Posts

প্যালেস্তাইন (+২)

আরেকটা সূর্য ফেটে পড়ল আকাশ জুড়ে চির অন্ধকার আলোর অস্তিত্বহীন এক দুনিয়ায় ছোট্ট মেয়েটা দুধের শিশু ভাইকে কোলে বেরিয়ে এলো ডেব্রিসের ভিতর থেকে এসে দেখল কালো রক্তের বৃষ্টি হচ্ছে আকাশ থেকে নাকে রক্তের গন্ধ  কূলকিনারা না বুঝে সেও ছোট ভাইটার সাথে হাপুসনয়নে কাঁদতে লাগল ভাইও কাঁদে সেও কাঁদে কেন কান্না থামাতে আম্মি আসবে না? ওদিকে দিদি গায়ে কোলের শিশু আর বোমা বেঁধে চলেছে আল্লাহর কাজে কিছু না বুঝেই মেয়েটা হঠাৎ চোখ মুছে ফেলল কেন জানি না তার মনে হলো আর কেউ আসবে না ভাইটাকে জল খাওয়াতে হবে নিজেও খাবে কালো ধোঁয়া ভেদ করে আবার সূর্য দেখা দিল আকাশে  তুমি আছো?  আমরা যে তব ব্রাত্য, কিন্তু শুধুই আমরা নয় ঈশ্বরপুত্র যিশুও কেঁদেছিলেন ক্রুশের শেষ বেলায় হায়, "ঈশ্বর! আমার ঈশ্বর তুমি কি ভুলে গেছো আমায়!"  ঈশ্বর তুমি কি ভুলে গেছো আমায়? মিসাইলের রেখে যাওয়া ধূলায় ছিন্নভিন্ন দেহের স্তূপ “আমাদেরও কি আছে কোন দাম! কোন ইতিহাস, বঞ্চিতদের গান?”  

মা

কোটি কোটি সমান্তরাল জনমে আমি তোমারই জন্য কেবল এসেছি তোমার সাথেই খেলেছি ধূম্রধূমায়িত ফ্যান ভাতের গন্ধে ছুটে গিয়েছি মা তোমারই কোলে। কোন অভাব বোধ করিনি ভাইবোনেদের তোমার হাতে মাখা নুনভাত খেয়ে একই রূপকথার গল্প বারবার শুনে  আমি একাই মা তোমার কোলজুড়ে ধূম্রধূমায়িত স্মৃতির মত ভেসে আছি।  কোটি কোটি সমান্তরাল জনমে মানব ছানা হয়ে বা বিড়াল শাবক হয়ে বারে বারে  মা তোমারই কোলে জন্মেছি আমি কিছুই চাইতে হয়নি, কারণ কিছুই ছিল না সবই তবু পেয়েছি আমি মা।  তুমি যবে যাবে শবে আমি তাকিয়ে দেখবো আকাশে  তোমার হাতছানির অপেক্ষা করব কোটি কোটি সমান্তরাল জন্মে মানব ছানা হয়ে বা বিড়াল শাবক হয়ে বারে বারে মা আমি তোমারই কোলে জন্মাবো।  #২ মরণের তীরে দাঁড়িয়ে,  বারেবারে আমি তোমারই ছেলে হবো, মা বারেবারে আমি তোমারই কাছে আসবো  তোমারই কোলে খেলব মা।  বেশি কিছু না সন্ধ্যায় একটু রুটি তরকারি আর ঠাকুরমার ঝুলি  দিনে স্কুল আর বিকেলে খেলার মাঠ একক সন্তানের সর্বক্ষণের খেলার সাথি মা বেশি কিছু ছিলও না, বেশি কিছু চাইও নি বারেবারে তুমিই হও আমার মা।

মাকড়সা

হুহু ফাঁকা সাদামারা দেওয়ালে  সরীসৃপের ফাঁপা, সর্বগ্রাসী গিলে খাওয়া অস্তিত্বকে অস্বীকার করে  নিজের লালা, শ্রম, শিল্প দিয়ে মাকড়সাটা গড়ে তুলেছিল একটা ঘর কারোর যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করেনি সৃষ্টি করেছিল এক জালের উপনগরী পুরো ঘরটাই মানুষটার পুরো বাড়িটাই তার দেওয়ালের এক কোণ তবু মাকড়সাকে ছাড়তে পারল না সে তিলতিল করে গড়ে তোলা কারুকার্যময় জালিকাকে ঝুলঝাড়ুতে জড়িয়ে নিল মাকড়সাটা চুপচাপ চলে যাচ্ছিল তাকে ভ্যাকিউম দিয়ে টেনে নিল অথচ প্রত্যহ কত কুমির মানুষকে টেনে নিয়ে যায় তাদের কিছু করতে পারবে তুমি?  কুমির হাসে, সে শক্তিমান মাকড়সার গরীব বস্তি ওপড়ানোর জন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে হয় না...

মিয়াও

গ্যাঁট হয়ে বসে আছে হুলো রান্নাঘরে ফ্রিজের সামনে নিজের খাবারের বাটিটা আগলে কখন পেটটা একটু খালি হবে, আবার খাবে!  মাঝে মাঝে জুলজুল চোখে এদিক ওদিক দেখছে আমার ভিতরের বাচ্চা ছেলেটার বিল্লির গোল নাদুটা চটকানোর জন্য হাত নিশপিশ করছে বিল্লি বলছে, "মিয়াও!" কি? খাবার তো দেওয়াই আছে! "মিয়াও!" বিল্লি বলছে মিয়াও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, মিয়াও।  একটা অদরকারি কাগজ যেই মুড়ে ফেলেছি ঘরের কোণে ছুট্টে এসে হুলো গাপ করে ধরেছে ওটা নিয়ে বল খেলবে মোবাইল চার্জারের তারটা মাটিতে ঝুলছে তাই দেখে কামড়াকামড়ি শুরু করেছে "মিয়াও!" ওরে ওটা ছিঁড়ে যাবে রে!  "মিয়াও!" অন্য কিছু নে আহ! ওখানে উঠিস না, সব পড়ে যাবে যে! "মিয়াও!" বিল্লি বলছে মিয়াও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, মিয়াও। 

ভূতের সাথে আড্ডা

বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দিন দুয়েক ধরে হচ্ছে এরকম, বর্ষা এসে গেল বলে। বর্ষার সাথে সাথে আমার মধ্যে বাঙালিয়ানার বহর বেড়েছে হঠাৎ। কয়েক দিন ধরেই খুব ইচ্ছে করছে এরকম একটা দুর্যোগময় সন্ধ্যায় (এখন দুপুর) একটা ভূতের গল্পের আড্ডা দেব বন্ধুদের সাথে। এইরকম আড্ডা আজকাল বিরল হয়ে গেছে, বিশেষত এই টেকনো-হাব নিউ টাউনে কোথাও এইরকম খাস বাঙালি আড্ডা হয় কিনা আনার জানা নেই। বড় বেশি যান্ত্রিক এই অফিস পাড়াময় নিউ টাউন। হিউম্যান টাচটা পাই না। তার উপরে এখন নিউ টাউনের যেখানে থাকি, সেটা একেবারেই কলকাতার শেষপ্রান্ত।  যাকগে, একলা চলো রে! ঠিক করে ফেললাম আজ বন্ধুদের কে ডেকে নিয়ে আড্ডা দেবই। আমি নিজের ফ্ল্যাটে একা থাকি, বাবা মা গত হয়েছেন বেশ কিছু বছর হলো আর আমি বিয়ে করিনি। অতএব কেউ মদ খেয়ে রাতে থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। অন্যান্য দিন রান্নাবান্না করে খেয়ে দেয়ে লাইব্রেরী যাই লেখালিখি করতে। কিছু পত্রপত্রিকায় লেখালিখি করে আর অন্য লেখকদের বই অনুবাদ করে আমার সংসার চলে। সংসার মানে আমি আর আমার কুকুর, শান্তিগোপাল। হ্যাঁ, কুকুরের নাম রেখেছি শান্তিগোপাল। আজ লাইব্রেরি যাওয়া ক্যান্সেল করলাম। মুদির দোকানে কিছু সরঞ্জামাদি বলে দিল...

বাবা

খালি দিতে এসেছিলে এ জীবনে তাই চাওয়া কি শেখায়নি বিধাতা মনে পড়ে যায় শৈশবের বাগানে তোমার আমার আর লাকির খেলা।  আজ তুমি একা শীত শেষের হাওয়ায় ভাসে স্মৃতির ছেঁড়া পাতা সব দিয়েও মানুষ ফুরিয়ে যায় না তাই আজও সবার জন্য সব আনিয়ে দেওয়ার তাড়া।  অসৎ চিন্তা এলে মাথায় ভেসে আসে তোমার রাগী মুখটা হতাশ হলে বাজে মাথায়, তোমার "লড়ে যা" বিপ্লব আর সংসারের জাঁতাকলকে ব্যালান্স করার খেলা জীবন আমিও ট্রাপিজে চড়ি টলমল পায়ে...

বসুন্ধরা

দূর থেকে পুলিশের সাইরেনের আওয়াজ শুনে বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে আবারও আমাকেই ধরতে আসছে নাকি? না না কেন আসবে চার কুড়ি পার হয়ে গেল বন্ধুরা, কমরেডরা সময় করে সব কেটে পড়েছিল ভালো চাকরি, ব্যবসা করতে ঘরসংসারের টানে রেগুলার রাতে সেক্স, দিনভর মেকি ঝগড়া ন্যাকামি আমিই আজও হলদেটে পুরনো বইয়ের পাতায় বদলের স্বপ্ন দেখছি গা গোলায় মাঝে মাঝে নারীর যোনির গন্ধে ঘেন্না হয় এত অন্যায়, তবুও তুমি প্রসূতি? এত শত দর্শনের মাঝে মাঝে ঝরঝরে বাতাস এনে দেয় পিওর ছাগলামির বসন্ত উৎসব আহা! ছাগলারাই আনন্দে আছে পিঠে রং মেখে... আবার সাইরেন বেজে ওঠে হঠাৎ যদি কোন পুরনো লাফড়ার জন্য শালা কেস খাই? হলদেটে বইয়ের পাতায় ঢুকে থাকি...