বিরাট স্বরূপ

(*মহাভারতে ঈশ্বরের বিরাট স্বরূপ দর্শন করেছিলেন অর্জুন। কিন্তু ক্ষুধার্ত শিশুরা যারা ঈশ্বরের সবথেকে করুণ, অসহায় রূপ তারা কোন মহাকাব্যের অংশ হয়নি।)

সন্ধ্যা নেমে আসে আর্যপুত্রের শঙখধ্বনীতে,
বিশ্বরূপ দেখান মধুসূদন রাস্তার শুকনো মুখগুলোতে
ক্লান্ত হাত পেতে শৈশবের অধিকার চাইছে,
আমি মহাকাব্যের আড়ম্বর থেকে লুটিয়ে পড়ি কঠোর বাস্তবে। 
যে যুদ্ধের কাহিনী কেউ লিখবে না
যে যুদ্ধে ঘোড়া নেই
গান্ডিব নেই মহারথি নেই
কেবল আছে অভিশাপ, সেল্ফ-ফুলফিলিং প্রফেসি। 
জীবনের অফুরন্ত আনন্দে গা ভাসিয়ে
YOLO যুবসমাজ! 
ঢিনচ্যাক ডিজে,চারিদিকে আলোর অনুষ্ঠান
অন্ধকার আরও আবছা করে। 
ধূপধুনোর গন্ধ দিয়ে ঢেকে দিয়েছি লাশ পচা
ঠাকুরকে মিষ্টি প্রসাদ দিয়ে সব পাপ ধুয়ে নিয়েছি
আর থাকল না তবে কোন অপরাধবোধ
সার্বজনীন আনন্দোৎসবে।
চাঁদা তুলেছি কষ্ট করে
প্যান্ডেল লাইটে তাক লাগিয়ে দিয়েছি
মূর্তির উপরে কেহ নাই
পতাকার উপরে কিছু নাই। 
কিছুদিন জীন্স টি-শার্ট পড়া কৃষকদরদীদের দলেও
যদি সেটাই বাকি থেকে থাকে অঞ্জলি দেওয়ার পরে
কি করব তোমার জন্য?
না অত মহৎ আমি নই, তাই কবিতা লিখেই দায় সারব...সন্ধ্যাপ্রদীপ ডুবে গেছে যৌবনের আনন্দোৎসবে
আমি লুটিয়ে পড়ি একটি শিশুর ভিক্ষার বাটিতে।

Comments

Popular posts from this blog

মাকড়সা

ভূতের সাথে আড্ডা

নিচুজাত