কাগজের ফুল
জঘন্য বেঁচে থাকা
রোজকার যে কাজটা, তার প্রতি বিতৃষ্ণা
তবু তাকে ছাড়তে পারব না
তাই রোজ রাতে তোমাকে খোঁড়া
চামড়ার আরাম খোঁজা
জানি তুমি একদিন তো চলে যাবে
আর সেদিন কি হবে?
জানি, অবধারিত জেনেও কিছু করতে পারছি না
কিছুই বলতে পারছি না
তোমার বিরক্তি বাড়ছে
আমি যথারীতি ঝড়ে পড়ছি তোমার উপর রোজ
জানি একদিন তুমি চলে যাবে
তবুও অবিচলিত আমি।
তারপর একদিন হঠাৎ করে তুমি চলে গেলে
কিছুই যায় এলো না যেন
এমন করে দিন চালাতে লাগলাম
কাউকে কিচ্ছু বুঝতে দিলাম না
কেঁদে ভাসালাম না
চিৎকার করে উঠলাম না
রোজ নিজে রেঁধে বেড়ে খেতে লাগলাম
টিভিতে খেলা দেখলাম
অফিস গেলাম, ফিরে এলাম
সকালে মুখ ধুলাম, চান করলাম, দাড়ি কামালাম। তারপর একদিন হঠাৎ করে এলে তুমি
চিন্তায় চেতনায় তোলপাড় করে
তোমার শরীরের গন্ধের স্মৃতি পাগল করে দিল
উন্মাদনার দিনগুলো মনে পড়ে গেল
যদি একবার ফিরে যেতে পারতাম সেই দিনটায়
আমাদের প্রথম বার
বন্যা হয়ে ঝরেছিলাম সেদিন
তোমার সবচেয়ে গভীরে।
এলার্ম-ঘড়ি বেজে উঠল
আরেকটা রাত কেটে গেছে
দিনের আলোর প্রতি কোন টান অনুভব করি না আর
মনে হয় আবার রাত হোক, একটু মুখ লুকাই
একটু অস্তিত্বহীনতার অন্ধকারে
দরজাটা ছিটকিনি তুলে দিয়ে
ধোঁয়া আর মদে লুকিয়ে থাকি চুপচাপ।
লোকে বেল বাজালেই বিরক্ত লাগে
কাউকে দেখতে চাই না
কিন্তু ওদের যে আসতে হবেই
জল কাগজ দোকানওয়ালা।
তারপর কত বছর কেটে গেছে কে জানে
জ্যোতিষী আয়ু বলেছিল, তার কত বেঁচে আছে গুণিনি
তোমার মুখটা ভুলে গেছি
হাসিটা মনে আছে খালি
তাই আজও ছবি এঁকে যাই।
আমরা প্রকৃতিগতভাবে হিংস্র তাই হিংস্রতা প্রকাশের রকমভেদ খুঁজে যাই
কিন্তু এক দশক কাউকে সব দিয়ে তাকে নিমেষে ভুলে আরেকজনের হয়ে যাওয়া
এ হিংস্রতা বিভৎস সবাই পারে না প্রিয়তমা
কত না লোকদেখানো ভালোবাসাবাসি ছদ্ম ঝগড়াঝাটি... আর আজ...
বরং "কাগজের ফুল, নির্ভুল
থাকে আজীবন, পচে না, ঝরে না, পোকা ধরে না..."
Comments
Post a Comment