Posts

Showing posts from August, 2021

উৎসব/বিদ্রোহ

উৎসবে সামিল হতে পারলাম না আজও আনন্দ হইহুল্লোড় শব্দের উৎসব টাকা উড়ছে টাকা হোর্ডিং ব্যানার বিজ্ঞাপন নতুন জামার গন্ধ, পারফিউম মেশা কনফিউশন আমার কমিউনিস্ট?  না হে না, দারিদ্র্য বিলি করি না আমি আমার দারিদ্র্য কেবল আমার শান্তি ক্ষুধার্ত মুখগুলো যেন পুজোর গ্ল্যামারে আরও বেশী করে ফুটে ওঠে প্রতিমার গলায় সোনা মুক্তো  পাঁচ দিনের জন্য মহা আড়ম্বর সেই দিনগুলোও হাত পাতা মুখগুলো বেশীই ফুটে ওঠে বাপের কোলে উঠে ঘুরে বেড়ানোর কথা বেলুন আইস্ক্রিম হাতে ভিক্ষা করে খাচ্ছে আর অন্যরা আনন্দে দিশাহারা হয়ে সারারাত পাগলের নাচ নাচছে মাইক বাজিয়ে স্পিকার ফাটিয়ে গান চালাচ্ছে "ম্যাঁয় তেরা বয়ফ্রেন্ড, তু মেরা বয়ফ্রেন্ড" ভুলে যাই, পারফিউম কনফিউশন মাখা গন্ধে ভুলে যাই কে আমি? এটা কোথায়? গরীব দেশে গরীব কই?  ওইতো ওদিকে তাকাতে নেই ওদিকে অন্ধকার, ঝুপড়ী আমি বসে আছি, ভেসে যাক ভেস্তে যাক পুজো অভিশাপ দিচ্ছি আর অপেক্ষা করছি বিদ্রোহ আসবে কবে অধার্মিকদের মূর্তি সব ভেঙে গুড়িয়ে দেবে কবে... না সলিউশান হবে না কোনদিন হবে কি? শুধুই শান্তি শান্তি শান্তি

বিপ্লবের সংজ্ঞা

যখন চাবুকে বড় হওয়া বাঘ  সার্কাসের রিং মাস্টারকে ছিঁড়ে খায় দর্শকাসনে বসা বিড়ালটাও হাততালি দিয়ে ওঠে।

বিরাট স্বরূপ

(*মহাভারতে ঈশ্বরের বিরাট স্বরূপ দর্শন করেছিলেন অর্জুন। কিন্তু ক্ষুধার্ত শিশুরা যারা ঈশ্বরের সবথেকে করুণ, অসহায় রূপ তারা কোন মহাকাব্যের অংশ হয়নি।) সন্ধ্যা নেমে আসে আর্যপুত্রের শঙখধ্বনীতে, বিশ্বরূপ দেখান মধুসূদন রাস্তার শুকনো মুখগুলোতে ক্লান্ত হাত পেতে শৈশবের অধিকার চাইছে, আমি মহাকাব্যের আড়ম্বর থেকে লুটিয়ে পড়ি কঠোর বাস্তবে।  যে যুদ্ধের কাহিনী কেউ লিখবে না যে যুদ্ধে ঘোড়া নেই গান্ডিব নেই মহারথি নেই কেবল আছে অভিশাপ, সেল্ফ-ফুলফিলিং প্রফেসি।  জীবনের অফুরন্ত আনন্দে গা ভাসিয়ে YOLO যুবসমাজ!  ঢিনচ্যাক ডিজে,চারিদিকে আলোর অনুষ্ঠান অন্ধকার আরও আবছা করে।  ধূপধুনোর গন্ধ দিয়ে ঢেকে দিয়েছি লাশ পচা ঠাকুরকে মিষ্টি প্রসাদ দিয়ে সব পাপ ধুয়ে নিয়েছি আর থাকল না তবে কোন অপরাধবোধ সার্বজনীন আনন্দোৎসবে। চাঁদা তুলেছি কষ্ট করে প্যান্ডেল লাইটে তাক লাগিয়ে দিয়েছি মূর্তির উপরে কেহ নাই পতাকার উপরে কিছু নাই।  কিছুদিন জীন্স টি-শার্ট পড়া কৃষকদরদীদের দলেও যদি সেটাই বাকি থেকে থাকে অঞ্জলি দেওয়ার পরে কি করব তোমার জন্য? না অত মহৎ আমি নই, তাই কবিতা লিখেই দায় সারব...সন্ধ্যাপ্রদীপ ডুবে গেছে যৌবনের আনন্দোৎসবে আ...

বিল্লিকে আমি ইস্তানবুলের স্বপ্ন দেখাই

ক্লসেটে কবিতা লিখি যেমন মেনিও তেমনি ম্যাও করে সবার অজান্তে অন্ধকার থেকে এসে অন্ধকারে মিলিয়ে যাই আমরা দুজনেই।  ছাগলেরা ব্যা ব্যা করে পাড়ায় ব্যাডমিন্টন খেলে শুয়োরদের রাজনৈতিক ঘোৎ ঘোৎ এ একাকার চায়ের দোকান আমরা একটু অন্ধকার খুঁজি আমি আর বিল্লি।  চল তোকে টার্কি নিয়ে যাবো  ওখানে খেতে দেবে সবাই দুটো মাছের কাঁটার জন্য লাথি খাবি আর কত হাড় জিরজিরে কাঙাল? তারপর আমিও বেড়াল হয়ে ওখানেই থেকে যাব তোর সাথে গা চেটে গদগদ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ব দুজনে ইস্তানবুলের কোন বাড়ির কার্নিশে। 

বৃষ্টির রাতে প্রহরীর কাজই শ্রেষ্ঠ

মানুষ বাড়ি থেকে যে কেন বেরোয়, বুঝতে পারি না? কি বাজে একটা দেশ! গরম! নোংরা! দারিদ্র্যের হাহাকার চারিদিকে... এদের কি চোখেও লাগে না? তার চেয়ে বাড়ির মধ্যে অনেক ভালো কালো দেওয়ালে কালো ডিস্টেম্পার কালো পরদা বরফ ঠান্ডা ঘরের ভিতরে স্নো পরবে বেশ বিছানায় থাকবে ইগলু আর দুরে পোলার বেয়ার (আমাকে খাবে না কিন্তু!) দুনিয়ার বাইরে দুনিয়া ওই পারে গ্রাস গ্রিনার... কিন্তু গরম গিয়ে যখন বর্ষা আসে সারা দিন-রাত ধরে রাস্তাঘাটে জল গাছপালা ভিজছে এই রকম বৃষ্টির রাতে প্রহরীর কাজই শ্রেষ্ঠ রেনকোট গায়ে, গামবুট পায়ে, ছাতা মাথায় একটু মদ আর সিগারেট হুইসেলটা ঝুলবে আর একটা কুকুর থাকবে ওকেও রেনকোট আর গামবুট পরিয়ে দেবো চারটে এই সুখ এস্কিমোদের দেশে নেই বর্ষার বড় কোন আমেজ নেই।

বৈজ্ঞানিক

কোথা দিয়ে যে সময়টা বেরিয়ে যায় আজকাল... এই করতে দশটা বছর কেটে গেল এখন আর ফিরে যাওয়ার উপায় নেই ভাবলে কেমন লাগে জীবন চলছে একদিকে    বয়স কেবলই বাড়বে     মাঝে মাঝে খুব ভয় হয় মাঝে মাঝে মনে হয় এ কোথায় এলাম অনেকক্ষণ বাদে যখন রাস্তায় বের হই মনে হয় এখানে আমি নতুন  আর কবে পুরনো হব? হয়তো একদিন বড়দের মতো আমিও বড় হব তারপর দেখি যে বয়স বেড়ে গেছে    আমি জোর করে বাচ্ছাপনা করছি  বড় হওয়া মানে কি তবে? আমাকে দেখিয়ে দিলে ভালো হয় আমি এখানে নতুন ছিলাম ১৫ আজ হঠাৎ ২৫ কাল দেখবো ৩৫ শীত শেষের হাওয়ায় উড়ছে অপ্রয়োজনীয় কিছু টিনেজ স্মৃতি দশটা বছর কেটে গেল    ফিরে দেখেছি  ফিরে যাইনি যাওয়ার উপায় নেই কোনোদিন কি হবে? এই যেমন হয়েছে উড়ান, ক্যামেরা আর স্মার্টফোন... আমি এখানে নতুন এদিকওদিক জিজ্ঞেস করছি। 

বৈরাগ্য

জীবনটা খুব আলগা আলগা বাঁচি জীবনে থেকেও তাকে না ছুঁয়ে বেরিয়ে যাই জীবনটাকে কিছুতেই আঁকড়ে ধরতে পারলাম না চর্ব্য চোষ্য লেহ্য  রূপ রস গন্ধ ইনসুরেন্স ব্যান্ক ব্যালান্স গাড়ি বাড়ি EMI বড় আলগা আলগা বেঁচে থাকা এ সুখের খোঁজে নেই, দুখের খোঁজেও নেই দুখ আছে কিছু, অনেকটাই বেশি দুখের আমার তবু স্বাদ না মিটিল পাখি উড়ে যাওয়া আকাশ মেঘ জল নীল লাল রং না হে না দীপ ভাই, তুমি বরং সরকারি চাকরী খোঁজো তোমার কোন কিছুতেই চাড় নেই কোন কিছুই তোমায় বেশিদিন ভাবায় না বড় fickle-minded তুমি সব কিছুই চাও, শেষ পর্যন্ত কোনটাই পাও না এভাবে হয়না হে দিপাঞ্জন, তুমি একটা জ্যোতিষী দেখাও তোমার বৈরাগী হওয়া এ জন্মে নেই আরেকবার কষ্ট করে আসতে হবে এ জন্মে আবার নীল লাল রং  প্রেম ভালবাসা friend request  এত সব ছাড়তে পারবে খোকা?

ব্রেকিং নিউজ

সজোরে কালো পোকাটার সাথে ধাক্কা খেয়ে যখন তুমি ব্রিজ ভেঙে পড়লে আমার খুব জোর ঘুম পেয়ে গেল।  বোর হলে যা হয় আর কি অনেকক্ষণ থেকে বিপ্লব মারিয়ে মারিয়ে এমনিই হাই উঠছিল অনর্গল।  কিন্তু দেখলাম তুমি উঠছ না, মরে গেলে? মিথ্যা হয়ে গেল সোনা রাঙা ধান হাসনুহানা ফুলের বাগান?  তখন এক মাতাল মাঝি এলো তার হিজল কাঠের নৌকা নিয়ে সোজা রূপকথার গল্পের ঝুলি থেকে নদীটা বেরোল মিডিয়ার জন্য ডিটেইলড্ রিপোর্ট নিতে। 

ভয়

ভয় ঢুকছে দেখি এ.সি'র ভেন্টিলেটর দিয়ে  চাদরটা ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে একটুখানি ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখি অতিপ্রাকৃত কিছুর উৎপত্তি হলো কিনা কোন ছায়ামূর্তিও যদি... দেখতে চাই না চাইনা, ধন্ধে পড়ে যাই। 

বাতকর্ম

আমার কোন দিন নেই, কোন রাত নেই কোন রোববার নেই, কোন সোমবার নেই কোন আলো নেই, কোন আধার নেই কোন উৎসব নেই, কোন অসুখ নেই একটা আ-কাটা জীবন চলেছে চিরন্তন মানবের চেঁচামেচি, আবেগ উৎকন্ঠা - কিছুই ভাবায় না আমায় প্রেম ঘৃণা কবিতা ছবি গান সিনেমা সবই আসে যায়, আসা যাওয়ার খেলা দিন নেই রাত নেই রোববার নেই, সোমবার নেই একদা একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছিলাম না ভালোবাসিনি, কেবল সম্পর্ক করেছিলাম এইভাবে ভালোই চলছিল অপেক্ষায় ছিলাম কবে যাবে, কিভাবে তাড়াবো তারপর একদিন শুনলাম বাড়ি থেকে বিয়ে দিতে চায় আমি ভাবলাম এই সুযোগ বললাম, "করে নাও, আমাকে দিয়ে কিছু হবে না চাকরিবাকরি করি না, করতে চাইও না এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে জীবন যায় চলে" ও অনেক কেঁদেছিল কিন্তু আমার কিসুই যায় আসেনি তারপর একদিন সত্যি চলে গেল প্রথমটা কিছুই বুঝলাম না তারপর হঠাৎ বাথরুমে পায়খানায় বসে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললাম সিনটা সিনেমার হলে, হলজুড়ে হাসির রোল উঠত এক বিশ্বস্ত বন্ধুকে বললাম, সেও হেসে ফেলল সবাই হাসছে মনে হল আর আমি কাঁদছি কেন? আমি তো শুধুই শরীরটা চেয়েছিলাম এর বেশি কি? তাহলে কিসের দুঃখ? শরীর না পাওয়ার? সেইদিন বুঝেছিলাম ভাই কেঁদেকেটে লাভ নেই ভালোবাস...

ভাড়াটে

জীবনের ভাড়া খাটছে শরীর মেধা ভাড়া খাটছে তত্ত্বের আত্মা ভাড়া খাটছে ঈশ্বরের মন ভাড়াটে প্রেমের ভাড়া খাটছে সবাই অল্প কটা টাকা হাতে দিয়ে, আর স্বপ্ন দেখিয়ে মুরগি বানিয়ে দেবে চাকরী সম্মানজনক গোলামী বদলে নিশ্চিত নিশ্চিন্ত জীবন ধীরে ধীরে মরার নিশ্চয়তা কামানো খরচের জন্য জীবন খরচ করে জীবিকা কামানো।  চাকরি মানে শরীর বুদ্ধি ভাড়া খাটানো চাকর-ই শব্দের মাধুকরীতে মুগ্ধ তুমি আর আমি ধবধবে পোষাক পড়ে তাই সকাল বিকাল ছুটোছুটি।  ভাড়াটে ২ ভাড়াটে বসানো আর তোলার খেলা গোটা দুনিয়া বসত আর উচ্ছেদ উচ্ছেদ আর উৎখাত মাঝে দাউদাউ আগুন দেখি  দেখি বাড়িঘর সব জ্বলছে প্রাণীরা পুড়ছে বস্তি উচ্ছেদ হচ্ছে মানুষগুলো যাবে কোথায়? মানুষ তো নাকি? মানবতা ট্যাক্স সাপেক্ষ, সরকারী কাগজ বেশী জরুরী।  ভাড়াটে স্বাধীনতার দেশে আর যাই চাও, জাস্টিস চেও না জাস্টিস দিতে পারে কেবল সশস্ত্র বিপ্লববাদই বন্দুকের নল দেখিয়ে কামায় মাল  পুলিশ আর কিছুই না, পোষাক পড়া ক্রিমিনাল।  লোকগুলো কোথায় যাবে? কোথায় যাবে মানুষগুলো অন্য মানুষের দেশ অন্য মানুষের জমি ডেমোক্রেসি - তাই নিজের শোষক কে ভোট দিয়ে আনতে পারবে তুমি।  ভাড়াটে, তুমি মালিক ...

ভূত ২

বাস থেকে ছিটকে পড়তে দেখলাম নিজেকে শরীর পড়ে তুবড়ে গেছে রুহটা তখনও দরজার সামনে হঠাৎ ফিরে পেলাম সম্বিৎ একি! রক্তে রক্তাকার!  তাহলে বাসে কে দাঁড়িয়ে আছে?  সেও কি আমি? পরের দিন আমি আগের দিনের ভূত।  অতীতটা স্বপ্নের মত  যেন মৃত্যুর পরেও এমনই কেবল ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আশপাশের সাথে বিচ্ছিন্নতা 

ভূত

একটা ধূসর ক্যাসেলের মত স্মৃতিগুলো হাজার বছরের পুরনো দেওয়াল বেয়ে গাছ উঠেছে তোমার ইউক্যালিপটাস গাছগুলো সাদা প্রেতের মত একা সম্পূর্ণ একা শৈশব আসে যায় কত জীবন আসে যায় ধূসর ক্যাসেলগুলো দাঁড়িয়ে থাকে দেওয়াল বেয়ে গাছ ওঠে মানুষের স্মৃতি বয়।  পড়ন্ত সন্ধেয়  আকাশটা তেড়ে আসে সব কেড়ে নিতে পৃথিবীটা কেড়ে নিতে কিছুই থাকবে না পড়ে কিছুই ভাববে না তুমি দেহ পুড়বে চুল্লিতে ধূসর ক্যাসেলের ধূসর স্মৃতিগুলো নিয়ে সাদা ইউক্যালিপটাস গাছটা হয়তো বা ভেঙে পড়বে। 

মাংস

[কেউই খাদ্য হয়ে জন্মায় না পৃথিবীতে। প্রকৃতির নিয়মে হরিণ ঘাস খায়, বাঘ হরিণ খায়, মরা বাঘকে শকুন খায়, শকুনের পচা দেহ ডিকম্পোজড হয়ে সেখানে আবার ঘাস গজায়।  কিন্তু কেবল খাদ্য হয়ে কেউ জন্ম নেয় না। একমাত্র মানুষের কনভিনিয়েন্স একটা প্রাণীকে প্রডাক্টে পরিণত করে। মানুষ প্রাণের চাষ করে।  বাঘ শিকারকে পালানোর সুযোগ দেয়। ধরে ফেললে তবেই হত্যা করে খায়। কারণ সে আর কিছু খেতে পারে না। কিন্তু আমরা, অর্থাৎ, শ্রেষ্ঠ জীবেরা খাবার উদ্দেশ্য জন্ম দিই খাঁচায়। সেই প্রাণী খাঁচায় বসে অপেক্ষা করে মৃত্যুর, কখন আমরা তাকে খাবো। যতক্ষণ না খিদে পাচ্ছে সে পরাধীন। আর মুক্তি মানে মৃত্যু।  তারপর পিস পিস করে প্যাকেটে।  গরাদের পানে চেয়ে থাকে সারি সারি মুখ, নাম যাদের খাদ্য...] সারি সারি মানুষের ছবি ভিন্ন এক্সপ্রেশন  ছিন্নভিন্ন জীবন  নাম তার মাংস  মাংস নামক এই প্রাণীটির সাথে দেখা করব বলে বাড়ি থেকে বেরোলাম কোথায় পাওয়া যায় এই প্রাণীকে? সাউথ আমেরিকার জঙ্গলে? আফ্রিকার কংগোতে?  নাকি কাছাকাছি, এই সুন্দরবন টুন্দরবন? না তাকে পাওয়া যায় দোকানে তাকে বলে মাংসের দোকান তাকে পাওয়া যায় খাবার দোকানে ডাইনিং ট...

মানুষ জন্ম

শত জন্মের থাকলে ভাগ্য মানুষ ছানা হয়ে জন্মানো যায় আমি মা কুকুরের শেষ কুকুরছানাটাকে বললাম বাকিগুলো ঠান্ডায় অভুক্ত মারা গেছে মা কুকুরটা মারা গেছে কুকুরের বাচ্চাটার তখন শেষ অবস্থা তাও কোনক্রমে আমার ভালোবাসার স্বীকৃতি ক্ষীণভাবে লেজ নেড়ে হাল্কা চেটে দিল হাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি এনে মুড়ে দিলাম চাদর কম্বলে গরম দুধ দিলাম প্রাণটা বাঁচাতে পারলাম না ভেট এসে ফিরে গেল ওর বাটিতে পড়ে থাকা দুধটা দিকে তাকিয়ে হঠাৎ একটা ছেলে বাছুরের অভুক্ত মুখ ভেসে উঠল মানুষ চিজ পনীর আইসক্রিম সন্দেশ খাবে তাই ওকে বেচে দেওয়া হল কশাইয়ের কাছে জন্মের প্রথম দিনই  মা গরুটা ওর পিছন পিছন ছুটেছিল অনেকক্ষণ যখন ওকে নিয়ে যাচ্ছিল কেড়ে কশাইয়ের কাছে মা গরুটা তবুও দুধ দিয়েছিল মরা বাচ্চার ঝোলানো মাথাটা দেখে সেই দুধের সন্দেশ দেবতারা প্রসাদ করেছিল সেই বাছুরের হালাল মাংসের সুস্বাদু বিরিয়ানি হয়েছিল কত লোক চেটেপুটে খেয়েছিল সেই বাছুরটার মায়ের দুধের তৈরী ঘি, পনীর, চিজ, আইসক্রিম আর সেই মায়ের সন্তানের মাংসের বিরিয়ানি ফিরে এলাম কুকুরছানাটাকে কবর দেব? নাকি ভাগাড়েই ছুঁড়ে ফেলে দেব মানবতা? 

মানব সাম্রাজ্যবাদ

কোথায় কোথায় চলে গেছি  কোন সুদূর গ্রামের অলিগলি মানুষকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করেছি মানুষের চোখে সন্দিগ্ধ চোখ সাম্রাজ্যবাদী জীবনের সম্প্রসারণে টুরিস্ট হয়ে নিজেরই দেশে নিজেই নিজের ঠিকানা খুঁজেছি।  ধর্মের দোষ নয়, বর্ণের দোষ নয় দোষ মানুষ হওয়ার।  হানাহানি আর জিহাদ রক্তমাংস কাটা হাড় সে তো রোজই দেখি কেউ নেই বাদ কিন্তু এই চেনা দুনিয়াটা সাজেশনে মিলছে না কেন তবে? কোথায় ইতিহাস বই, সেথা রাজার জয়গান প্রজারা একে এত, তায় ট্যালেন্ট বলতে খালি মরে!  নৃশংস সব ছবি আমি দেখেছি, দেখে চলেছি প্রতিনিয়ত।  নৃশংসতার ছবি আমি এঁকেছি  হে সৃষ্টিকর্তা, তুমি যে আর নেই, সে আমিই কবেই যেন বুঝেছি। যত দেখেছি তত বুঝেছি তোমার হেলপলেসনেস তাই নিজের মাঝেই ঈশ্বর আছে এই শান্তনা দিয়েছি কিন্তু সে পরমাত্মা বড়ই শান্তিপ্রিয়, বড়ই পাওয়ারলেস  দুনিয়াটা হচ্ছে স্টেজ বটে, আমরা অভিনেতাও বটে শুধু ডিরেক্টর নেই...

মানুষের দুঃখে আমি হাসি

মানুষের দুঃখে আমি খুব হাসি কারণ তখন আমার সেইসব মানুষগুলোর কথা মনে পড়ে যায় যারা আমার দুঃখে হেসেছিল। মানুষের আনন্দ দেখলেই আমার মধ্যে জ্বলে হিংসার আগুন কারণ এদের আনন্দ মানেই প্রাণীহত্যা আর পরিবেশদূষণ আমার দুঃখেই এই মানুষগুলোর আনন্দ।  (যা কিছু হাস্যকর তাকেই রোম্যান্টিক করে দেখানো আর যা কিছু তথাকথিত রোম্যান্টিক বা সুন্দর তাকেই হাস্যস্পদ করে তোলা আজকের যুগের শিল্পের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।  আমিও তাই করতে চাই।)

বিড়াল বলছে ম্যাও

গ্যাঁট হয়ে বসে আছে হুলো রান্নাঘরে ফ্রিজের সামনে নিজের খাবারের বাটিটা আগলে কখন পেটটা একটু খালি হবে, আবার খাবে!  মাঝে মাঝে জুলজুল চোখে এদিক ওদিক দেখছে আমার ভিতরের বাচ্চা ছেলেটা একটু বিল্লির গোলক নাদুটা চটকাতে চাইছে বিল্লি বলছে, "ম্যাও!" কি? খাবার তো দেওয়াই আছে! "ম্যাও!" বিল্লি বলছে ম্যাও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, ম্যাও।  একটা অদরকারি কাগজ যেই মুড়ে ফেলেছি ঘরের কোণে ছুট্টে এসে হুলো গাপ করে ধরেছে ওটা নিয়ে বল খেলবে মোবাইল চার্জারের তারটা মাটিতে ঝুলছে তাই দেখে কামড়াকামড়ি শুরু করেছে "ম্যাও!" ওরে ওটা ছিঁড়ে যাবে রে!  "ম্যাও!" অন্য কিছু নে আহ! ওখানে উঠিস না, সব পড়ে যাবে যে! "ম্যাও!" বিল্লি বলছে ম্যাও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, ম্যাও। 

রাক্ষসী তোর জন্য

শোঁ শোঁ শব্দে চলে যাব হাজার হাজার বছর অন্য সময়ে সেই রুপকথার অস্তিত্বহীন জগতে রাক্ষসীদের সন্ধানে... বধ করতে নয় ঘর করতে  তাদের স্বপ্নের অনার্যপুত্র হয়ে। জঙ্গলে বাদারে একাকী রক্ষপুরিতে থাকবে পক্ষীরাজ  উড়ব বিস্তীর্ণ প্রান্তরের উপর দিয়ে। জনমানবশুণ্য দ্বীপে রাক্ষসী সঙ্গে যতভাবে ঢোকা যায় একটা শরীরের মধ্যে  রাক্ষসী তোর সঙ্গে তোর মধ্যে ঢুকবো একটা অজাগতিক প্রেমিক হয়ে তোর খোলা চুলের ভয়ার্ত মায়ায় তোর মিশকালো গহ্বর চোখে ডুবে ডুবে আরেক জন্মে সাঁতরে আসব বারেবারে ঝরে যাব তোর অন্তরস্থলে রাক্ষসী তোর জন্য আমি একটা বাড়ি বানাবো  মানব নাভি দিয়ে। পড়ে থাকবো এক বাস ট্রাকের আওয়াজ শুণ্য গভীর বাগানে ভুতবন আর প্রেতবাদারে সাদা গাছগুলোর মতো সারারাত একলা অশরীরী হয়ে যখন রাক্ষসী যাবে মাংস শিকারে  আমার শরীর থেকে নুন চেটে খেয়ে  আমাকে প্রশমিত করে  জিয়ন কাঠি মরণ কাঠি ছুঁয়ে পড়ে থাকবো অস্তিত্বহীন হয়ে রাতের পর রাত সকালে আবার ফিরে আসবো পরমুহুর্তে  তার মানবীবেশে  রাক্ষসী তোর সঙ্গে  আমি কাটিয়ে দেব রুপকথার এক জন্ম।

ক্যায়ামতের দিন(রিক্সা)

এ রিক্সা! পারিজাত লেক, কত নিবি? বিশ টাকা ভাড়া আছে। চল।  তাড়াতাড়ি চালাস একটু, একটা কাজ আছে।  আচ্ছা বাবু, জলদি পোঁছে যাবেন, শট রাস্তা আছে।  হ্যাঁ।  আবার ফিরবেন নাকি? না রে, দেরি হবে।  আচ্ছা।  রিক্সা চলছে, কাগজটা খুললাম। টুক করে ভিতরের পাতাটা একটু দেখেনি।  হাঃ! জানতুম!  কিছু বলছেন বাবু? না তোকে না। কিন্তু এটা তোরও জানা উচিত, কালকে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।  কি করে? সে জানি না, কাগজে লিখেছে। আর আমি অত ডিটেইলে খবর পড়ি না। হেডলাইনটা পড়লুম, বাকিটা চায়ের দোকানের আলোচনায় বেরিয়ে যাবে। যাক মূল ব্যাপারটা হচ্ছে, কালকে পৃথিবীর শেষ দিন, তোর আমার সবার শেষ।  কেন বাবু?  কেন কি করে জানব, কাগজে লিখেছে তাই।  তারপর কি হবে? তারপর কি হবে মানে? শেষ মানে সব শেষ, তার আবার পর কি? মানে শেষ হবার পরে কি হোবে বাবু? আরিহ! বলছি সব শেষ, আবার পরপর করছে! মরার পর যা হয় তাই হবে।  সব মরে যাব আমরা?? হামি ভি? হা তু তো খাস করকে!  খচ্চর হাসি হাসলাম খিক খিক করে।  রিক্সাওলা হঠাৎ প্যাডেল করা বন্ধ করে দিল।  সব শেষ হয়ে যাবে বাবু? কিন্তু তাহলে এতো দিন যে হামি ...

রিফিউজি

ভাবলাম আজ দিনটাকে খুব কাছ থেকে দেখবো ধূসর কাগজ ওড়াবো শীতের প্রত্যেকটা শুষ্ক বাতাসের কণা মুখে লাগাবো কিভাবে আরেকটু বেশী বাঁচা যায়? কিভাবে সময়কে আরেকটু সময় দেওয়া যায়? একটু আটকে রাখা যায় মুহুর্তগুলো ওইসব তুম হাম হাম তুম মার্কা প্রেমে আমি বিশ্বাসী ছিলাম না কোনদিনই দরকার মিটিয়েছি শরীরের দরকার যা এখনও দরকার কিন্তু তা বাদ দিয়েও কি কিছু ছিল তবে? দেওয়া নেওয়ার হিসেব মিটে যাওয়ার পরও কি মনে পড়ে? আজ দিনটাকে খুব কাছ থেকে দেখলাম ধুসর কাগজের দিন স্মৃতি উড়ছে সুখি মানুষেরা পিকনিক করছে বিরিয়ানির গন্ধে ধুসরতা ফুসরতা নস্টালজিয়া মস্টালজিয়া সব ফুঃ হয়ে যায় আমিও চেষ্টা করি কত এদের মত হতে বিশ্বাস কর, মন থেকে চেষ্টা করি ফাঁপা মানবদের আমি ঘেন্না না, হিংসে করি ওদের মত হতে চাই, পারি না তাই সুখ স্বপনে আর জড়তায় জোরে জোরে কথা বলা আর হাহাহিহিতে হিন্দি গান ফাটিয়ে চালিয়ে সিটি দেওয়াতে ভদ্রতার ভেক ধরে লেংটামিতে কবিতায় কেবল নিজের দুঃখ বাড়ানো বুঝলে কিনা? কবিতা মানে নিজেকে নিজের দুঃখের কথা মনে করিয়ে দেওয়া  মনের দরকার দেওয়া নেওয়ার খেলা  প্রেম আর কবিতা বেশিদিন কোনটাই সুখকর না রোজকার জন্য ভালো খাওয়াদাওয়া, হাহাহোহো আর মা...

ফ্যাতাড়ু

লেখ ফ্যাতাড়ু লেখ সময় যে পেরিয়ে যাচ্ছে কবে লিখবি এতসব প্রত্যেকটা চিন্তা, প্রত্যেকটা স্বপ্ন নেশার ঘোরে সব হারিয়ে যাচ্ছে চিন্তা দুঃখের সাগর ভেসে যাচ্ছে সব লেখ কাঙাল লেখ তোর আর কি আছে ডাইরিটা ছাড়া।  হেগে দে সব ওতে সময় যে যাচ্ছে চলে দেখতে দেখতে তরুণ কবি মধ্যবয়সী হতে চললি যেভাবে ক্যালেন্ডারহীন জীবনযাপন তোর দিন নেই রাত নেই আজ নেই কাল নেই না রবি না সোম একটা গোটা জীবন যেন কারুকার্যহীন, লাম্প অফ সয়েল গোবর থাবড়ে দেওয়া দেওয়ালে শুকোচ্ছে পুড়ছে হাসছে  কবে জ্বলে উঠবি? সব ফেলে দে সব সব ফেলে দে সব খাওয়া নাওয়া ঘরবাড়ি রান্না বিল জমা দৌড়ে পালা না কুঁড়েটা কেউ কি নেই তোর? কিছু কি নেই তোর? মেধাটা? ওটা খাওয়ায় না কবিতা লিখে কামায় না। 

শূণ্যতা

ভালোবাসার মধুর বেদনা না এ ভালোবাসাহীনতার বেদনা এক নিঃসঙ্গ জীবনে কাউকে ভালো না বাসার বেদনা তাই আমি সেইসব লোকেদের কথা লিখি যারা কাউকে ভালোবাসতে পারলো না যাদের কে কেউ ভালোবাসলো না ভালোবাসতে দিল না আমি লিখি আত্মঘাতী বোমারুদের গান যারা পরজীবনে সুখের আশায় ইহজীবন করল ত্যাগ তাদের পরজীবনের খোয়াব দিয়ে বোকা বানিয়ে নিল কিছু লোক তারা তারপর ফেটে ছারখার হয়ে টুকরো টুকরো ছড়িয়ে পড়লো... পরেরদিন একটি সন্ত্রাসীর মৃত্যুতে কিছু লোক খবর বানালো কিছু লোক পড়ে হাসল কিছু লোক শুধুই পড়ল জান্নাত? জাহান্নম?  আমি ধর্মের ঢাক বাজাই না প্রেম ভালোবাসার গান লিখি না আমি লিখি এইসব ছেলেদের কথা ১৪-১৫-১৬-১৭ জান্নাতি পরির সন্ধানে যারা বেলুন হয়ে ফেটে গেল ভালোবাসাহীন এক রুক্ষ মরুজীবনে হুজুরের দেওয়া মুজাহিদ এর সম্মান  সে যেন গলে গেল হুজুরের কথায় দিয়ে দিল জান হুজুর তারপর ৭২টা নারী নিয়ে হারেমে আয়েস করল আয়াত মুখস্ত বলে নাম কামাল আমি এই ফেটে যাওয়া মুজাহিদদের কথা লিখি কারণ আমিও সেই একই পথের পথিক  দিশাহীন শূণ্যতার কবি...

সংস্কৃতি ২

জড়াজড়ি দেখে বড় কষ্ট হয় আমি এক ক্রিপ্টো তালিবানি হিন্দু হিন্দুত্ব বলি কারণ ওটা লেটেস্ট বৈষ্ণব পদাবলী, অনঙ্গ রঙ্গ কিছুই পড়িনি গণধোলাই ইজ দ্য গ্রেটেস্ট!  প্রেম ফ্রেম চুমু জড়াজড়ি চলবে না হাগুমুতু পথে ঘাটে রেপ ফেপ মাঝেসাঝে ঠিক আছে  আমার মেয়ে বউকে তুলে নিয়ে গেছে ওপারের মৌলবাদি স্বজনে আমি সেকুলার তত্ত্বে তখন প্যান্টে হাগু করেছি গোপনে।  কেন তুমি বোঝো না, তোমার মত আমার জোটে না! হিংসে কি হতে নেই, একি অন্যায় কথা!  একেই দাঁড়ায় না, তার ওপরে নিজের ছেলেটাকেও দেখতে পাশের বাড়ির চাচার মতন এত রাগ, এত আস্ফালন, কি করে করব দমন? না হে ছোকরা ছুকরি আমার সামনে এসব চলবে না সবার অন্তরালে টুক করে সানি লিওনি দেখে নিও কিন্তু সবার সামনে সম্মান না দিলে হবে না গুরুজন কিন্তু আমিও। 

সংস্কৃতি

জোয়ান কালে অনেক করেছি হাল্কা ফুলকা ভিড়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি ম্যারিটাল রেপ, ফিল্মী কায়দায় গান গেয়ে ইভটিজিং ভালোবাসা পাইনি কখনও কারণ ইতরামি অবসর দেয়নি তাই তোমার ভালোবাসা কি সহ্য করতে পারি? নচ্চার নাম্বার ওয়ান আমি কিন্তু তাতে কি? সম্মান তো দিতেই হবে বয়সটা যে বেশি! কটা বসন্ত বেশি দেখেছি পৃথিবীর অক্সিজেন নষ্ট করেছি এখনও সুযোগ পেলেই  টুক করে মেয়ের বয়সীদের বুকে কনুই ঘষি কিন্তু তা বলে প্রকাশ্যে জড়াজড়ি ছিঃ ছিঃ!  জোয়ানরাই সব মজা নিলে আমরা বুড়োরা লেডিস সিটে কি করতে বসি? হবে না হবে না খেলবো না এটা ভারতের সংস্কৃতি! ঘোমটার তলায় খ্যামটা যত খুশি প্রকাশ্যে করলেই গণঘুষি!

সভ্যতা

 হাজার হাজার জন্মের একটা মুখ সর্বংসহা জীর্ণ শীর্ণকায় কালো মাটির রং আদিবাসী জংলী কাক! একটা বেতের লাঠি আর জোয়ান পুত্র তার যষ্টি, শহরে এসেছে চোখ দেখাতে, আদিবাসীরা চশমা পরে?  দেখিনি কোনদিন। কত জন্মের একটা শীর্ণকায় মুখ সর্বংসহা আদিবাসী হয়তো আমার গতজন্মের মায়ের মত দেখতে লালমাটির উপত্যকায় রুক্ষ সুক্ষ রুটি আর জল এই যথেষ্ট জীবন ধারণের জন্য শুকনো ধুলো ওড়ে দুপুরের ছাতিফাটা রোদ্দুরে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরে নাকি এখন টালি বা এসবেস্টস বসিয়েছে? রুক্ষ সুক্ষ রুটিতে উনুনের গন্ধ সেই কত জন্মের কথা ছোট ঢাকনাওয়ালা হাঁড়ি লাল চালের ভাত সেদ্ধ হয়ে ধোঁয়া ওড়ে সাদা হাল্কা ফ্যান পড়ে  আশেপাশে বাঁশবন আছে সেখানে একগাদা ঝুল আর মশা পাখিগুলো সকালে আসে বেশি  সর্বংসহা আদিবাসী ইলেক্ট্রিসিটি রানিং ওয়াটার পায়নি এখনো ডোবার অপরিশোধিত জল তাই দিয়েই ধোয়া খাওয়া দখিনা বাতাস বইলে দাওয়ায় বসে থাকে ছেলে টুকটাক কাজ করে  চশমা পড়ে নতুন দিন দেখবে সে...

যোগ্যতমের উদ্বর্তন

যদি একটা সাধারণ মেয়ে না হয়ে হতাম থ্যাচার বা উইনফ্রে? তাহলে কি পারতে "চোপ মেয়েছেলে" বলে দাবড়ে দিতে?আমি জানি ভালো হলেই এই দুনিয়ায় চলে না জোর যার, সেইই করে নিয়মপ্রণয়ন।  একটা ছোট্ট বিড়াল না হয়েবাঘ হতাম যদি,তাহলে কি পারতে লাথি মেরে তাড়িয়ে দিতে? খিদের জন্য লাথি খাওয়া বাঘকে মানায় না বাঘ ছিঁড়ে খেয়ে নেয় দুর্ভাগ্য কেবল দূর্বলের জন্য।  যদি নেড়ি কুকুরছানা না হয়েহতাম বিলিতি ল্যাব বা বুলডগতবে কি পারতে বস্তায় ভরে পাচার করে দিয়ে আসতেএকটুখানি শিশুকে মা ছাড়া, ঠান্ডায় তিলে তিলে মরতে? যদি পথবাসি না হয়ে হতাম রিটায়ার্ড আইপিএসতাহলে কি তোমার দোকানের সামনে আসার জন্য বুড়োটাকে "এই যাঃ" বলে তাড়িয়ে দিতে? পেটের দায়ে লাথি খেতে আসে দুনিয়ায় বিড়াল থেকে মানুষ  আর কিছু জীব আসে ভাগ্য নিয়ে বাঘ হয়ে বা বড়লোক হয়ে। 

সমাজবাদের প্রহসনে

চাঁদস্নাত জ্যোৎস্নালোকে মাংসের গন্ধ পাই তেল ঘি মশলায় মাখামাখি  পাশে ভাতের খালি হাঁড়ি তারার আলো চিকচিক করছে তাতে "তোর হবে শুয়োরের বাচ্চা!" আজকে রামধেণু উঠবে বিনা মেঘে রাজনৈতিক মানুষ আমি নই যদিও বাস্তব থেকে দূরে রাখো আমাকে। 

সাব্জেক্ট

স্বর্গের অপ্সরা সাজবে তার জন্য লিপস্টিক, পাউডার, মাস্কারা মানুষের দুনিয়ায় নরক দেখে যায় প্রাণীরা তোমার কোমল ত্বকে যাতে র‍্যাশ না বেরোয় সেই জন্য একটা গোটা জীবন খাঁচায় কাটিয়ে দেয় ওরা ইঞ্জেকশন, এক্সপেরিমেন্ট চোখ কান খোঁড়া  ভয়ে পাগল বাঁদরটা তুমি ওষুধ খেয়ে ভালো থাকবে তার জন্য নরকযন্ত্রণা সহ্য করে বিগেলরা মানুষের দুনিয়ায় নরক দেখে যায় প্রাণীরা।  আমাদের জন্যই তো সব যত আহ্লাদ আনন্দ পদদলিত মানুষেরও রাগ মেটাতে প্রাণ খোয়ায় কুকুর বেড়াল ছাগল মুর্গি শূকর গরুরা জন্মেই কেড়ে নেয় মাতৃক্রোড় থেকে পুরুষ বাছুরটা বাইপ্রডাক্ট মানে লস তুমি চিজ দিয়ে পিজ্জা খাবে বলে আর করবে পনীর বিলাসিতা। তুমি ওমলেট খাবে বলে ওদের ডিম দেওয়া তুমি বিরিয়ানি খেয়ে মাশাল্লাহ বলবে বলে ওদের হালাল হওয়া তুমি পুজো দিয়ে পূণ্য কামাবে বলে ওদের হাঁড়িকাঠে গলা না হে মানবশিশু তুমি যত দুর্ভাগাই হও না কেন তবু তুমি রাজা মাছ তড়পায় জালে, মুখে ছিপ-বঁড়শি গাঁথা  ছাল ছাড়িয়ে ফিলে করে ফিস ফ্রাই হবে না হলে মদের আসর যাবে বৃথা।  এত রক্ত এত কান্না এত অসহ্য যন্ত্রণা তুমি শুনতে পাচ্ছো না কেবল মানুষের কান্নাই কানে ঢোকে? না তাও অবশ্য ঢোকে না প্রকৃতি...

সার্বজনীন ভোটব্যাঙ্ক

গরীব মানুষরা সার্বজনীন ভোটব্যাঙ্ক।  কে না করে গরীবির রাজনীতি?  খিদেয় জ্বলে পেট, রাজতন্ত্র, পুরোহিততন্ত্র আর ডেমোক্রেসির খাজনা স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে তৃতীয় বিশ্বের মানুষ  আর স্বপ্নের সওদাগররা  শ্রেণীহীন সমাজের স্বপ্নের বদলে কেনে ভোট। এদের ক্ষমতায় থাকা নির্ভর করে মানুষের গরিব থাকার উপরে গরিবি না থাকলে গরিবের ভোট ব্যাঙ্ক থাকবে না রাজনীতি কঠিন হয়ে যাবে কঠিন হয়ে যাবে বাওয়ালে মাল কামানো কিছু মানুষ হদ্দ গরিব না থাকলে কিছু মানুষ টাকা ওড়াবে কি করে?

সুইসাইড নোট

 জীবনটা খুব বিরক্তিকর হয়ে উঠছে সব কিছুতে বিরক্ত লাগে খাওয়া, না খাওয়া, সেক্স সেলিবেসি পেচ্ছাপ, পায়খানা, চান দাঁত মাজা,  মুখ ধোয়া ঘুম, জেগে থাকা সব কিছু কাজ তো বটেই জীবনের কয়েদি হয়ে বেঁচে আছি কেবল অপেক্ষা কিসের অপেক্ষা? কিছুই তো নেই যা চাই যা কিছু চাইতাম কিছুই আর চাইনা চাইলেও পাবোনা  যে দুনিয়াটার স্বপ্ন দেখতাম আদপে সেই দুনিয়াটা নেই অাদৌ ছিল না কোনদিন সেইটা সেই বয়ঃসন্ধিকালেই শেষ কিছুই করছি না কিছুই করতে ইচ্ছে করছে না কিছুই চাইছি না এমতাবস্থায় বেঁচে থাকার মানে কি?  সময়ের বন্দি হয়ে? জীবনের অপরাধী হয়ে নিজের ভুলের কয়েদখানায় না, ভুল না ঠিক বুঝতে পারিনি বুঝিয়ে দেওয়ার কেউ ছিল না থাকলেও তার কথা শুনিনি বুঝিনি দুনিয়াটা সবার জন্য নয় ওইসব বলার কথা শান্তনা দেওয়ার কথা আসলে দুনিয়াটা গুটিকয়েক লোকের জন্য তাদের জন্য সব বাকিদের কিছুই নেই এটা বোধহয় প্রকৃতির ডিস্ট্রিবিউশন প্রবলেম না হে না, নিহিলিসম্ না পেসিমিসম্ না যতই টার্মিনলজি বানাও আখেরে নতুন কিছুই বলতে পারবে না কারণ কিছুই নেই বলার সত্য কেবল মেডুসা  সত্য কেবল সিসিফাস  তোমার আছে কেবল আঁতলামি বাংলার মাঝে মাঝে প্রপার ইংলিশ প্রনান...

ক্ষুধার দেশে

- কবি সুকান্তর জন্য (কবি সুকান্তর জন্মদিন স্বাধীনতা দিবস বলেই বেশী পরিচিত। তাই ১৩ই মে তার মৃত্যুদিবসে কেবল তার জন্যই এই কবিতা। অদ্ভুতভাবে তার মৃত্যুসালও ১৯৪৭, যে বছর আমরা "স্বাধীন" হই।) ধুসর কুয়াশা মাখানো পাউরুটির ধোঁয়ার গন্ধ খিদের পেটে তো চাঁদকেও খাওয়া যায় হে সুকান্ত! তবে কিছু লোক যে আমাকে বলে ববর্র? কিছু লোক যে বলে নৃশংস? যখন এক সপ্তাহের বাসি খিদে কাচতে আমি ঝাঁপিয়ে পড়ি কোন ভেড়া ছাগলের মাংসে... তারপর শুরু হয় প্রতিক্ষা পুনরায় পেট খালি হওয়ার, এ খিদে দানব কুম্ভকর্ণ! এ খিদের তৃপ্তি নেই... তবু ওরা যে বলে আমি "cruel"? আমি ক্ষুধার্ত! পেটের জ্বালা উঠলে না থাকে দাম মরালিটির না করে তৃপ্ত নারীর পারফিউম, এক বেলা খেতে না পেলেই যখন মেজাজ খিঁচড়ে যায়, তখনই উপলব্ধি করি তোমার কাব্য, খিদের পেটে চাঁদকেও ঝলসে খাওয়া যায়  তখন সবই খাদ্য হে সুকান্ত।

সেকেন্ডের কাঁটা

  এইভাবে একটা একটা দিন করেই সব দিনগুলো শেষ হয়ে যায় ঘড়ির ব্যাটারির সাথে সময় থমকে যায় সেই যে থমকে দাঁড়িয়ে আছি আমি আর নড়ছি না কিন্তু রাত্রি আর জোয়ার যাচ্ছে আসছেতুমি আর আসছো না। প্রত্যেকটা দিন বাঁচা হয় না আরএকটা ক্যালেন্ডার হীনউইকডে উইকেন্ডহীন জীবনএকটা লক্ষ্যহীন অপরিকল্পিত বেঁচে থাকানা প্রত্যেকটা দিন বাঁচা হয় না আরএক দিন অন্তর অন্তর বাঁচাবা সপ্তাহে একদিনতুমি কি আর আসবে না? না মাল খেয়ে কবিতা লিখি নাদেবদাস হয়ে কি করব? জীবনটা চালাতে হবে তোতেল-নুন সব ফুরাই, মাস গেলে বিল আসে বিদ্যুতেরএগুলো দেব কি করে বাওলামো করলে সারাক্ষণ? তাই অবসর সময়ে কেঁদেকেটে নিগান শুনিব্যস, আর কিছুই নেইআর কিছুই নেই।তুমিও আর আসবে না। আহা প্রথম প্রেম প্রেম গন্ধকত আহ্লাদ কত আইসক্রিম কত হাত ধরাধরি "সিগারেট খাবা না!""আমায় ছেড়ে যাবে না তো কোনদিন?"সব ঢং ছিল ঢংএখন সরকারি কেরানির সাথে হানিমুন ইন মানালি। তোমার আর না আসাই ভালো। একান্তই যদি আসতেই হয়ঘড়ির ব্যাটারিটা সাথে নিয়ে এসো মনে করে। 

সেরাফিম

তোমার প্রব্রজ্যার একাকীত্বে মৃত্যু হয়ে এসেছি আমি আজ তোমার জন্য প্রকৃতি আরও সবুজ আজ পৃথিবী আরও সুন্দর আজ যেন সবাই ডাকছে তোমায় আর তোমার ইচ্ছে করছে সকলের সাথে থাকতে কিন্তু এমনিতে প্রাইভেসি পছন্দ করো তুমি।  জানালা দিয়ে সূর্যালোক এসে পড়েছে তোমার গালে যেন প্রথমবার এই আমেজে একটা ভালো বই আর একটু চা-কফি বেশি কিছু চাওনি এ জীবনে একটু পড়বে, একটু লিখবে কিন্তু পৃথিবী বেশি সময় দেয় না একটা মানুষকে  মাত্র কটা বছর তার মধ্যে যেটুকু যা করার, যেটুকু যা হয় সবকিছু এক জীবনে যে করতে চেয়েছো তুমি তাও নয় কারণ তুমি পূণর্জন্মে বিশ্বাস করো এক জন্মে সব করে ফেললে পরের জন্মে থাকবে কি? কিন্তু এখন শিয়রে তোমার অনন্ত সমুদ্র এক বিস্তীর্ণ কালো আকাশ"সত্যি আবার জন্মাবো তো? নাকি...লাইটস আউট...অবলিভিয়ান!"  দিনগুলো বড় তাড়াতাড়ি যায় তোমার এই তো গতকালই ছিল, আজ ক্যালেন্ডারে দেখাচ্ছে এক সপ্তাহ হয়ে গেলকিছুই তো হলো নাকেবল পড়ে পড়ে আকাশকুসুম ভাবা ছাড়াএকটা গান সেই কবে থেকে ঘুরছে মাথায়জন্মাতরের গানআবার জন্মানোর গানএকটা নতুন জীবনের গান, নতুন করে শুরু করার গানএ জীবনে বেঁচে আছে কেবল স্মৃতিআর স্বপ্নহাত পেতে চাই তোমাকে, শেষ বেলায় ন...

অন্ধের দেশ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করি আমি যে দেশে নামটা ঠিক থাকলে সাত খুন মাফ সেই কারণেই চোখে পট্টি বাঁধে কানুন দেখা গেলেও, যা দেখতে চাই না তা দেখব না।  আছো তো ভালোই ভাতে ভাত মাঝে মাঝে আঁতলামো আর মস্তিষ্কহীন বক্রহাসীতে নিজেকে নিজে চালাক জানলেই হল সব ঠিক আছে, অন্যের ক্ষতিতে আমার কি!  আমার বেলায় শুনি শিল্পীর কোন জাত নেই, ধর্ম নেই দারুণ কথা, সত্যিটা তাই নিশ্চই কিন্তু শিল্পীর নাম গুলাম আলি হলে,  ""ওদের" মধ্যে গুণি মানুষের অভাব নেই!" "ওদের" -  কাদের?  যাদের খুশি রাখতে হবে,  যাদের সদা ভালো বলতে হবে না হলেই দাঙ্গা লাগবার ভয় নিরপেক্ষতার নামে তাদের অত্যাচার মেনে নিতে হবে হাজার বছরের নিয়ম তাই।  যেখানে তারা সংখ্যাগুরু সেখানে তারা তো মারবেই শক্তের ভক্ত আর নরমের যম দুনিয়া চিরকাল,  গরু গাধা যতই কাজের হোক তারা গালাগালি আর প্রশংসাসূচক বাঘ-সিংহ হিংস্র প্রাণী।  শান্তির ধর্ম - কিরকম? "সুখ স্বপনে শান্তি শয়নে" সেই শয়নগৃহের চিরশান্তি  লক্ষ কাফের মালাউনের পচাগলা লাশের শান্তি ধর্ষিতা হিন্দু নারীর রক্তাক্ত যোনির শান্তি মন্দির বিগ্রহের টুকরো টুকরোর শান্তি বাংলাদেশের হিন্দু...

অমরত্বের সন্ধান

 তালপাতা, জাম বাগান, সোনালী রোদ্দুর সন্ধ্যার নিষিদ্ধ হাতছানি অবুঝ আবেগ বন্ধুত্ব মারপিট জীবন থেকে কোথায় হারিয়ে গেলাম আমি নিজেকে একটা ঘরের মধ্যে দেখছি শাস্তি কাটাচ্ছি তোমার শরীরের গন্ধ মাঝেমাঝে স্মৃতিতে ভাসে অমরত্ব কে না চায় প্রেয়সী? আর যে পায়, সে কি চায়? না সোনালী রোদ্দুরের বিকেলগুলো হারিয়ে যাওয়াই ভালো স্কুল ফেরত রক মিউজিক লুকিয়ে ছুপিয়ে  সবাই মিলে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে এক দু ঘোট মদ খাওয়া বাড়ি এসে আবার প্রেমিকার এসএমএস এসব চিরকাল না থাকাই ভালো বন্ধু না হলে রোজ বাসি হয়ে গন্ধ ছাড়বে। 

মাঝি

আমার কাছে জন্ম মৃত্যু দীন আর রাতের মতই দৈনন্দিন ব্যাপার কতবার যে আমি মরেছি কতবার যে আবার ফিরে এসেছি সকালের সমুদ্র আর রাতের সমুদ্রের মতই দিন ও রাত্রি সকালের সমুদ্রে জলকেলি করার মতই শৈশব আর দুপুরের সমুদ্রস্নান যৌবন সন্ধ্যার সূর্যাস্তের মত বার্ধক্য আর তারপর রাত্রির সমুদ্রের কালো জল মিলিয়ে যায় কালো আকাশের দিগন্তে সেটাই মৃত্যুর ইহজাগতিক দৃশ্য সঞ্চারীর সঞ্চালক সে এক শীর্ণকায়া মাঝি অন্ধকারে মিশে থাকে তার কালো দেহ  বহুদূর থেকে সে হাল বায় বহুদূর থেকে সে হাল বায়  

জল

জল সব ভুলিয়ে দেয় থরথর খলখল জল, খালি জল আর জল হাবুডুবু খেয়ে মরার সাধও তো জাগে কদাচিৎ সব ভুলে পিছুটান কারণ মরণ তো চাওয়া না-চাওয়া সমান ধুর এসব বালের তত্ত্বকথা জল সব ফিরিয়ে দেয় বেগবতী স্রোতস্বিনী জল আছড়ে পড়ে পিছিয়ে যায় সব ছুঁড়ে ফেলে দেয় কেন, কেন তবে এই মন চাওয়া না চাওয়া? আরেকটা ঢেউ আছড়ে পড়ে।

অমৃত চোর

কবিতার সৃষ্টি অলসতা স্বপ্নে জ্বলে চিতা  ঘুম নেই, বিদায় মূহুর্তে মিউসিক্যাল চেয়ার খেলে ভাঙনের যন্ত্রণা কবিতা নানা ফেরা বোধহয়, নাকি বোধ ফেরা এত ভাবনার অবসরও এক বিলাসিতা।  না দিন না রাত ইয়াউইর বাগানে পাপাচারীরা করে নতুন পৃথিবীর বাত জন্মায় আরশোলা, আগুন আর রক্তমাংস রান্না  হারানোর গান গায় নৌকা বালুচরা ডাকে আমার স্বপ্নের পৃথিবী.... শেষ পরিত্রাণে একটা সন্ধ্যাদীপ থাকা অথবা না থাকা  প্রতিবিম্বের দূরত্ব মাপা অদ্ভুত শপথ অদ্ভুত হাওয়া, চলে যায়                                        বয়ে যায়                                              ...

আঁধারের গতি

অাঁধারের গতি কালো একটা মহাকাশের বেষ্টনীর মধ্যে কতগুলো ছোট ছোট লাইট জ্বালিয়েছি আমরা রাস্তাঘাট আলো করতে কিন্তু পৃথিবীটা যদি কেড়ে নেওয়া হয়? এই আলো কোথায় যাবে? তারারা হয়তো সব মরে গেছে জ্বলে গেছে পুড়ে গেছে এখন কেবল শেষ নিঃসৃত কিরণগুলো আসছে অপেক্ষা... এই বুঝি শেষ হয়ে গেল তারপর পুরো কালো। কালো আকাশটা ঘিরে আছে শহরটাকে কতগুলো কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে আমরা নিজেদের ভোলাচ্ছি "আলোই সত্য, আলোই শিব" ঘোর অন্ধকার কালী দেখছে তার লোল জিহ্বা সাদা দাঁতে অট্টহাস্য কালোয় কালো গহ্বর গিলছে আলো আমরা আলোর গতি নিয়ে থিওরি বানাচ্ছি কতগুলো কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে আমরা নিজেদের ভোলাচ্ছি।

শেষ জীবন

মানুষের শেষ জীবনটা একদম ফাঁকা খিদে লাগে না কাম জাগে না ইচ্ছে অনিচ্ছায় পরিণত হয় মনে হয় একটা শরীরকে জোর করে ওষুধ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে আত্মার জন্য কয়েদে পরিণত হয় দেহটা।

তুমি এসো

বৃষ্টি পূর্বের ঝোড়ো বাতাসে যখন প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতির ঝড় ওঠে আকাশ কালো করে তুমি এসো নতুন করে প্রেম ফ্রেম না, শুধু স্মৃতিটুকু নিয়ে এসো। ছবি আঁকিনি কবিতা লিখিনি শুধুই বৃষ্টি পূর্বের ঝোড়ো বাতাস কালো আকাশটা মাথায় নিয়ে আমি যাবো তোমার কাছে।

মসিহা

কত না বনবাদাড় পেরিয়ে গেছি গতিশীল ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গেছি প্লেন থেকে ঝাঁপ দিয়েছি, ভিসা ছাড়াই নেমে গেছি অচেনা দেশে প্যান্টালুনের প্যারাসুটে। জংলি আদিবাসী, অসভ্য ল্যাংটো ট্রাইবালদের সাথে মিশে গেছি কই ওরা তো আমাকে অপমান করেনি! নোংরা, গরীব, তথাকথিত নিচু মানুষের মাঝে মানুষে মানুষে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে জাত পাত জাতি বর্ণ তোমরা আজও সেইভাবে বাঁচছো যেন কোনদিন মরবে না টাকা জমাচ্ছ, রিটায়ারমেন্ট কে বাদ দুনিয়া দেখেঙ্গে প্ল্যান নিচু মানুষদের ঘেন্না করে দূরে সরিয়ে রেখেছ অথচ যেকোন মূহুর্তে এই দুনিয়াটা মিথ্যে হয়ে যেতে পারে তোমরা আছো নিজেদের কুকুনে যেটুকু জানো তাতে সন্তুষ্ট হয়ে অথচ এত রকমের মানুষ... প্যান্টালুনের প্যারাসুটে নেমে গেছি জংলি আদিবাসী,অসভ্য ল্যাংটো ট্রাইবালদের মাঝে মসিহা হয়ে ওরা আমাকে বর্শায় গাঁথা মাছ আর আম খেতে দিয়েছে গাছের পাতায়।

সাগরপাখি

ঝিঁঝি পোকাদের পুজোপাব্বণ নেই ছুটির দিন, উইকডে নেই উইকএন্ডে আউটিং নেই রাতভর অন্ধকারকে সঙ্গ দেওয়া। তখন ছিল অবুঝতার বয়েস আবেগ নেই, ছিল আবেগের মিমিক আজ রক্তে অনুভব করি কবিতার ভাষা। সমুদ্র ডাকে আমায় আয় চলে আয় এ জীবনে মহাকাল কিছু রাখেনি তোর জন্য। তবু রয়ে যাই, দিনবদলের আশায় বিশ্বব্যাপী লক্ষ্যহীন পায়চারিতে চমকে উঠি ঠিকানা খুঁজি যেখানে থাকি সেখানকার। মিথ্যা পরিচয়ের ভিড়ে মিশে যাই ভিড়ের ভাষায় কথা বলি তারা অবাক হয় এ আবার কে? ডানাহীন সাগরপাখি খাঁচা খোলার অপেক্ষায়।

হিরণ্যকশিপু

পাথর সেদ্ধ হলে ফ্যান গেলে নিও,ছেলেমানুষ ভুলে যেও না গাছের নিচে পাতার শোকে মরা পোড়াতে চাই না, কারণ কথা বলে। এই দীর্ঘ সংসারের জামা কতদিনে ছেঁড়ে? তবে সেলাই না, আমি নতুন চাই সময় হয়েছে, তাই ভিক্ষা করতে বেরোই এই পরিশ্রম দেখে মানুষ ভয় পেয়েছে। হিরণ্য জলে তোমার স্মৃতিবাহী চেতনা ভেসে যায় কি জানে কোন স্রোতে জীবনের ক্লান্তি, ভিক্টোরিয়ান মরালিটি কাছে এসে যায়, কাছে আসো না তুমি। আমি মৃত্যুর পাতে ফল-বাতাসা-চন্দন-মিষ্টি দিয়েছি প্রসাদ করে দিও কাপড় শুকিয়ে গায়ে, আমার জটিল সন্তান ছেলে-ভোলানো ভুলিয়েছি তোমাকে সহজ ছড়ায় কিছুটা প্রীতিভাজনেষু হলাম বুক পেতে দেখলাম ইচ্ছামতী ধুয়ে গেল বালিতে করা প্রাসাদআগুনে পুড়ল পায়ের দাগ। ভয় পিছু নিয়েছে লজ্জা নেই তাই কারণ নেই, অকারণও নেই আমাকে দাও তুমি, স্রেফ দুকোল। জন্মদিনের কেকে শেকড়-বাকড় কে রেখেছে? জঙ্গলে ঈশ্বরের ঘর কে করেছে? তার অবিচলতা থেকে পরিত্রাণ নাই ইহাই অনন্ত খুকি বিবাহ থেকে বিসর্জন মনে হয়, কিছুই বোঝো না, তবু বলি প্রচ্ছন্ন উপদেশে বেঁচে আছে। বিড়াল যেমন সুদর্শন পোকা ভালোবাসে সংসারী সন্ন্যাসীরাও ভালোবাসা খোঁজে পুরনো দুঃখ জাবর কাটে এপিটাফ শাক্য দাও আরও দুঃখ। বিরহে একা ...