দিগগজের মৃত্যুদিন
এক দিগগজের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে
বাইরে থেকে সন্দিগ্ধ শবযাত্রীরা এসে বসে আছে
তার পুরুষ জন্ম সার্থক
অচেনা বাগানের প্রত্যাবর্তিত ঝর্ণায়
প্রতিটা গাছ নিয়তি চেনায়।
অমোঘ মৃত্যুর কালো আকাশ
ফুটপাথবাসীর গায়ের নোংরা কালো চাদর হয়ে তাজে ঢেকে ফেলেছে আজ
অস্বস্তি তো হবেই একটু।
মালি গেছে পরস্ত্রীকে নিয়ে চতুরঙ্গে
ভ্রান্তি মুকুরে কান পেতে বসে আছি আমি
প্রেমের ফুল শুঁকছি
অন্ধকার শালবন পিঠের কাছে ছায়ামরিচ
স্থায়ী ঝাউয়ের ডাকে স্বেচ্ছাচারী হৃদয়পুর
কখনও বুকের মাঝে ওঠে মহেঞ্জোদারো
ঠাকুমার আঁচলের খুঁট থেকে মেসোপটোমিয়া ব্যবিলনের বাগান ঝোলে
অনন্ত কুয়োর জলে বৃষ্টি নেমেছে
সন্ধ্যায় চাঁদকে মনে পড়লো
আনন্দ-ভৈরবীর বাড়ির চাবি আছে?
হলুদবাড়ির সরোজিনী কোনদিনই পাবে না তাকে নীল ভালোবাসায়।
একলা পাখি যেতে যেতে বলে গেল
বড় আনন্দের সময় নয় এখন
এ নয় আনন্দের সময়
জাতীর মৃত্যু চায়, অশিক্ষিতের জাতীয়তাবাদ।
বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে স্বপ্নের মধ্যে তুমি, তোমার হাত ধরে মনুমেন্টে চড়ি আমি
অরণ্যের মেসেঞ্জার
লম্পট ময়ুর মেলে পেখম যেখানে।
পুরনো স্মরণিকা জাগিয়ে রেখেছিলো আমায়
একটা বাগানঘেরা বাড়ির চাঁদে
ভারি মজা হোল
সুখের মধ্যবর্তী বিষণ্ণতা ছিল
এই নীল মন্দিরের চূড়ায় দুজনেই আমরা অন্ধ হলাম
সেই অসুখে।
আজ আমার অবসর নেই
তাই একবার তোমার কাছে যেতে পারিনি
পোকায় কাটা আমরা সকলেই
হেরে যাই সনেটের শেষ ছটাকে।
বাঘের জন্য এই পরমাদ
ভাঙা-গড়ার মানুষ
কে যায়, কে কে যায়
কে যায় ভুল না রেখে?
কবিতার সত্যতা প্রমাণ করার সেই অস্থিরতা আছে এখনও
দুই শূন্যে তোমার প্রতিচ্ছবি
কেউ নেই
দুঃখ যদি মনে করে, তবে সে থাকবে
আমার অন্ধ অন্তর-বাহিরে
ভালোবাসা ছাড়া কবির আর কি পাওয়ার আছে?
ভালোবাসার কাঙাল শিল্পী, নিলজ্জ ভালোবাসার তরে
বারবার লাথ খেতে যায়
একদিন সব হবে চাঁদের দেশে
দাউদাউ করে আগুন পড়ে বিরহের পাত্র থেকে জল ছটফটিয়ে ওঠে
গাছে গাছে টাঙানো আছে বসন্তের মৃত্যু
রক্তমাখা কবিতার কিংবদন্তি আজ সকলেই
হতচ্ছাড়া কবির মৃত্যুতে প্যাঁক দিয়ে ওঠে গণ্যমান্য রাজনীতিবিদগণ
আমি সহ্য করি।
দূরে ঐ যে বাড়িটা কার জন্য করেছেন?
আমাদের?
তুমি আছো ভিতের উপরে
দেওয়ালে আমি
মাটির নিচে তাকে জল পড়ে,
স্বপ্নের গাছ বেড়ে ওঠে
পাথর গড়িয়ে যায়
ঐ যে তিনি এসে উঠছেন দ্যাখো, সিসিফাস
তাঁর বিরাম নেই স্বপ্নের।
নদীর পাশে সবুজ-কৈশোর, নীল হৃদয় কিছুক্ষণের জন্য যেন হেঁটে যেতে পারেনিঃশব্দচরণে মৃত্যুও প্রেমের মত
ঐ যে তিনি এসে উঠছেন দ্যাখো, সিসিফাস বিরাম নেই তাঁর স্বপ্নের।
নদীর পাশে সবুজ-কৈশোর, নীল হৃদয় কিছুক্ষণের জন্য যেন হেঁটে যেতে পারেনিঃশব্দচরণে মৃত্যুও প্রেমের মত
ঐ যে তিনি এসে উঠছেন দ্যাখো, সিসিফাস বিরাম নেই তাঁর স্বপ্নের।
আচ্ছা, এবার আমি ফিরি
জানিনা কোথায়, বাবুলের বাংলো থেকে শব্দ আসছে
আজ ওর বাড়ির পুজো
আমরা দুজন ছড়িয়ে বসে মদ গিলবো আজ
একাকী, দুজনে একা, তিনজনে, চার জন...পাঁচ ছয়...নিচে নামছে সিংহাসন
চলে গেলো মানুষের মধ্যে
গণতন্ত্র জ্বলন্ত রুমাল, বাজ পাখির মত নিরামিষাশী
ছিন্নভিন্ন শব্দের ঝর্ণায় মরা সহজ
শিকড়ের কথায় গাছ তোমার নাম
মানুষ সন্ধ্যা নেমে এলো, স্নানের মত একাকী, দুজনে একা, তিনজনে, চার জন...পাঁচ ছয়...
অন্ধকারে স্মৃতির তুলো ওড়ে
চাঁদের কাছে, মাথার উপর নামছে মেঘ
তোমার আমার মাঝে তন্তুজাল
কালচে হ্যারিকেন জ্বলে ওঠে তোমার অনুপস্থিতিতে, ছিঁড়ে যায় ছন্দভাষার বাঁধনে বাঁধি আমি হারিয়ে যাওয়া
অসীমের জন্য।
সমুদ্রের পারে রূপবান মাঝি পাতাল খুঁড়ে পলিমাটি তোলে
তাঁকে সবসময় দেখা যায় না
তাঁকে খুঁজলে পাওয়া যায় না
চিরদিন পাবে না তারে
মিশে গেছে সে কবিতার সহিত
গাছ, মৃত্যুর বিষয়ে আমাকে নাও।
এই দুর্গে কিছু লোক,
মানুষ যেভাবে কাঁদে
নীলকন্ঠ, অভিমন্যু, কর্ণের তরে
এইটুকুই তো জীবন, যাকে পোড়াতে পারে না মানুষ,
তার জন্য কাঁদে
জীবন যাকে পুড়িয়েছে,
মানুষ তার জন্য কাঁদে।
তবে দাঁড়াও তার কাছে
কেন তন্ময়তা, কিসের মমতা?
Comments
Post a Comment