাই আকাশপানে চেয়ে ফিলোসফি ফ্যান্সি করি না তাই প্রেম মানে বুঝি দেহের তাড়না পয়সার কামনা... আরেকটা সকাল এসে ঢুকেছে জানালার ফাঁক দিয়ে নিয়ে উদাসীন জীবন মৃত্যুচেতনার কালো গহ্বর এসে গ্রাস করে অবসর সময় আর ক্ষিদে মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়  মাতা প্রকৃতি কোথায় সে ভগবান? কোথায় আল্লাহ? মসিহা? না এরা কখনো আসে এদের আসার আশা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় যে মূহুর্তে খুলবে জ্ঞানচক্ষু কিছুই দেখতে পাবে না একটা ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপি অন্ধকার আর মৃত্যু.... আরেকটা সকাল...

তুমি আমার নসীবে নেই

আমি লিখতে ভুলে গেছি এখন খালি সমুদ্রের পাড়ে ঢেউ অনুবাদ করি বৃষ্টি বাজাই আর কভু লটারি জেতার স্বপ্ন দেখি।  সবাই পলিটিকাল হয়ে গেছে এই দল না হলে ওই দল আমি সামুদ্রিক বাতাসের টানে ছুটে এসেছি তোমার কাছে।  দিকপালদের যদি মতি ফেরে না কি দিকভ্রান্তরাই সব দিগগজ  শিগগিরই সব পালটে যাবে  সেই আশায় বৃষ্টি বাজাই।  আশা নিয়েই বেঁচে থাকা আশাই বেঁচে থাকা, এ আর কে না জানে প্রিয়তমা আমার হৃদয় জুড়ে আছো তুমি তুমি আমার কিসমত মে নেহি।  তুমি আমার হৃদয় জুড়ে স্বপ্নদুয়ারে মেঘের ভাসানে, ঢাকের তালে যেমন মধুসূদনের জন্য রাধিকা  কিন্তু তুমি আমার নসীবে নেই প্রিয়তমা। একটু দূরে জলসার সুর মিলিয়ে যাচ্ছে আমি ভেসে ভেসে যাচ্ছি সমুদ্রের কাছে ঢেউয়ের গান শুনব বলে আমি সঙ্গ দেব, বৃষ্টি বাজিয়ে।  আজকে কারা যেন চাঁদে পা রাখবে কত কিছু দেখা বাকি এ পৃথিবীর  বাইরের দিকে নজর দেওয়া উচিৎ না নাকি এ ধরা বর্জ্য?  ত্যাগের বিনিময়।  ছোত্ত বেড়ালি এসেছে একটু খেতে আদর ছাড়া কিছুই নেই এখন সিগারেট খাবি বিল্লি? আয় বোছ বোছ! তোকে ইস্তানবুলের স্বপ্ন দেখাই... মিথ্যা পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে শান্তি খুঁজে পাওয়া বড়ই...

অন্ধকারের ক্যানভাসে

অন্ধকারের ক্যানভাসে ভীতি রাক্ষস খোক্কস আঁকে। যতই বোঝাই, ভয়ের কারণে ভূত, ভূতের কারণে ভয় না, কোথাও একটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।  এই যে এত বড় ব্রহ্মাণ্ড, এত মাত্রা বা ডিমেনশন, না শুরু না শেষ - আমরা কি একটু বেশিই র‍্যাশনাল হয়ে যাচ্ছি না?  সত্যিই কি এতই সহজে ২ আর ২ এ ৪?  এতগুলো লোকের চিন্তাভাবনা সব জল্পনা?  আবার ভাবি, হ্যাঁ অবশ্যই তাই!  ২ আর ২ এ ৪ নয় তো কি?  আসলে ভয় একটা ইন্সটিংক্ট, একটা নেসেসিটি।  যেমন রাগ, আনন্দ, অভিমান ইত্যাদি ইত্যাদি। ন্যাকামি ইত্যাদি।  ভয় আসলে মনের সাথে সাথে শরীরেরও খাবার, এই যেমন খিদে আর সেক্স।  মানে ভয়ে মনে আলোড়ন আর শরীর ঠান্ডা, ভারী। খিদে পেলে যেমন খেতে ইচ্ছে করে বা লালা পড়ে পশুদের বা পেট কামড়ায়।  তেমনি ভয় পেতে ইচ্ছে হলে লোকে ভয় পায় আর ভয় পেলে ভূতপ্রেত এসব দেখে বা ভাবে।  সেক্স জাগলে যেমন লিঙ্গ উত্থিত হয় - কিন্তু কেউ কি জানে এই সেক্স জিনিসটা আসে কোথা থেকে? মনের অন্তঃস্থল থেকে?  কিউপিড বা এরস (Eros) বা কামদেব ইত্যাদি  অজাগতিক প্রাণীদের এর জন্য দায়ী করা হয়, কিন্তু এরা কি কোন রক্তমাংসের জীব না অ্যাবস্ট্র‍্য...

আমাকে ভুলিয়া যাইয়ো

অন্ধকারে আসিয়াছি অন্ধকারে চলিয়া যাইব কেহ খবর রাখে নাই কারো খবর আমি রাখি নাই।  ঘুমন্ত পুরীতে আমার রূপকথার অস্তিত্ব মুছিয়া ফেলিতে মূহুর্তও লাগিবে না পাতা উল্টিয়া বই বন্ধ করিয়া আমাকে ভুলিয়া যাইয়ো। 

সাদাকালো নির্বাক ছায়াছবি

অতীতটা কেমন যেন হাই-ডেফিনিশন না ধূলো ধুলো বালি বালি যেন অ্যাপারচার আছে লেন্স নেই সোজা একটা ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে দূরে দেখা একটা সমুদ্র সৈকতে বাবা-মা আর ছেলে ৮০র দশকের পোষাক আশাক চশমা যেন সামনেই আছে অথচ ধরা যাচ্ছে না সত্যি হলেও গল্প, আছে অথচ নাও হতে পারে।  আদৌ যা ভাবছি, তা কি হয়েছিল? অতীতটা সব সময়ই সাদা কালো কারণ আলোর গতি একমুখী সে ফিরে দেখে না।  জীবন মানে কার্বন দেহ ধীরে ধীরে পুড়িয়ে চলা একটু ছেঁকা লাগলেই কত কত বিভীষিকাময় দৃশ্য ভেসে ওঠে ঈশ্বর থাকাটা তখন ভীষণ জরুরী নাস্তিক মশাই "কিন্তু সত্যি আছে কি?"

মাথার ছাদে

মাথার ছাদে হাঁটাহাঁটি করে কৈশোরের অদম্য স্বপ্নগুলো কিছুতেই মরবে না, ঘুণে ধরা কাঠে আরও জল ঢালি তুমি বুঝলে না তুমি আসলে না দিগন্তে পড়ে আছে সেই জেগে দেখা অবাস্তবতা ভুলতে পারবে না, গলা অবধি মদ গিলে চোখের জল ফেলি না সে আমি না তুমি বুঝলে না।  সৃজনশীলতা ভালোবাসার কাঙ্খি  রাতভোর আমি স্বপ্ন তাড়া করি রাতের পর রাত তুমি আসলে না একে একে সবই বেকার হয়ে যায় কারো কারো জীবনে সবাই লড়লেই জেতে না কেউ কেউ বেনামে মরে তাই তুমি আসলে না।  আমার মরা এর শেষ না, বারবার আমি আসি ফিরে জন্ম জন্মাতরে,  অনেক অনেক জীবনে মৃত্যু আমাকে ভোলাতে পারেনি তোমাকে তুমি বুঝলে না।  প্রেমের পর যে জীবন আছে সে জীবনে পূর্বরাগের আশাবাদ নেই আছে কতগুলো বেঁচে থাকার টোটকা মাংস কেটে খাওয়ার জীবন।  বারবার আমি আসি তবু ফিরে কিশোরদের অলিক স্বপ্নকে ঘিরে কিশোরীর মুগ্ধতার পরশ জুড়ে বারবার আমি আসি ফিরে।

রদ্দি প্রেমের কাব্য

এসেছে বসন্ত, চিলেকোঠার সিনেমায় ধূর্ত শৃগাল গলা পাতে আঙিনায়  আমিও ঘরে ঘরে থাকি অক্ষর গুনে  আমাকে পটালে তবেই আকাশ পাবে।  রঙ পানি থেকে বেশি বের হবো না গ্রীষ্মের পোড়া শুকোয়নি এখনও যে যায় ঘাটে সেইই ডোবে, তবে কেউ জলে নেমে শুদ্ধ হয় না কখনো।  তোমারও রদ্দি আমারও রদ্দি কথা কথায় কথায় আক্রমণ হতে থাকে  কেউ যায়নি যেখানে সেখানে যাও যদি ধরাকে পটালে তবেই চাঁদ পাবে।  কি হবে সোজা কথা সোজাভাবে বলে? বরং কিছু না বলাই থাক,  না বলার আফসোসটা রবে বসন্ত নিঃশব্দেই যাক।  এ আমার প্রেমের কাব্য  শান্ত নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ঢেউ গোনার গান এ দেহ তুমি করবে না গ্রাহ্য অম্লান রাত্রিটুকুই তব দান। 

সরীসৃপ

মাথার ভেতরে টিকটিকিটা দিন দিন বড় হচ্ছে ঠান্ডা দুটো অপলক চোখে পোকা খুঁজছে হাড় হিম করে স্রোতের মত সে নেমে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে অস্ত্র দেখেছি, ভয় পেয়েছি, জন্মেছি বাঙালি হয়ে। ভীতির মত গিরগিটিটাও রঙ বদলায় দীর্ঘ জিহ্বা, চোখ দিয়ে সে রক্ত খায় ভয়ে চিৎকারিলে সে ছুটে আসিবে,  শিরদাঁড়া বেয়ে হিমের স্রোত বয়ে যায়। পবিত্র পাহাড়ে উঠিয়া দেখি সেইখানে পড়ে আছে পরিচয়খানী যযার লাগি হাতের ঠাকুর পা'য়ে ঠেলি ১০০০ বছরের গোলামী, এ জাহিলতা মনে নিবেন না প্রভু অন্যায়কারীর ধর্ম হয় না, বাঙালি না হলে কভু। 

হারের পরের সকাল

রাতভোর হতেই মনে পড়ে যায় কি ভুলতে ঘুম কিন্তু জাগার পরেই আবার আকাশ কালো করে নেমে আসে একরাশ হতাশা মনে হয় সত্যি হয়েছিল নাকি দুঃস্বপ্ন? ধরো যদি সময়ে ফিরে যাওয়া যেত ভুলগুলো জেনে সেগুলো করার আগেই শুধরে নেওয়া যেত? হারের পরের সকাল খবরের কাগজে নির্মম ব্যাখ্যা দিয়েছে পন্ডিতরা আশ্চর্য! যা ভুলতে চেয়ে ঘুমিয়ে পড়া ঘুম থেকে উঠতেই তা শতবার মনে করিয়ে দেওয়া তোমার ব্যর্থতায় হেসেছিলাম আমরা আমাদের ব্যর্থতায় হাসছো তোমরা অথচ হয়তো লড়াইটা একসাথে লড়ার কথা এক অন্য সময়ে, অন্য ইতিহাসে... কোন প্রিয়জনের মৃত্যুর মত যাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না  হারের পরের সকাল সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায় কেবল ঝমঝমিয়ে নেমে আসে একরাশ হতাশা। 

খিদে

একটা টিকটিকি দিনভর হেঁটে বেড়ায় ঘরময় ঠান্ডা ক্ষুধার্ত সম্পূর্ণ একা দুটো মুখোমুখি আয়নার মাঝে অসীম প্রতিফলনের মত একাকিত্ব। টিকটিকিটা ডেকে উঠল হঠাৎ জানে কেউ নেই তবুও ডাকল আমি তাকালাম দুটো আয়না একে অপরের প্রতিবিম্ব দেখছে...

চিরশৈশব

গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ঝরা পাতার মধ্যে ছড়িয়ে আছি আমি এখানে এই বনে চিরকাল ধরে বেঁচে আছি মানুষের গল্পে গাথায়  বিজয়ী বীরের গায়ে ছোঁড়া ফুলের মধ্যে আছি আমি মৃত্যু নেই সময়ের কোন ক্ষতি নেই চিকন কচি সবুজ বনে সোনার সূর্যালোকে এলভস আর পরীদের সাথে চিরনিবাস চলে এসো শিশুকাল হয়ে বার্ধক্য যৌবন জরা কোন কিছুর সংঘাত নেই এখানে  চলে এসো চিরশৈশবে এলভস আর পরীদের মাঝে ড্রাগনের গুহায় যাব আমরা সেই গুপ্তধনের খোঁজে।  এখানে নেই কোন রক্তপাত  কেবল ফুল সবুজ প্রজাপতির ডানা আর আছে ম্যাজিক সাদা দাড়িওয়ালা উইজার্ড এর ছড়িতে বরফের পর্বতে আমি আছি।  এলভস আর পরীদের মাঝে  ডোয়ার্ফরাও ডাকছে তোমায় চিজ দিয়ে পাউরুটি খাওয়াতে।  ঘোড়ায় চড়ে আসব ঈগলের পিঠে চড়ে এখানে এই বনে আমি চিরকাল ধরে বেঁচে আছি। 

জাতীয়তাবাদ

জাতীয়তাবাদ উপচে উঠছে একটি ছুটির দিনে সবাই হবে দেশভক্ত তেরঙা পতাকা তুলে! মোদিপ্রেমই দেশপ্রেম শাসক দলের ফতোয়া অন্ধভক্ত না হলেই তুমি “মোল্লা যবন কাটোয়া”!   জাতীয়তাবাদ উপচে উঠছে আর একটু প্রাদেশিকতা অন্ধভক্ত না হলেই করছো দেশবিরোধিতা! কাংলু মাল্লু চিঙ্কি যবন সবার ঘাঁটবে পিন্ডি রাষ্ট্র ভাষা না হলেও বলতে হবেই হিন্দি!   শাসকপ্রেমই দেশপ্রেম, জয় জয় বলো সবে দেশভক্তি হোলসেল, পতাকা তুললেই হবে! ঢপ দেবে আর ভোট নেবে, মুরগী জনতা যদি না হোস মোদিপ্রেমী, পাকিস্তান চলে যা! August, 2019

বাস্তব ২

বাস্তব বড়ই বল্মিক যা দেখছি তা আদৌ ঘটছে না শুনি "চোখ বন্ধ করো, মুখে আঙুল দাও, নাক বন্ধ করে নাও পরিস্কার করতে কে বলেছে? জানো না ফিনাইল কত বিষাক্ত!"

বাস্তব ১

বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকি সবসময় বাস্তব মানে গাড়ি, বাড়ি প্রতিবেশীদের সাথে ব্যাডমিন্টন শীতের পিকনিক কত কি না করার আছে বাস্তবে মানুষ অনেক গল্প করে অনেকটাই শোনার দরকার নেই তবুও কারণ তারা বাস্তববাদী স্মল টক্ সৌজন্য বিনিময় ফাঁপা কতগুলো আওয়াজ বেরোয় গলা দিয়ে  অর্থহীন শব্দের মাঝে হারিয়ে যায় কবিতা বাস্তবে পোস্ট, possession দিখাওয়ে কা হ্যায় দুনিয়া হাওয়া ভরা ব্যস্ততা দিখানে কা তাড়াহুড়োর rat race কে বেশি ব্যস্ততা দেখাতে পারে "অবশ্য মাল কামাতে গেলে তো হেডএক নিতেই হবে বস!" সবই বল্মিক বাস্তবে।

বালির রাজপ্রাসাদ

সমুদ্রের ডেউয়ের মত মেঘগুলো ছুটে আসছিল মাটি থেকে কাশ জুঁই লিলি ভাসছিল বাতাসে আমি শুয়েছিলাম তোমারই কোলে ফিরে আসবো বলেছিলাম তুমি বলেছিলে... না তুমি কিছু বলনি কারণ তুমি আদৌ নেই তুমি নেই তাই তুমি কিছুই বলনি।  সমুদ্রের ডেউয়ের মত সাদা তুলো মেঘগুলো দূরে মেষ পালকরা শিশুরা ফুলের পাপড়ি উড়ছিল বাতাসে আমি শুয়েছিলাম তোমারই পাশে জন্ম জন্মান্তরে তোমাকেই চেয়েছিলাম‌ শুধু তোমাকেই চেয়েছিলাম  ঈশ্বরের করুণাহীন এ জীবনে শুধু তোমার জন্যই কেঁদেছিলাম  নিশিরাতে কিন্তু তুমি আদৌ নেই তাই তোমার মন গলেনি তাতে।  বিপ্লবে ছুটে যেতে চেয়েছে মন তাদের সাথে, যাদের মানুষসমাজ অপমান করেছিল কারণ তারা বেড়াজাল মানেনি বলে জোয়ান অফ আর্ক থেকে মারটিন লুথার আগুনে, রক্তে লেখা সত্যি মানুষের ইতিহাস না ঘরের গরু আমি হবো না কখনও তাই তোমাকে পাবো না কখনও হলেও পেতাম না কারণ তুমি নেই তুমি বলেই কিছু নেই তাই আদৌ পেতাম না তোমাকে আমি। কবিতার খাতা খুলে বসেছি যখনই প্রেমের কবিতা লিখবো বলে দুষ্টু মিষ্টি চোখের সামনে ভেসে উঠেছে পথশিশুদের মুখ ভিক্ষের বাটি হাতে কোন কোন দিন সারাদিনের উপার্জন একটা আইসক্রিম খেয়ে দেখবে বলে আইস্ক্রিমওয়ালা ১০ টাক...

বাঙালিস্বভাবে

যতবারই কিছু করতে চেয়েছে মন ভিতর থেকে কেউ বলে উঠেছে একজন "কি দরকার, অন্য কেউ করবে ওসব করতে যেও না, বেফালতু মরবে।" বাঙালি স্বভাবে তৎক্ষণাৎ দিয়েছি সাড়া সেই অকর্মণ্যতার অভিভাবনে কিছু না করলে কেউ খুঁত ধরবে না অন্যকে সমালোচনা করব প্রাণ খুলে।  নন্দন চত্বরে কোটেশন ঝেড়ে মেয়ে পটিয়েছি চাকরি না পেলে সরকারকে খিস্তি মেরে দেব ক্ষণ সিগারেট, গুটখা, থুতু, হিসুতে রাস্তায় রাঙিয়েছি অন্যকে বলেছি নোংরা দেশের অসভ্য জনগণ। 

বাইরের লোক ভিতরের লোক

বাইরেটা আজকে ভিতরে চলে এসেছে কিন্তু ভেতরটা বাইরে যাচ্ছে না এলাকাটা প্রশস্ত হয়েছে বাইরের দেওয়ালটা ঘরের দেওয়াল হয়ে গেছে বাইরের গাছগুলো ঘরের মধ্যে ঢুকে এসেছে।  বাইরের লোকগুলো সব ভেতরে ঢুকে পড়ছে কিন্তু ভেতরের লোকটাকে কিছুতেই বাইরে আনা যাচ্ছে সে ঠেসে দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে বসে আছে বাইরের লোকেদের ভয়ে বা লজ্জায় বা ঘেন্নায়।  বাইরের হাওয়াগুলো অনেক দিক্বিদিক নির্দেশ করে রেখেছে ভেতরের হাওয়া বাইরে গিয়ে যাতে দিক পাল্টাতে না পারে অনেক প্রথা অনেক ধাঁচ লিখে রেখেছে তা থেকে বেরোতে গেলেই দূষিত তকমা সেঁটে ভেতরের হাওয়াটাকে নাক চেপে রুমাল মেরে বর্জন করে দেবে।  ভেতর থেকে বাইরে সব দেখা যাচ্ছে কিন্তু বাইরে থেকে কিছুই অাঁচ পাচ্ছি না কারণ ভেতরটা অন্ধকার জমজমাট কারুর দেখার ইচ্ছেও নেই আলো জ্বালাচ্ছি, পিদিমের তড়িৎশিখার  আলোটা একটু এসে পড়ছে ভেতরে আবছা একটা প্রতিকৃতি দেখে অনেকে অনেক কিছুই ভেবে নিচ্ছে কেউ বলছে ভূত কেউ বলছে চোর কেউ বলছে চোখের ভুল, আসলে কিসুই নেই। 

বর্তমান হিন্দু মুসলিম সমস্যা

গগন কে খুন করে আলি পালিয়ে গেল বদলে আসিফ কে মেরে ফেললো রোহিত দুজন নিরপরাধের মৃত্যুতে দুজন খুনির জন্ম হল। 

জাস্টিস

আমাকে যে খুন করেছিল আমিও তাকে খুন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আইন নিজেই তাকে খুন করল জাস্টিস মানে দুটো খুন।

ঢাক

বলতে শেখো না বললে অন্য কেউ নিজের মত করে বলে দেবে শুন্যস্থান থাকলে যে কেউ পূরণ করে দেবে।

বাঁশদ্রোণী

দিন গুনে দেখছি মাস আগে না বছর আগে আমি আগে শেষ হই না কি টাকা ভালো লাগে না চেনা লোকের ভিড় আরেকটু একাকীত্ব চাই এমন একটা জায়গায় গিয়ে উঠব যেখানে আমাকে কেউ চেনে না চিনতে চায় না যেখানে অচেনা মানুষেরা নাম জানাজানি করে না চায়ের দোকানে, তেলেভাজার দোকানে বসে আলোচনা করে শহরে রাতের অন্ধকারে খুন হচ্ছে নক্সালদের? কে জানে তবে খুব মুখরোচক আলোচনা সাথে চা তেলেভাজা মাথায় বৃষ্টি হাতে ছাতা ঘনঘোর অন্ধেরা একটু ভয়ে ভয়ে পা পিছলে সামলাতে সামলাতে চির অন্ধকার বাঁশদ্রোনির একটা স্যাঁতসেঁতে ওয়ান রুম ফ্ল্যাটে এসে উঠব ছোট্ট আর কোজি আমার মত একাকীত্ববাদীদের জন্য অাদর্শ চার তলার উপরে দুদিকে জলে ডোবা মাঠ দেখা যায় পুরনো গাছ লতা অদূরে লাগোয়া পোড়ো বাড়ি না ভূত ফুত নেই অবশ্য আছে ভেবে নিলে মন্দ হয় না বেরোবার দ্বিতীয় কোন রাস্তা নেই দাঙ্গা লাগলে? একটু ভয়, একটু নৈঃশব্দ্য রোজ বৃষ্টি, খোলা চিরমেঘলা আকাশ  দিনগুলো গুনে গুনে চলব হয় আমি শেষ হব আগে না হলে টাকা। 

ফসিল

হাজার হাজার সাঁজবাতির বছর ধরে একই পথে হাঁটছি  হাজার হাজার ধূ ধূ গ্রিস্মের দুপুর জুড়ে একই কতগুলো মুখ দেখছি  পথও শেষ হচ্ছে না  মানুষও ফুরোচ্ছে না  কেবল আমি পাল্টে যাচ্ছি আর ফুরিয়ে যাচ্ছে কবিতা।    একঘেয়ে বড় ইতিহাস কেউ শেখেনা, বারবার তাই একই পরিণতি না দরকার নেই কোন সম্রাট কোন সুপ্রিম লিডার কেউ পারবে না অক্ষত থাকতে ধুলো কেবল ধুলো ওড়ে, হাজার হাজার বছর ধরে মিশর থেকে মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু থেকে চায়না হাজার হাজার বছরের অস্থি কয়লা আর ধুলো মাটির বুক থেকে ওড়ে হাহাকার বেরোয় কিন্তু এ হাহাকারের কোন মানে হয় না আবার পথ চলা শুরু হয় আবার নতুন মানুষ জন্মায় শুধু ফুরিয়ে যায় কবিতা আর মানুষের কথা...

প্রান্তিক পুরাণ ২

"মোদের কোন দ্যাশ নাই, মোদের কোন দিশা নাই!" আমাদের কথাও কি লোকে বলবে কোনদিন? আমাদের গল্প পড়বে বাচ্চারা কিতাবে কাহানীতে?  আমরা যে হাসতাম, নেশাভাঙ করে গান গাইতাম বাওয়াল করতাম, বাজনা বাজাতাম, ফসল ফলাতাম, সেই ঘোলা নদীর তীরে  পলিমাটিতে আমাদের পায়ের ছাপ, আমাদের ঘামের ঘ্রাণ আমাদের চাপ চাপ রক্তে লেখা রাষ্ট্রবাদ!  না, আমাদের কোন পতাকা নেই নেই কোন রাষ্ট্রগান ইতিহাসও মুছে দেবে আমাদের রক্তে লেখা রাষ্ট্রবিরোধিতার বীরগাথা  আমরা যে ছিলাম তার প্রমাণ কেবল সময় আমরা যে আছি তার প্রমাণ আমাদের অভ্যুত্থান মুক্ত প্রকৃতির লড়াই না রাজা তোমাকে ভগবান মানিনি, মানবো না কখনো কাউকে মানবো না প্রভু ইসলাম যবে এসেছিল, বলেছিলাম কভু "লা ইলাহা ইল আল্লাহ" রাজার অহংকার মানবো না তবু সেই আমবাগান, বাঁশবনের মাঝে আমাদের ছোট ছোট কুটিরগুলো অপটু এক শিল্পীর ছবির মত একটু এলোমেলো অগোছালো বিকেন্দ্রীভূত সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি আজও  ন্যাংটো, ন্যাংলা, হাদামুখ, মুখে লাগিয়ে আম খাওয়া গড়িয়ে রস পড়ে গায়ে, ঘাসবিচুলি শুকনো পাতার খসখসানিতে শুয়ে পড়া আকাশের নিচে, কোন বইয়ের বাঁধা জীবন না নৌকার ডালার ঢেউয়ের মত মৃদু উত্তালতা গাছ থেকে ...

প্রান্তিক পুরাণ ১

রথ আগে বাড়াও সারথি ঘুম পুরনো হয়ে গেছে হাজার একটা প্রতিশ্রুতি আর অভিশাপ সন্তাপ মহারথীদের জন্য অনুকম্পা অনেক শুনলাম এবার বলো সাধারণ সৈনিকদের কথা যারা ভেড়া ছাগলের ন্যায় মরল নামহীন বিরামহীন  যাদের লাশের অন্তিম শ্রদ্ধা জানালো মাছি আর শকুন না হে না,  আমি মহাকাব্য লিখিনি কখনো আমি বীরগাথাও লিখবো না আমি নামহীন সরণির সৈনিকদের গান গাই বোকাবোকা চালাকচালাক কেউ স্ট্যান্ডার্ড বেঁধে দেয়নি যাদের।  আমার বিশেষণ জমিয়ে কাজ নেই শুনিও না গান্ডিবেত টংকার কৃষ্ণের শঙ্খের নিনাদ আমাকে বলো সেই ঘোড়াটার কথা মানুষের যুদ্ধে যার মৃত্যু হলো কেউ ভাবলোও না যার কথা।  অনেক শুনেছি রাম রাবণ ইলিয়াড এর আকিলিস আর হেক্টর কর্ণের বীরগাথা, সেও তো কক হলো না এবার আমাকে বলো তাদের কথা  যারা কিছু না বলেই কারো চোখের জল না ফেলিয়েই চলে গেল... আমাকে বলো পিঁপড়েদের কথা  তাদের ভগবানদের কথা আমাকে বলো সেই ঘোড়াটার কথা  মানুষের যুদ্ধে যে মারা গেল শেষবেলায় এক ফোঁটা জলও পেল না মুখে।  প্রান্তিক পুরাণ ২ আমায় বলো সেইসব প্রান্তিক মানুষদের কথা যাদের জমি কেড়ে নেওয়া হল যাদের নিজভূমি থেকে নির্বাসিত করা হল তাই নিয়ে মিডিয়...

প্রকৃতির সৌন্দর্য আমি দেখতে পাই না

রাহেল তুমি সুখস্বপ্ন দেখছো সারাদিন কি খালি স্বপ্ন দেখো তুমি? খালি সুখ আর সুখের স্বপ্ন? তাই হঠাৎ করে কাশবনে?  কাশফুল নিয়ে রোম্যান্স? তুমি জুই টগর গোলাপ কৃষ্ণচূড়ার গন্ধে ভেসে বেড়াও প্রজাপতিদের সাথে অথচ ওই বিশাল সাতরঙা ডানাওয়ালা প্রজাপতিটাকে যে এই মুহুর্তে একটা গিরগিটি গপাৎ করে গিলে ফেললো সেটা তুমি দেখতে পেলে না? প্রজাপতিটার পুরো শরীর দুমড়ে ডানা মুচড়ে পড়ে আছে গিরগিটিটার মুখে আস্ত হজম হচ্ছে রাহেল? কি হলো এবার?  জলে নামলে কেন? উফফ জলকেলি অন্তহীন ন্যাকামির জয়জয়কার দুনিয়াময়  নৌকায় চড়ে মাছ ধরবে প্রেমিকের কাঁধে মাথা রেখে অথচ তোমার বঁড়শির হুকে মুখ গেঁথে মাছটা ছটফট করছে জল থেকে বেরিয়ে সেটা তুমি দেখতে পাচ্ছ না? শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ছটফট করে মারা যাচ্ছে মাছটা ভেজে কাসুন্দি দিয়ে খাবে না কি ভাত দিয়ে ডাল দিয়ে? ওহো তোমার তো "ফিলে" চাই মাছ ভাজা না ফিস ফ্রাই এই নাও তেল কড়াই... রাহেল! তুমি পাখি পুষেছো? আহা, খাসা গান গায় ছোট্ট পাখিটা তোমার সোনামনা পাখি কিন্তু তুমি কি জানো সে কেন গান গায়?  সে গান গায় কারণ সে জানে সে আর কোনদিন উড়বে না বাকি জীবনটা সে কাটিয়ে দেবে তোমার ভালোলাগার জন্য খাঁচার ভিতর, ...

পৃথিবী একটা পাথর

পৃথিবী একটা পাথর তার গায়ে লেগে থাকা শ্যাওলার মত জীবন জীবাণু-বীজাণু একটা অন্ধকার বিস্তীর্ণ মহাকাশে জীবনস্পন্দনের মত তারার আলো টুইংকেল টুইংকেল এসব কিছুই আমাদের বুঝে লাভ নেই ভাবনা ভাবার জন্য কেবল ভাবার জন্য।  জীবন পারফেক্ট না অনেক অনেক ভুল আর অনাসৃষ্টি প্রতিনিয়ত কত কত ভুল দেখি প্রকৃতির মৃত্যুচেতনা গ্রাস করে প্রতিনিয়ত ঈশ্বরতত্ত্ব যদি না থাকত কি হত এই চেতনার?  ঈশ্বরের আশায় বাঁচা এক একাকী অন্ধকার মহাবিশ্বে যত দূর চোখ যায়, অন্ধকার একাকীত্ব মাঝে মোজাইকের মত আলোকছটা গ্রহ উপগ্রহ নক্ষত্র গ্যাসের বলয় বিজ্ঞান নাম দিয়েছে সবার আমি দেখি নিজেকে সেই কালো মহাকাশের সাথে এক আমি দেখছি পৃথিবীর আলোকময় জীবনের খেলা অন্য গ্রহে প্রাণের পরিকল্পনা ভীনগ্রহী এলিয়েন নিয়ে জল্পনা স্পেসশিপ করে গ্যালাক্সি পেরিয়ে যায় মানুষের কল্পনা স্পেস মিউজিক বাজে আমি দেখছি সেই সব কিছু মৃত না, মৃত্যু হয়ে এক কালো মহাকাশের কালোয় এক হয়ে টুইংকেল টুইংকেল লিটিল স্টার শুধুই শুধুই অন্ধকার বুরবাক মানুষের ঢল আলো আঁকছে লাইট জ্বালাচ্ছে ঈশ্বর আল্লাহ করছে হাহা হিহি মদ মাতাল মেয়েদের হ্যাঁদামি চলছে সব অজ্ঞানতা মানুষকে মুক্ত রাখে জ্ঞান না। ...

পূণর্জন্ম

৮৪ লক্ষ জন্মের অার্তনাদ নিয়ে আজ এখানে ৮৪ লক্ষ জন্মের অপূর্ণতা ৮৪ লক্ষ হিংস্র বীভৎসতা দামিনী, তোমার বানানো নামটা আবার মনে পড়িয়ে দিল... নারকীয় যন্ত্রণা। এ সংসার হতে মুক্তির আশা বড়ই ক্ষীণ আবারও আসতে হবে ফিরে হিংস্র বীভৎসতার তীরে মায়ার জীব শরীরে। এ শরীর কারো নয় বারবার পাল্টে যায় আজ যার মধ্যে দিয়ে বাড়ছি কাল তার কোনো চিহ্নই থাকবে না পঞ্চভূতে বিলীন আত্মা অমলিন সে তো কবেকার গল্পকথা লক্ষ লক্ষ জন্মের গাথা, খাদ্য শৃঙখল থেকে মুক্তির সংগ্রাম। ঈশ্বরবাদ, ডারউইন বিশ্বাস অবিশ্বাস তর্ক নয় মুক্তি চাই এই রক্তমাংস নিয়ে টানা ছেঁড়া করা পৃথিবীর জীবদের থেকে... মুক্তিও নাকি পাওয়া সম্ভব তবে যে মুক্ত হয় সে কি ফিরে আসে পথ বলতে? মুক্তিও আপেক্ষিক জন্ম-মৃত্যুর শৃঙ্খল অচ্ছেদ্য বারবার আসতে হবে ফিরে হিংস্র বীভৎসতার তীরে।

পালকি

পালকি করে বউ যাচ্ছিল জঙ্গল দিয়ে ডাকাতের তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় আর রোমাঞ্চ  ডাকাতে তাকে নিয়ে গেলে কেমন হয়? সদ্যযুবতী ভাবছিল এই বয়সে এমনটা হয় সে বলল।  লাল পিঁপড়েরা হাড় বিছিয়ে দিয়ে গেল এ কি সংসারের গল্প আবার কেন?  সেই রোজনামচা ঢেউয়ের ফেনা,  নোংরা গেলা আর উগড়ে দেওয়া  সমুদ্রের মত জীবন  কিন্তু বিস্তার সামান্য পর্বত ভাবে সেই সর্বজ্ঞ।  কি হত রে মেয়ে তোর,  ডাকাতটা যদি তুলে নিয়ে যেত? কি করত তোকে? রোজ আঁশবটির ডগায় ঠোঁট রেখে তিল চুলকাতে হত না হয়তো কেবাজানে? পন্ডিত এসেছে, ঘন্টা নাড়ছে জল-বাতাসা দে গে আউলের সাথে বাউল লিখে ছন্দ মিলাবে সে শাস্ত্র মানতে হবে নাহলে সগগে যাবি ক্যামনা?  মাথায় কাপড় তোল, পায়রার খোপে গিয়ে বকবকম করগা।  তুই কি ঘোড়ায় চড়া রাজকুমার চাইতি? বই আর বাস্তব তোর গুলিয়ে গেছে ঘোড়ায় চড়া ডাকাত পাবি তুলে নিয়ে গিয়ে কি করে দেবে... মুখে বলতে পারবি না ইশ!  লজ্জা কি, মৃদু হেসে ঘোমটা টানলি।  সবাই মিলে নিত তোরে তখন কি করতি?  অবশ্যি এখনও দিস তাই,  প্রতিবেশিনীর হিংসুক রান্নাঘরে খাবার গরম রাতে বিছানা তাও কি?  তার চেয়ে বরং মেয়ে তুই পা...

পচা সংস্কৃতি

চায়ের দোকানে বসে যে কেরানিরা নীতিজ্ঞান দেয় তাদেরই অবৈধ সন্তান তোরা তোদের গা থেকে পবিত্রতার পচা গন্ধ ছাড়ে।  সুবিমল সুকুমার সুবাসিনী  সু এর নিচ দিয়ে কড়কড়ে গান্ধী  পদবীর অহংকার, না দেখালেও বেরিয়ে আসে নিউজ ডিবেটে গিয়ে দলিতদের কথা বলে নাম কামায় বিজেপি কংগ্রেস করে চ্যানেল টি আর পি খায় সবাই চেল্লায় যত চেঁচাবি তত টি আর পি  চেল্লা পাগলা চেল্লা  নিজেকে ভালো প্রমাণ করারই খেলা দালালেরই দুনিয়ায়।  খবর না থাকলে খবর বানাতে হয় দরকারে চুল্লুর ঠেকে তাই খুবই প্রাঞ্জল জটিলতা, কথায় দুনিয়া মেরে দেওয়া যায়।  বৃষ্টি, খিস্তি আর ব্রা-প্যান্টি মাঝেমাঝে রবীন্দ্রনাথ উফফফ!!  বৌদির বুক পাছায় হলো না, রবীন্দ্রগান সেভিয়ার তাই প্রত্যেকটা বাক্য আধা বাংলা আধা ইংলিশ  হল-এ ধর্ষক... দূর ছাই, দর্শক আসবে না আমার সেক্স সিনও চাই, U/A ও চাই  খোকার পাশে বসে দুপুর ঠাকুরপো দেখে খিঁচতে চায় সব আধুনিকা বাবা মা'ই  পানুর পৃথিবী জুড়ে, পানুই মহান এ জগৎ পরে। সতিপানার বুলি দেওয়ায় ওস্তাদ কাকিমারা পাশের বাড়ির কাকুরা আসে যাদের দুপুরবেলায় বিয়ে করে, সোনার খাঁচায় মুক্তি খুঁজে নেওয়ার জ্ঞান দেয়।...

নতুন শব্দ

নতুন নতুন শব্দ খুঁজে বেড়াই সাধারণ গল্পটা অসাধারণ করে বলব তাই না স্বপ্ন নিয়ে না, প্রেম নিয়ে না আমি হারিয়ে যাওয়া রূপকথার গান গাই।  সাফল্য নাই কবিতা তাই  আমি পরাজিতের আখ্যান শোনাই।  এ পৃথিবীতে নতুন কিছু নাই শব্দের মায়াজালে পুরাতনকে নতুন করে বোঝা সব জেনেও ভুলে কাটিয়ে দেওয়া দেহ বুড়িয়ে, এগিয়ে চলা কেবল অনন্তের পথে,  অন্তহীন এগিয়ে চলা।  নতুন নতুন গল্প ফেঁদে বেড়াই বাচ্চাদের ভুলিয়ে রাখব বলে নতুন জীবন, সবই সুন্দর ভূতের গল্প, রহস্য-রোমাঞ্চ আমার চলার পাথেয় সেই মিথ্যাই সুন্দর কিছু মিথ্যাই।  এ জগতে নতুন কিছু নাই কেবল বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলাই জীবন অতি সহজ সত্যটা বলে দিলে আর কি বা থাকবে পড়ে তাই প্রেমের কবিতা, যুদ্ধজয়ের উপাখ্যান।  হে প্রেম, নিঃস্ব তো করবেই সে, তবুও বীজ বুনে চলা ধান ক্ষেতে ক্ষেতে নদী পাড়ের দেশে দেশে কত শতাব্দী ধরে গাই তাদের গান আমি শোনাই হারিয়ে যাওয়া মানুষের গান। 

নটে গাছের ছায়ায়

চাঁদটা একদিন ঢাকা পড়ে গেল...  সে এক দুর রাজ্যর কথা  রাক্ষস খোক্কস এর ব্যাপারে জানি না  ডাইনি জাদুগররা অবশ্য ছিল বোধহয়  রাজা সিপাই যেমতি থাকে  তাতে অল্পই যায় এসে ছিল  আমি তখন সদ্য মুক্তি পাওয়া রাজকুমার  বা পক্ষীরাজ  যেটা বেশী মুক্তির প্রতীক  ফাঁকা সেতুটা দিয়ে চাঁদ খেতে খেতে আসতাম  সারাদিন চরে বেরাতাম তেপান্তরের মাঠ  দূর দেশের রাজকন্যারা তখন স্বপ্ন হয়ে তবু রয়েছে মাথার কোনায়  মা দিদিমার ঝুলি থেকে গল্প শোনা শেষ হয়নি তখনও  সোনার কাঠি রুপোর কাঠি দুরদর্শনে ছুটিছুটি  কার্টুন দেখা, কমিকস্ পড়া প্রত্যেকদিন কত কিছু...  এরপর গাছপালা আসতে আসতে কমতে লাগল  রিয়েল এস্টেট বাড়তে লাগল  মানুষজন মিলে সোসাইটি গড়ল  লম্বা লম্বা বিল্ডিং এর পিছনে তারপর চাঁদটা একদিন ঢাকা পড়ে গেল। 

ধূসর সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ

ঝাউবনের বুবুনকে দেওয়া ঋণ ছিল জানুয়ারির একদিন নতুন স্বাক্ষর নিঃস্বতা এনে দিল বহুকাল পৃথিবীতে আছি বহুকালের স্মৃতি -  বছর পেরিয়েছে আকাশ মেপে বাল্যে, মাংসের দোকানে তিন বুড়োর গল্প শুনে কল্লোলিনী কলকাতার হলূদ বিষণ্ণ ছিন্নপত্র আর পাখির পালক সংগ্রহ করে ট্রেনের জানালা দিয়ে আস্থার গৃহযুদ্ধ শুনে।  পথে হাঁটছি হাঁটছে রাক্ষসসমাজ আয় রোদ্দুর, তোর জন্মদিনে একটা দ্বান্দ্বিক ছড়া লিখি দীর্ঘায়ুর মৃত্যু কামনায় মহামানব তীরে মন্দ্রিত স্বরে তার শেষ কথা শুনে দেখা, না দেখা ছবি পথের থিয়েটার, থিয়েটারের পথে... বৃহদারণ্যক জ্যোৎস্নায় একগুচ্ছ আদিম দেবদেবী কালো জোয়ারকে করে আহ্বান আমার শত্রু সময়ের মুখোশের আড়ালে এক রুগ্ন শার্দূল সূর্যাস্তের মোড়লের মুখে ভাত তোলে ভয়ের ক্রমশ পদশব্দ শোনা যায় বিষন্নতার বিষাদরজনী পালন হয়। বেদের পরম্পরা রক্ষা করতে নক্ষত্রের আকাশে অাঙুল শুধু পুড়ে যাচ্ছে সপ্ত ঋষিরা আজও প্রশ্নচিহ্ন?  মানুষ দেখলে ভয় লাগে রাজনীতি তাই বুঝি না অন্ধকারে রামধনুর ছবি দ্যাখে স্বাধীনতা সভ্যতার সংকটে রাস্তায় নেমেছে যারা তারা পুজোর গান করে কুঠারের অক্ষমতার ফলে সুখের কথা -  ইমনের লগ্নে...  মাঝরাতে রেডি...

দেশভক্ত

নেই শিক্ষার প্রয়োজন  নেই কোন দুনিয়াদারী ভাই দেশপ্রেমিক হওয়ার শর্টকাট  মুসলিম বিদ্বেষী হওয়া চাই।  সাম্প্রদায়িক না হলে  মিলবে না হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট মঞ্চে উঠে কথায় দুনিয়া মারে  পল্লবগ্রাহী অকর্মণ্য সম্বিত পাপেট না মানুষ, না দেশ  কেবল মুসলিম বিদ্বেষ  ভালো হিন্দু হওয়ার সহজ উপায় রামের নাম মেজোরিটির মন জয় করায়।  অধিকার কেবল হিন্দুর চাই তার মধ্যে আগে পাঞ্জাবী, মারাঠি, গুজরাটি  বাঙালি দক্ষিণী বাদ মানবতায় অগ্রাধিকার উত্তরভারতের না হলেই গলায় চাপাতি।  কেটে ফেলে দেবে মুন্ডু সব ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, গড়তে না পারলে ভাঙতে শেখাও কিছু হোক ছাই না হোক কলেজে ঢুকে পাথরবাজি করে বিদ্যাসাগর ভেঙে দাও। গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায়,  হত্যা যাদের প্রিন্সিপাল  স্বাধীনতার গণহত্যাকারীরাই দেশভক্ত বাকিরা সব এন্টি-ন্যাশনাল মোদিবিরোধি মানে দেশবিরোধী বিজেপি না মানলে পাকিস্তানের দালাল বৈকি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মুখ খুললেই "কোথায় ছিলে যখন এসেছিল মাহমুদ অফ গজনী?" যাহ শালা! হাজার বছরের টান বলে তৈমুরের প্রতিশোধ নিতে পাশের বাড়ির মুসলমানটাকে মার মোদিজী ঔরঙ্গজেবের থেকে তো খারাপ ন...

দুধের গোঁফ

আমি নোংরা লোকেদের নিয়ে কবিতা লিখি রাবিন্দ্রিকতার ছোঁয়া পায়নি যাদের জীবন ভাষায় নেই কোন নান্দনিকতা খানকির ছেলে শুয়োরের বাচ্চা ছাড়া যারা কথাই বলতে জানে না।  ন্যাংটা ভদ্রলোকদের থেকে ভালো তারা ভদ্র স্বভাবের ছোটলোক আরও অসহ্য নোংরা মনের লোকেদের মুখে পরিস্কার ভাষা শুনে হাসি পায় যেন স্বভাববেশ্যার মুখে সতীপনা মাতালের মুখে দুধের গোঁফ

দলিত

কালেভদ্রে একেকটা লোক আসে, এই আমাদের জন্য বড়লোকদের অনেক অনেক ভগবান কারণ ভগবান ভালো মন্দ খেতে ভালোবাসে ফল, দুধ, মিষ্টি আমরা কোথা থেকে খাওয়াব? আমরা কারা? এই যে নাক শিঁটকে ভদ্রমহিলারা তাদের মেয়েদের চেনাচ্ছেন আমাদের, আমরা কারা? আমরা মাথায় করে গু বয়ে নিয়ে যাই মরা পোড়াই রাস্তাঘাট নর্দমা সাফ করি কুকুর বেড়ালের পচাগলা দেহ ফেলি আমরা বাড়িবাড়ি গিয়ে নোংরা তুলি আমরা কারা? যারা এত অযৌক্তিক? এত ক্রুদ্ধ? যাদের কে ছেলের বয়সিরা তুইতোকারি করে? আর আমরা বলি "স্যার, মাই বাপ, মালিক"? আমরা কারা? একটা দুটো লোক আসে আমাদের জন্য আর তাদের মারার অজুহাত খুঁজে নেয় ভদ্র সমাজ মন্দিরে কলা বাতাসা দেওয়া ভদ্র সমাজ পুরোহিতের মোটা পেটে ঘি ঢালা ভদ্র সমাজ আমরা কারা? আমরা সেই সুতপুত্র রাজা হতে পারলেও নাম পাল্টাবে না কারণ গোলাপ গোলাপই থাকে আর গু গুই কালেভদ্রে একেকটা লোক আসে আমাদের জন্য তাদের মারার অজুহাত খুঁজে নেয় ভদ্র সমাজ।

দল

ঠান্ডা হাতগুলো গরম করতে আমার সোয়েটারটা জড়িয়ে ধরেছো তুমি মাঝে মাঝে খামচে ধরছো মাইল্ডলী এটা কোথায় এলাম আমরা? ফিল্ম ফেস্টিভাল ? কি হয় এখানে? কিছু বল্লেই তো আবার বলবে মার্ক্সিস্ট কথাবার্তা একটা '-ism' এর মধ্যে ফেলে জীবনের সত্যিটা casual হয়ে যায় এত গ্ল্যামার? এত আড়ম্বর? যেন কেউ না খেতে পেয়ে মরে না কেউ ঠান্ডায় ছেঁড়া কাঁথা পরে না কোন লাশ রাস্তায় পচে না তবে কি কম্বলের আরামে কবিতা লেখাটাই খালি সত্যি? ঝাঁ চকচকে দোকানে বসে কফি হাতে কাঁচের ভিতর দিয়ে কতগুলো মেকআপ করা ফর্সা এসি গাড়ি চড়া মুখই সত্যি? সত্যি ব্রান্ডেড পোষাক?  আর বড়লোকদের জন্য গাড়ি আর জুয়েলারির অ্যাড? ফিল্ম ফেস্টিভাল? বুক ফেয়ার? রিয়েল এস্টেট? মেগা মল? মাঝে মাঝে ভুলে যাই কোথায় থাকি... আমার হাতটা ছেড়ে ছদ্ম রাগ দেখাও তুমি বোধহয় একটু অ্যাটেনশন চাও তোমার গোলাপিময়তা ডাকে আমায় আমি ভুলে যাই মার্ক্সিস্ট না হিউম্যানিস্ট? কোন দল নেই কবিতার আজও খুঁজে পাইনি যা চাই আজও জানি না কি চাই... (* বাংলায় 'z' স্বরধ্বনির অভাবে 'casual' ইংরেজি ভাষায় লেখা হল।)

তিরিশ বসন্ত

দেখতে দেখতে তিরিশটা বসন্ত পার হয়ে গেল সকালের টোস্ট চা, দুপুরের ফ্যানের হাওয়া আর রাতের বিরিয়ানিতে... ফিরে দেখলে নিজেকে চিনতে পারি না ফিরে গিয়ে আগে দেখলে চিনতে পারবো না এ কোন জীবন? যে জীবন চলে গেছে? যে জীবন যাচ্ছে? যে জীবন আসবে? হাতের রেখা তিথি নক্ষত্র প্রেম বিরহ কাম ক্রোধ ব্যর্থতা না জীবনটা কে চিনতে পারিনি আজও একেই কি বলে গতজন্ম পরজন্ম? নিজেকে চিনতে না পারা?  নিজের সাথে কাটানো সময়গুলোও ধোঁকা দেয় সেটাও অন্য কেউ ছিল দেখতে দেখতে তিরিশটা বসন্ত পার হয়ে গেল...

তবুও স্বপ্ন

বছরগুলো গুলিয়ে যাচ্ছে মাঝেমাঝে অনেকগুলো বছর কোথায় চলে যায় শত খুঁজেও খুঁজে পাইনা এটা কি মানবমস্তিস্কের রহস্য? নাকি একা একা দীর্ঘ দিনগুলো কাটাতে কাটাতে বুঝে উঠতে পারছিনা রাতটা কেটে যায় একটা বাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখে আজও একটা বাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখি আমার কপাল গাধার কপাল কারণ গাধার জীবন এরকমই মানুষ কে বয়ে বয়ে নিয়ে চলেছি সারাজীবন আর আজ কেউ নেই জোয়াল বওয়া হয়ে গেলে আমি একা অর্জুন শরশয্যায় ধীর পায়ে তবুও স্বপ্নগুলো মাথাচাড়া দেয় একটা বাড়ি, নিজে হাতে ইঁট গাঁথা সামনে একটা বাগান প্রত্যেকটা চারা নিজে পোঁতা বছরগুলো গুলিয়ে যাচ্ছে সব আজ আর কেউ নেই শুধু পড়ে আছে কটা স্বপ্ন তবুও স্বপ্ন।

ডিপ্রেশন

মরে গেছিলাম তাই নরণচরণ না করার চেষ্টা করছিলাম আমার বাবা মা এসেছিল দেখছিল আমার মৃতদেহ আমি মাঝেমাঝে চোখ খুলে খুলে দেখেছিলাম কিন্তু আশ্চর্য কেউ খেয়াল করল না তারপর আমার দেহটা পোড়ানোর সময় এলো আমি পালিয়ে গেলাম একটা ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে কোথায় কোথায় গেলাম দেহতে কি পচন ধরেছে? গন্ধ পাচ্ছে না কেউ একটা মূর্তিরূপী ভগবান এলো নারী দেবী বলল, "কি করবি? ফিরে যাবি?" তারপর একটা বাস স্ট্যান্ডে ঘুম ভাঙল আমি ফিরে এলাম বাবা মা আমার লাশটা খুঁজছে হঠাৎ আমি উদয় হলাম কিন্তু ওরা শকড্ হলো না নিজেদের মধ্যেই কি বলাবলি করে জিনিসটা সহজেই মেনে নিল অদ্ভুত ব্যাপার! আমি কিন্তু সন্দেহনিরসন করতে zombieদের মত করে যেতে লাগলাম যেন কথা বলতে ভুলে গেছি যেন স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছে যেন পুনর্জন্ম হয়েছে বড় শরীরে শিশু ওরা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে জিনিসটা খুব সহজেই নিল এরপর ফোনের অ্যালার্মটা বেজে উঠল ওষুধ খেতে হবে...

ট্রেজার ম্যাপ

অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না তাই সেদিনকে ভাবলাম কাছেপিঠে আফ্রিকা থেকে ঘুরে আসি বেশি ভিতরে যাব না কোন কাছাকাছি দেশ থেকে দুপুরের আগে লোকাল ট্রেন ধরব, সন্ধ্যার আগে ফিরতে হবে না হলে বাঘ-সিংহ হায়নার ভয়।  তা যেমন ভাবা তেমনি কাজ গেলাম আফ্রিকার কোন এক দেশে ঝোলাব্যাগ নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাঁটছি বুক অবধি ঘাস আস্তে আস্তে বাড়ছে দেখি একটা বেঁটে জিরাফ মানে আমার থেকেও বেঁটে এঁ! এ কি? বাচ্চা জিরাফ?  নাহ! ফিরতে হবে আশেপাশে সিংহ আছে তাই ফিরে এলাম দুপুর থাকতে থাকতেই আশ্চর্য, এতদূর গেলাম এতক্ষণ ঘুরলাম এখনো দুপুরবেলাতেই হঠাৎ দেখি চোখের সামনে ম্যগনিফাইয়িং গ্লাস সূর্যের কিরণ জানালার কাঁচ দিয়ে উঁকি মারছে পরনে সিক্স পকেট, সামনে মোটা মোটা প্রাচীন বই গুপ্তধনের সন্ধান  ও, কোথাও যাইনি তাহলে। 

ট্রাডিশন

কেবল আমাদের ভালোলাগার প্রাচীন একটা ট্রাডিশন কে জিইয়ে রাখতে কিছু মানুষ টানা-রিক্সা চালায়।  যেন আদিম যুগে ফিরে যেতে হয়,  যেখানে ক্রীতদাসরা টানত তাদের রাজাদের পাল্কি বা নৌকা।  রাজামশাইরা দেখতে পান না।  তাদের চিন্তা মাছের দাম নিয়ে।  "এই শালাটা ৪০ টাকা ভাড়া চেয়েছে, গলদা চিংড়িটায় টান পড়বে না তো!" 

জীবন তাবু

জীবন? জীবন তো ভায়া অনেক রকমের হয় টুনির ধন সংগ্রহ করে গুনে গুনে চলার জীবন টুনি রোজ এসে একটু একটু করে নিয়ে চলে যায় সেই শেষ হতে থাকা ধনের জীবন আরেক হয় আকাশ পাতাল স্বপ্ন দেখার জীবন আমাতেই শুরু আমাতেই শেষ.. জীবন কি? কোন মানেই হয় না কেবল বেঁচে থাকার জন্যই বেঁচে থাকা আর মরার জন্যই সব "ধীর পায়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া" রকেট নিয়ে পাড়ি দোবো গ্রহ পার অ্যাটম বোমায় গুঁড়িয়ে দেব দেশ বাড়ি ঘর সবার তবুও বড় ক্ষুদ্র মানবশরীর পিঁপড়ের মতই যতই লাইন করে হাটো কিছুই গোছাতে পারবে না যেকোন সময় বৃহত্তর কোন কিছু এসে গুঁড়িয়ে দেবে সব।  পিঁপড়ে ও তো বেয়ে বেয়ে উঠে যায় মানুষের মাথায় তাতে কি হয়? পিষে দিলেই শেষ জীবন? জীবন তো অনেক রকম ভায়া তাতে কি? জীবন, বেঁচে থাকার জন্যই জীবন গুনে গুনে দিন কাটানোই জীবন। 

ছায়াছবিঘর

আমবাগানের ছায়ায় কত গল্প তৈরি হয় কিশোরী মেয়ের কানে ফিশফিশিয়ে যায় যৌনজংলী কিশোর আম পাড়ার ছলে কিশোরীরর খালি গায়ে শাড়ির ভিতর চায় একটা দূর ক্যামেরার শটে কিশোরী ফিরে তাকায় তার কচি শ্যামবর্ণ স্তনে কিশোর দাঁত বসায় বছর পনেরোর কিশোরীর বাপ জানলে খেদাবে বে দিয়ে দেবে তাই ঠিক দুপুরবেলা যখন সবাই ঘুমায় দামাল কিশোর কিশোরীর মুখে জীভ ঢোকায় মিষ্টি বকওয়াসে মুগ্ধ কিশোরী শরীর ছেড়ে দেয় কিশোরী ভাবে কিশোর তার জনম জনমের নাকি সে এতো কিছু ভাবে না তার ভালোলাগা তার নির্মলতা কিশোর, আসলে যুবক, তার ফায়দা ওঠায়।

ছাইয়ের জীবনী

তোকে প্রায়ই স্বপ্নে দেখি প্রায়ই দেখি তোর জন্য দেওয়াল ডিঙ্গিয়ে, পাইপ বেয়ে আরও কত কি বোকাবোকা হিরোগিরি করছি আমি একটা সন্ধ্যে অন্ধকার মিশ্রিত সময় থাকে  সব সময় স্বপ্নগুলোয়।  তোকে ফেসবুকে খুঁজে বেড়াই পেয়ে গেলে তো মিটেই যেত আর এই কবিতাটা বেকার কেন সময় নষ্ট?  ঘুম ভেঙে উঠে ভাবি কাকে ভুলে গেছি কাকে ভুলে গেছি কে যেন কে যেন... তোর গলাটা যদি একবার শোনা যেত... তোকে প্রায়ই স্বপ্নে দেখি হাই স্কুল প্রেম না প্রেম ছিল কি ওটা?  না প্রেম না, প্রেম ছিল না ভালো লাগার বয়সে ভালো লাগা ক্রাস খাওয়া এইসব তা হলে আজ ৩০এ এসেও কেন স্বপ্নে দেখা?  এসব বড় ন্যাকা ন্যাকা আমার একদম সহ্য হয় না তুই চলে যা, মাথা থেকে বেরিয়ে যা।  জ্যোতিষী বলেছে বিয়ে না করতে আমি বললাম যদি তোকে একবার পেতাম তবে... "পাবে না, তাই একক জীবন কাটানোই ভালো তোমার" শুধু তোকেই চাই  যদি পেতাম তোকে সেই হাই স্কুলের মত? ইনোসেন্ট কামগন্ধহীন  নিখাক  ভালোলাগাতে?  তোকে স্বপ্নে দেখি প্রায়ই বহু বহু বছর ধরে দেখে চলেছি এখন আমাকে দেখলে চিনতে পারবি না মোটা হয়ে গেছি অনেক সাদামাটা জীবন আমার কিছুই নেই কিছুই না দেখলে আর দেখতে...

চাকা

চাকার উপরে যারা আছে তাদের জন্য জ্ঞান দেওয়াটা খুব সহজ কিন্তু চাকাটার নিচে যারা তারা জানে যে বেজন্মা চাকাটা ঘুরছে না একটা পুরনো বিকল গাড়ির মত সেটা এক জায়গায় দাড়িয়ে আছে আর দিনদিন মাটিতে ধসে যাচ্ছে সাথে তাদেরকেও মিশিয়ে দিচ্ছে  মাটির নিচে পোকামাকড়দের সাথে। 

ঘেয়ো কুত্তা

পোকাধরা আকাশে ঘিয়া মাঞ্জা ওড়ে মঙ্গলদীপ হোটেলে ভালো বিরিয়ানি পাওয়া যায় সেইভআকাশের মাঝেই অবস্থিত সে ভ্রমে থাকি আমি আমার দুই ছেলেবেলার বন্ধু সেখানে যায় আমি আগে ভাগে টাকা দিতে এগিয়ে যাই কারণ পাছে আমার গরিবি ধরা না পড়ে যায় একটা বেয়ারা যায় কোন বিষাক্ত চামড়া টিকটিকির নির্যাস আনতে পোকাদের থাকে থাকে ভাগ করা আছে মেয়ে রিসেপশানিস্টটা টাকা নেয় বিষাক্ত মিউটেটেড পোকাগুলো বড় হয় আমার পালানোর পথ ক্রমশ বন্ধ হয়  দুটো সংকীর্ণ পাচিলের মাঝখানে একদিকে বিশাল বিষাক্ত দগদগে সরীসৃপ আরেকদিকে মাকড়সা আধ্যাত্মিক জীবনে সাপ থাকে বড় বড় অনন্ত সাপ ভয় দেখালেও  তারা মহাজীবনের সন্ধান দেয়  সেই জীবন থেকে সরে এলে ঘেয়ো সরীসৃপ মাকড়সার জাল জীবন। 

ঘুম ভাঙার স্বপ্ন

কেন সব সত্ত্বেও তবু পালিয়ে যেতে পারলাম না? স্বপ্ন দেখছি একটা জীবন খালি স্বপ্নের ঘুম থেকে ওঠার স্বপ্ন।  একদিনের স্বপ্ন সেই একদিন যা কোন দিন আসবে না ঘুম ভাঙছে ঘুমেরই ভিতরে ঘুমেরই ভিতর আবার ঘুম জাগতে জাগতে জাগতে জাগতে গভীর জলে হাত পা ছোঁড়ার মত আমি বিষ্ণুর স্বপ্ন আমি শিবের ধ্যান কিছুই কেউই না, পালানো বৃথা। 

খোঁজ

কি বা আছে দেওয়ার তার?  নগ্ন নারীদেহ পড়ে আছে,  সে কথা বলে তার কথা আছে, প্রাণ নেই। আমি প্রেম জমিয়ে যাই ওপারে নিয়ে যাবো, কর্মফলস্বরূপ পাবো পরের জন্মে বাবা বলেছিল, "ভালোবাসাটা বিলিয়ে দিতে হয়, এক জনের জন্য রেখে কি হবে?" বাবা নক্সাল ছিল শেষ জীবনে পরজন্মের ভয় ঢুকেছিল মা চেয়েছিল আমি ছোটই থাকি।  কি বা দেবে সে আমায় ঘর-সংসার শাদি-সন্তান নগ্ন স্তন-যোনি ভালোবাসা তার কথা আছে অনেক, অন্তর নেই আমি ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়েছি, প্রতিটা খড়কুটো পিঁপড়ে আরশোলায় যাদের মাড়ানোর আগে-পরে কেউ ভাবেও না মা চেয়েছিল আমি ছোটই থাকি বাবা ছিল নক্সাল।  আমার ভালোবাসা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়েছিল আফ্রিকার রুগ্ন শিশুদের মুখে, তারা আমাকে দেখেনি -  দেখেছিল শ্বেতাঙ্গিনীর হাতে মিনারেল ওয়াটারের বোতল দুফোঁটা করুণা খুলেছিল ছটা এনজিও  সাংবাদিকের ক্যামেরা প্যান বাবা নক্সাল ছিল, মা গাইতো রুদালিদের গান আমি ছোট ছিলাম পোকারাও পেয়েছিল আমার ভালোবাসার ভাগ।  সে কি দেবে আমায়? তার কথা আছে, নাই প্রাণ আমি এ জীবনে কিছু কর্ম জমালাম কিন্তু ফলে কেবল আকাশপাখির অধিকার গীতায় পড়েছিলাম  তাই ভালোবাসা বিলিয়ে দিলাম আমার সাথে গাইল স...

কেমন আছো? ভালো আছি।

বনবন করে ঘুরছে জগৎ মাথার ভিতরে কেমন আছো? ভালো আছি।  চোখ বুঝলেও রেহাই নেই স্বপ্নের মধ্যে আবার স্বপ্ন স্বপ্ন ভেঙে জাগতে পারছি না এটা কার জীবন? "আমার না তোর?" তুমি কে? "ঈশ্বর" ওহ "কেমন আছো?" ভালো আছি।  সব ছিটকে যাচ্ছে ছিটকে ছিটকে যাচ্ছে সব কিছুই খেলা রে, পাঁচদিনের খেলা তারপর ঘটা করে জলে ফেলা কি করবি এত প্ল্যানিং করে? রোজ উঠছিস, ছুটছিস হাসছিস আর বলছিস, কেমন আছো? ভালো আছি। দেখিস খোকা, বাবামায়ের মানসম্মান হারায় এমন কিছু করিসনি দেখিস খোকা ভগবানের অবমাননা করিসনি দেখিস খোকা কিছুই করিসনি কথা শুনে চল, গামছা পড়ে ধূপধুনো হাসি মুখখানা কর দেখি কেমন আছো? ভালো আছি।  দিন জঙ্গল সবই মৃত্যুর খেলা জীবন মানেই মরা কি উদ্দেশ্য খুজছিস জীবনের? পিঁপড়ে, পায়ের তলায় পিষে যায় কি মানে দাঁড়ালো? বরং বাংলা খেয়ে পড়ে থাক নর্দমায় কেউ জিগাবে না কেমন আছো? ভালো আছি।  দুদিন বাদে বাদে টাকা আনা আর দেওয়া আসছে আর যাচ্ছে আসছে আর খাচ্ছে চলছে আর চলবে এই তো না?  যোগ আর বিয়োগ অভ্রখনি কয়লাকুঠি হিরকের মূল্য সবাই শ্রমিক, রাজা একজন, লক্ষে একজন কোটিতে একজন সেই ভাগ্যের খোজ করছ তুমি? খুঁজলেই পাবে? বলেছে ইতিবাদি রু...

কাঠবেড়ালি

একটা গাছের মধ্যে থাকবো ছোট্ট কাঠবেড়ালির মত নিজের সাথে মানুষের কথোপকথন করব কাঠবাদাম ভেঙে খাবো আখরোটের সঞ্চয় বাড়িয়ে ঝড় বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকবো তারপর গাছের ভিতরে ছোট্ট একটা ফাঁক দিয়ে দেখব রাতে জোনাকিরা জ্বলবে, ঝিঁঝিঁ ডাকবে নীল সবুজ রাতের অরণ্য ঘাসে পড়া বৃষ্টির জলে চাঁদের আলো চিক চিক করবে এই স্বপ্নে যেন কোন মৃত্যু নেই এই স্বপ্নের কোন হতাশা নেই বাঁচলে প্রকৃতি সুন্দর না হলে খাদ্য খাদক।

কাগজের ফুল

জঘন্য বেঁচে থাকা রোজকার যে কাজটা, তার প্রতি বিতৃষ্ণা  তবু তাকে ছাড়তে পারব না তাই রোজ রাতে তোমাকে খোঁড়া চামড়ার আরাম খোঁজা জানি তুমি একদিন তো চলে যাবে আর সেদিন কি হবে? জানি, অবধারিত জেনেও কিছু করতে পারছি না কিছুই বলতে পারছি না তোমার বিরক্তি বাড়ছে আমি যথারীতি ঝড়ে পড়ছি তোমার উপর রোজ জানি একদিন তুমি চলে যাবে তবুও অবিচলিত আমি।  তারপর একদিন হঠাৎ করে তুমি চলে গেলে কিছুই যায় এলো না যেন এমন করে দিন চালাতে লাগলাম কাউকে কিচ্ছু বুঝতে দিলাম না কেঁদে ভাসালাম না চিৎকার করে উঠলাম না রোজ নিজে রেঁধে বেড়ে খেতে লাগলাম টিভিতে খেলা দেখলাম অফিস গেলাম, ফিরে এলাম সকালে মুখ ধুলাম, চান করলাম, দাড়ি কামালাম। তারপর একদিন হঠাৎ করে এলে তুমি চিন্তায় চেতনায় তোলপাড় করে  তোমার শরীরের গন্ধের স্মৃতি পাগল করে দিল উন্মাদনার দিনগুলো মনে পড়ে গেল যদি একবার ফিরে যেতে পারতাম সেই দিনটায় আমাদের প্রথম বার বন্যা হয়ে ঝরেছিলাম সেদিন তোমার সবচেয়ে গভীরে।  এলার্ম-ঘড়ি বেজে উঠল আরেকটা রাত কেটে গেছে দিনের আলোর প্রতি কোন টান অনুভব করি না আর মনে হয় আবার রাত হোক, একটু মুখ লুকাই একটু অস্তিত্বহীনতার অন্ধকারে দরজাটা ছিটকিনি তুলে...

কমরেট

ভোঁদড়দের ভিড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে হঠাৎ যখন তুমি নিজেকে রেন্ডি ঘোষণা করলে, আমি রেট জিজ্ঞেস করলাম তুমি বললে "রেট কমই, কম রেট।" গনোরিয়ার শুক্রাণুগন্ধময় ঘেয়ো একটা ঘরে লাল কাপড়ে মোড়া বিছানায় শুলাম তোমার সাথে তুমি আমার ওইটা মুখে নিলে আমি মনের সুখে সাম্যবাদের পদ্য লিখলাম, হে মার্ক্স হে স্তালিন হে মাও হে লেনিন।  গরীব মানুষ, গরীব চাষী আহা রে উহু রে কি গরম রে  এসি গাড়িতে উঠে কালো কাঁচ তুলে দিলাম কেতাব খানা বের করে দুটো কোট ঝাড়লাম মাইক খুশি, স্পিকার খুশি, পাবলিকের চুষি লাল সেলাম দিয়ে মাল খেলাম।  আর কত ঢপের কেত্তন হবে চোদু?  পুঁথি পড়ে কোট ঝেড়ে নন্দন থেকে অন্যের বউকে তুলি আর সেই উত্তাল খানকিও চালু হেবি রেট বাড়ানোর জন্য বলে, "কবিতা লিখি"।  আজব বাঁড়া, গিলছিস গেল,  না, শুধু গিললে হবে, একটু পদ্য মাড়াতে হবে না?  গাঁজাখোরেরা যেমন রক মিউজিয়াম হয় অফিসের কেরানি, মাইনের টাকায় একাডেমী হল ভাড়া নি আউলের সাথে বাউল ছন্দ মিলিয়ে খাতায় হেগে দি আনুষ্ঠানিক প্রকাশ! দুপেগ সিঙ্গেল মল্ট, চাকুমচুকুম চকাস!  এর মাঝে আবার ভোট ফোট এলে সব সমাজ বিপ্লবীরা জ্ঞান চুদিয়ে একাকার  চায়ের ভ...