হুহু ফাঁকা সাদামারা দেওয়ালে সরীসৃপের ফাঁপা, সর্বগ্রাসী গিলে খাওয়া অস্তিত্বকে অস্বীকার করে নিজের লালা, শ্রম, শিল্প দিয়ে মাকড়সাটা গড়ে তুলেছিল একটা ঘর কারোর যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করেনি সৃষ্টি করেছিল এক জালের উপনগরী পুরো ঘরটাই মানুষটার পুরো বাড়িটাই তার দেওয়ালের এক কোণ তবু মাকড়সাকে ছাড়তে পারল না সে তিলতিল করে গড়ে তোলা কারুকার্যময় জালিকাকে ঝুলঝাড়ুতে জড়িয়ে নিল মাকড়সাটা চুপচাপ চলে যাচ্ছিল তাকে ভ্যাকিউম দিয়ে টেনে নিল অথচ প্রত্যহ কত কুমির মানুষকে টেনে নিয়ে যায় তাদের কিছু করতে পারবে তুমি? কুমির হাসে, সে শক্তিমান মাকড়সার গরীব বস্তি ওপড়ানোর জন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে হয় না...
বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দিন দুয়েক ধরে হচ্ছে এরকম, বর্ষা এসে গেল বলে। বর্ষার সাথে সাথে আমার মধ্যে বাঙালিয়ানার বহর বেড়েছে হঠাৎ। কয়েক দিন ধরেই খুব ইচ্ছে করছে এরকম একটা দুর্যোগময় সন্ধ্যায় (এখন দুপুর) একটা ভূতের গল্পের আড্ডা দেব বন্ধুদের সাথে। এইরকম আড্ডা আজকাল বিরল হয়ে গেছে, বিশেষত এই টেকনো-হাব নিউ টাউনে কোথাও এইরকম খাস বাঙালি আড্ডা হয় কিনা আনার জানা নেই। বড় বেশি যান্ত্রিক এই অফিস পাড়াময় নিউ টাউন। হিউম্যান টাচটা পাই না। তার উপরে এখন নিউ টাউনের যেখানে থাকি, সেটা একেবারেই কলকাতার শেষপ্রান্ত। যাকগে, একলা চলো রে! ঠিক করে ফেললাম আজ বন্ধুদের কে ডেকে নিয়ে আড্ডা দেবই। আমি নিজের ফ্ল্যাটে একা থাকি, বাবা মা গত হয়েছেন বেশ কিছু বছর হলো আর আমি বিয়ে করিনি। অতএব কেউ মদ খেয়ে রাতে থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। অন্যান্য দিন রান্নাবান্না করে খেয়ে দেয়ে লাইব্রেরী যাই লেখালিখি করতে। কিছু পত্রপত্রিকায় লেখালিখি করে আর অন্য লেখকদের বই অনুবাদ করে আমার সংসার চলে। সংসার মানে আমি আর আমার কুকুর, শান্তিগোপাল। হ্যাঁ, কুকুরের নাম রেখেছি শান্তিগোপাল। আজ লাইব্রেরি যাওয়া ক্যান্সেল করলাম। মুদির দোকানে কিছু সরঞ্জামাদি বলে দিল...
আমরা মানুষ, তবে ওরা বেশি মানুষ ওরাই সত্যিকারের মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায় আমাদের ঘরকে ওরা বস্তি বলে আমাদের ঘরের সামনে ওরা হেগেমুতে মাটি উর্বর করে দিয়ে যায় সেই উর্বর মাটিতে ফসল কিছুই হয় না আমার ছেলেটা খেতে পায় না আমার মেয়েটাকে বেচে দিল সেদিন যে ক'টা পয়সা দিল, তাতে দুটো মানুষ এক হপ্তাও দু বেলা নুন ভাত হয় নে কো তারপর আবার মুতে দিল আমরা মাটিতে শুইবসি ওদের মুত এসে মুখে ছিটলো তারপর সেই হেগেমুতে উর্বর করা মাটিতেই ভাত খেলাম রোজই খাই যেমন। চকচকে কাঁচের মত কিসব যন্তর ওরা টিপতে টিপ্তে যায় ইস্মাটফোন না কি বলে খায় না মাখে, জানি নে কো আমরাও মানুষ, কিন্তু ওরা অনেক বেশি মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায়। ওদের গৃহদেবতার কল্যাণে ওদের সন্তান থাকে দুধেভাতে আমাদের গরীবের দেবতা নাই ওদের দুধভাত খাওয়া মোটা সন্তানের মুত দিয়ে আমাদের সন্তান থাকে মুতে ভাতে ওদের ভোট হয় বছর বছর ওদের নেতারা আমাদের মুখে মুতে দেওয়ার সুযোগ পায় ভোটের পর আবার মুতে দেয় বছর বছর ফিবছর এই চলে শুধু মুত আর মুত মুতের গন্ধে ভরপুর জীবন একে বেঁচে থাকা বলে না তাই বোধহয় ওরা আমাদের মানুষ মানুষ বললেও ঠিক মন থেকে মানুষ ভাবে ...
Comments
Post a Comment