অন্ধকারের ক্যানভাসে
অন্ধকারের ক্যানভাসে ভীতি রাক্ষস খোক্কস আঁকে। যতই বোঝাই, ভয়ের কারণে ভূত, ভূতের কারণে ভয় না, কোথাও একটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এই যে এত বড় ব্রহ্মাণ্ড, এত মাত্রা বা ডিমেনশন, না শুরু না শেষ - আমরা কি একটু বেশিই র্যাশনাল হয়ে যাচ্ছি না?
সত্যিই কি এতই সহজে ২ আর ২ এ ৪?
এতগুলো লোকের চিন্তাভাবনা সব জল্পনা?
আবার ভাবি, হ্যাঁ অবশ্যই তাই!
২ আর ২ এ ৪ নয় তো কি?
আসলে ভয় একটা ইন্সটিংক্ট, একটা নেসেসিটি।
যেমন রাগ, আনন্দ, অভিমান ইত্যাদি ইত্যাদি।
ন্যাকামি ইত্যাদি।
ভয় আসলে মনের সাথে সাথে শরীরেরও খাবার, এই যেমন খিদে আর সেক্স।
মানে ভয়ে মনে আলোড়ন আর শরীর ঠান্ডা, ভারী।
খিদে পেলে যেমন খেতে ইচ্ছে করে বা লালা পড়ে পশুদের বা পেট কামড়ায়।
তেমনি ভয় পেতে ইচ্ছে হলে লোকে ভয় পায় আর ভয় পেলে ভূতপ্রেত এসব দেখে বা ভাবে।
সেক্স জাগলে যেমন লিঙ্গ উত্থিত হয় - কিন্তু কেউ কি জানে এই সেক্স জিনিসটা আসে কোথা থেকে?
মনের অন্তঃস্থল থেকে?
কিউপিড বা এরস (Eros) বা কামদেব ইত্যাদি অজাগতিক প্রাণীদের এর জন্য দায়ী করা হয়, কিন্তু এরা কি কোন রক্তমাংসের জীব না অ্যাবস্ট্র্যাক্ট?
তা যদি ধরেই নি দেব দেবীরা এঞ্জেলরা অ্যাবস্ট্র্যাক্ট্, তাহলে ভূতের ব্যাপারে কেন এত দ্বন্দ্ব? আমরা কি সেক্স উঠলে ভাবি, কিউপিডের তীরটা কোথায় লেগেছে? বা কামদেব কোথা থেকে লুকিয়ে আমাদের উপর কামবর্ষণ করছেন?
অবশ্যই না, তাহলে ভয় পেলে আমরা ভূতকে খুঁজতে যাই কেন? অবশ্যই আকর্ষণ থেকে।
এছাড়া ভয় পেলে, ভয় গ্র্যাটিফিকেশনের আর কোন উপায়ও নেই।
তবে অদ্ভুত লাগে যে খিদের জন্য দায়ী কোন দেবদেবীর নাম আমি শুনিনি। ঘুমেরও দেবদেবী, ভূতপ্রেত, স্যান্ডম্যান ইত্যাদি আছে, নেই কেবল খিদের। যাক গে এই কঠোর বাস্তবতা খিদে নিয়ে আলোচনা করে ভৌতিকতা নষ্ট করব না। আলোচনাটা অন্যদিকে চলে যাবে। সিরাজ থেকে সুৃকান্ত অনেকটা পথ।
Comments
Post a Comment