মাংস
[কেউই খাদ্য হয়ে জন্মায় না পৃথিবীতে। প্রকৃতির নিয়মে হরিণ ঘাস খায়, বাঘ হরিণ খায়, মরা বাঘকে শকুন খায়, শকুনের পচা দেহ ডিকম্পোজড হয়ে সেখানে আবার ঘাস গজায়।
কিন্তু কেবল খাদ্য হয়ে কেউ জন্ম নেয় না। একমাত্র মানুষের কনভিনিয়েন্স একটা প্রাণীকে প্রডাক্টে পরিণত করে। মানুষ প্রাণের চাষ করে।
বাঘ শিকারকে পালানোর সুযোগ দেয়। ধরে ফেললে তবেই হত্যা করে খায়। কারণ সে আর কিছু খেতে পারে না। কিন্তু আমরা, অর্থাৎ, শ্রেষ্ঠ জীবেরা খাবার উদ্দেশ্য জন্ম দিই খাঁচায়। সেই প্রাণী খাঁচায় বসে অপেক্ষা করে মৃত্যুর, কখন আমরা তাকে খাবো। যতক্ষণ না খিদে পাচ্ছে সে পরাধীন। আর মুক্তি মানে মৃত্যু।
তারপর পিস পিস করে প্যাকেটে।
গরাদের পানে চেয়ে থাকে সারি সারি মুখ, নাম যাদের খাদ্য...]
সারি সারি মানুষের ছবি
ভিন্ন এক্সপ্রেশন
ছিন্নভিন্ন জীবন
নাম তার মাংস
মাংস নামক এই প্রাণীটির সাথে দেখা করব বলে বাড়ি থেকে বেরোলাম
কোথায় পাওয়া যায় এই প্রাণীকে?
সাউথ আমেরিকার জঙ্গলে?
আফ্রিকার কংগোতে?
নাকি কাছাকাছি, এই সুন্দরবন টুন্দরবন?
না তাকে পাওয়া যায় দোকানে
তাকে বলে মাংসের দোকান
তাকে পাওয়া যায় খাবার দোকানে
ডাইনিং টেবিলে খাওয়ার প্লেটে
সে কোন আওয়াজ করে না
বোবা পুরোপুরি
খুব সুন্দর গন্ধ এদের গায়ে গরম মশলা আদা রসুন পেয়াজের
ঘ্রাণেই মন জুড়িয়ে যায়
আমি কথা বলার চেষ্টা করছি দেখে এক বেয়ারা বল্লো, "স্যার, ওভাবে না, রুটি বা পরোটা দিয়ে কথা বলুন, আর একটু স্যালাড নিয়ে নিন সাথে। তবেই জমবে আলাপ।"
খাদ্যরসিকরা আহা বাহা করে উঠল।
চিকেন, চিকেন উইংস
মটম রেয়াজি
কচি পাঁঠার ঝোল
এরা মাংসের বিভিন্ন প্রজাতি উপজাতি
প্যাকেট করেও পাওয়া যায় - ফ্রোজেন ফুডস সেকশানে
এরা আমাদের খাবার হয়েই ধন্য
এরা খাদ্য হতেই এসেছে
অথচ ককিয়ে ককিয়ে ওঠে কশাইয়ের হাতে
চোখ দিয়ে জলও পড়ে
গরাদের বাইরে চেয়ে থাকে...আলোর পানে
এক এক করে সাথিদের "ড্রেসড" হতে দ্যাখে
ওজন হয়ে প্যাক হয়ে এরা আসে আমাদের সাথে
তেলে ঝালে কড়াইতে যাবে বলে
অদ্ভুত এই প্রাণী নাম যার মাংস...
Comments
Post a Comment