ঈশ্বর চেতনা

ঈশ্বর চেতনা মানুষকে সংস্কারাচ্ছন্ন করে দেয় না, তাকে মুক্ত করে দেয়। সংস্কারের বেড়াজালে পড়ে যে পুজো করছে নিত্যনৈমিত্ত্য বা ৫ বার ঘটা করে নামাজ পড়ছে, তার মধ্যে প্রকৃত ঈশ্বর চেতনা জাগেনি। সে হয় মনে করছে এসব করে তার কিছু বস্তু লাভ হবে বা সে ধর্মভীরু কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তবে নাস্তিক্যবাদ এর সমাধান না। একজন ঘোর নাস্তিকের সাথে একজন ধর্মোন্মাদ ব্যক্তির কোন বিশেষ পার্থক্য নেই। তারা উভয়েই ঈশ্বরের স্বরূপ সম্বন্ধে কোনদিন অবগত হতে পারবে না। তারা কেবল ঈশ্বর আছে না নেই, এই প্রশ্ন করেই সাড়া হবে সারা জীবন। বা ওই ঘটা করে চার বেলা শাঁখ বাজিয়ে ধূপ দিয়ে পুজা করে বা নামাজ সেজদা করে বা "ওইসব ঈশ্বর ফিশ্বর কিছু হয় না" এই তর্ক করেই জীবন শেষ করে ফেলবে। বোধশক্তিহীন মানুষের কাছে ধর্ম একটি বোঝা। হতে পারে সে নাস্তিক অথবা ধর্মোন্মাদ। চেতনার জাগরণ না হলে কিছুতেই কিছু হবে না। নিজেকে জ্ঞানী সবাই মনে করে, কিন্তু কোন মতবিরোধ হলেই অপরপক্ষকে  আক্রমণ করে বা গাধার মত এক কথা বারবার বলতে থাকে। তর্কে যেতে যে ভয় পায়, সে জ্ঞানহীন। তবে যুক্তিপূর্ণ তর্ক। কেবল তর্কের জন্যেই তর্ক করে কোন লাভ নেই। 
কিন্তু আমার মতে একজন নাস্তিকের থেকে একজন বিশ্বাসী (ধর্মোন্মাদ না) মানুষের জীবনের লড়ার শক্তি অনেক বেশী হয়। কারণ তার বিশ্বাসই তাকে দেয় এক অদৃশ্য শক্তির কবচ। ঘোর একাকীত্ব, যা একজন পরম প্রজ্ঞাবান নাস্তিক মানুষকেও ধরাশায়ী করে ফেলে, যখন অদৃষ্টের হাতে মানুষ নিজেকে অসহায় বা অক্ষম মনে করে, যখন মনের বিভিন্ন ভীতি, শঙ্কা ও অতীতের কালক্ষেপণ ভূতের সৃষ্টি করে, তখন সেই ঘোর নাস্তিকও ঈশ্বরতত্ত্বে উপনীত হয়। সেও খোঁজে এক অদৃশ্য অবলম্বন...যীশু? বা কৃষ্ণ বা শীব বা ইয়াওয়ে বা আল্লাহ...আলোর খোঁজে বৃহত্তর সত্যের খোঁজে সব মানুষই একই তত্ত্বে উপনীত হয় - একম ব্রহ্ম, দ্বিতীয়া নাস্তি, নে না নাস্তি কিঞ্চম - মানে সেই লা ইলাহা ইল আল্লাহ...  কিন্তু কেন? কেন সকলেই যুগে যুগে সেই একই তত্ত্বে উপনীত হচ্ছে শেষটা? তার কারণ নাস্তিক্যবাদ আর কিছুই না, starting point. হ্যা সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন করে ভাবনা। আর ভাবনার গভীরে ঢুকতে ঢুকতে জট যত গভীর হয়, এই প্রকাণ্ড অসীম কালো ব্রহ্মাণ্ডরচনার নিঃসীমতা তত তাকে আবিষ্ট করে ফেলে...আর তখনই উদয় হয় ঈশ্বরের...সব প্রশ্নের উত্তর হিসেবে। তাই সেই উত্তরটাকে না মেনে নেওয়া যেতেই পারে, কিন্তু একই প্রশ্নগুলির সম্মুখীন হলে সেই x equals to.... 
অতএব ঈশ্বর আছে না নেই, এই অত্যন্ত বালকসুলভ এবং cliche প্রশ্নটি করে সময় নষ্ট না করে, ঈশ্বর কি এবং কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর আমাদের খোঁজা উচিৎ। ঈশ্বর কি এবং কেন, এই বোধ জাগলেই, আর বোকার মত ঈশ্বর আছে না নেই, থাকলে কোথায় আছে, এই সব প্রশ্নের অবসান ঘটবে মাথা থেকে। এই বোধই মুক্তির পথ। নির্বাণ। 

Comments

Popular posts from this blog

মাকড়সা

বসুন্ধরা

ভূতের সাথে আড্ডা