Posts

প্যালেস্তাইন (+২)

আরেকটা সূর্য ফেটে পড়ল আকাশ জুড়ে চির অন্ধকার আলোর অস্তিত্বহীন এক দুনিয়ায় ছোট্ট মেয়েটা দুধের শিশু ভাইকে কোলে বেরিয়ে এলো ডেব্রিসের ভিতর থেকে এসে দেখল কালো রক্তের বৃষ্টি হচ্ছে আকাশ থেকে নাকে রক্তের গন্ধ  কূলকিনারা না বুঝে সেও ছোট ভাইটার সাথে হাপুসনয়নে কাঁদতে লাগল ভাইও কাঁদে সেও কাঁদে কেন কান্না থামাতে আম্মি আসবে না? ওদিকে দিদি গায়ে কোলের শিশু আর বোমা বেঁধে চলেছে আল্লাহর কাজে কিছু না বুঝেই মেয়েটা হঠাৎ চোখ মুছে ফেলল কেন জানি না তার মনে হলো আর কেউ আসবে না ভাইটাকে জল খাওয়াতে হবে নিজেও খাবে কালো ধোঁয়া ভেদ করে আবার সূর্য দেখা দিল আকাশে  তুমি আছো?  আমরা যে তব ব্রাত্য, কিন্তু শুধুই আমরা নয় ঈশ্বরপুত্র যিশুও কেঁদেছিলেন ক্রুশের শেষ বেলায় হায়, "ঈশ্বর! আমার ঈশ্বর তুমি কি ভুলে গেছো আমায়!"  ঈশ্বর তুমি কি ভুলে গেছো আমায়? মিসাইলের রেখে যাওয়া ধূলায় ছিন্নভিন্ন দেহের স্তূপ “আমাদেরও কি আছে কোন দাম! কোন ইতিহাস, বঞ্চিতদের গান?”  

মা

কোটি কোটি সমান্তরাল জনমে আমি তোমারই জন্য কেবল এসেছি তোমার সাথেই খেলেছি ধূম্রধূমায়িত ফ্যান ভাতের গন্ধে ছুটে গিয়েছি মা তোমারই কোলে। কোন অভাব বোধ করিনি ভাইবোনেদের তোমার হাতে মাখা নুনভাত খেয়ে একই রূপকথার গল্প বারবার শুনে  আমি একাই মা তোমার কোলজুড়ে ধূম্রধূমায়িত স্মৃতির মত ভেসে আছি।  কোটি কোটি সমান্তরাল জনমে মানব ছানা হয়ে বা বিড়াল শাবক হয়ে বারে বারে  মা তোমারই কোলে জন্মেছি আমি কিছুই চাইতে হয়নি, কারণ কিছুই ছিল না সবই তবু পেয়েছি আমি মা।  তুমি যবে যাবে শবে আমি তাকিয়ে দেখবো আকাশে  তোমার হাতছানির অপেক্ষা করব কোটি কোটি সমান্তরাল জন্মে মানব ছানা হয়ে বা বিড়াল শাবক হয়ে বারে বারে মা আমি তোমারই কোলে জন্মাবো।  #২ মরণের তীরে দাঁড়িয়ে,  বারেবারে আমি তোমারই ছেলে হবো, মা বারেবারে আমি তোমারই কাছে আসবো  তোমারই কোলে খেলব মা।  বেশি কিছু না সন্ধ্যায় একটু রুটি তরকারি আর ঠাকুরমার ঝুলি  দিনে স্কুল আর বিকেলে খেলার মাঠ একক সন্তানের সর্বক্ষণের খেলার সাথি মা বেশি কিছু ছিলও না, বেশি কিছু চাইও নি বারেবারে তুমিই হও আমার মা।

মাকড়সা

হুহু ফাঁকা সাদামারা দেওয়ালে  সরীসৃপের ফাঁপা, সর্বগ্রাসী গিলে খাওয়া অস্তিত্বকে অস্বীকার করে  নিজের লালা, শ্রম, শিল্প দিয়ে মাকড়সাটা গড়ে তুলেছিল একটা ঘর কারোর যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করেনি সৃষ্টি করেছিল এক জালের উপনগরী পুরো ঘরটাই মানুষটার পুরো বাড়িটাই তার দেওয়ালের এক কোণ তবু মাকড়সাকে ছাড়তে পারল না সে তিলতিল করে গড়ে তোলা কারুকার্যময় জালিকাকে ঝুলঝাড়ুতে জড়িয়ে নিল মাকড়সাটা চুপচাপ চলে যাচ্ছিল তাকে ভ্যাকিউম দিয়ে টেনে নিল অথচ প্রত্যহ কত কুমির মানুষকে টেনে নিয়ে যায় তাদের কিছু করতে পারবে তুমি?  কুমির হাসে, সে শক্তিমান মাকড়সার গরীব বস্তি ওপড়ানোর জন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে হয় না...

মিয়াও

গ্যাঁট হয়ে বসে আছে হুলো রান্নাঘরে ফ্রিজের সামনে নিজের খাবারের বাটিটা আগলে কখন পেটটা একটু খালি হবে, আবার খাবে!  মাঝে মাঝে জুলজুল চোখে এদিক ওদিক দেখছে আমার ভিতরের বাচ্চা ছেলেটার বিল্লির গোল নাদুটা চটকানোর জন্য হাত নিশপিশ করছে বিল্লি বলছে, "মিয়াও!" কি? খাবার তো দেওয়াই আছে! "মিয়াও!" বিল্লি বলছে মিয়াও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, মিয়াও।  একটা অদরকারি কাগজ যেই মুড়ে ফেলেছি ঘরের কোণে ছুট্টে এসে হুলো গাপ করে ধরেছে ওটা নিয়ে বল খেলবে মোবাইল চার্জারের তারটা মাটিতে ঝুলছে তাই দেখে কামড়াকামড়ি শুরু করেছে "মিয়াও!" ওরে ওটা ছিঁড়ে যাবে রে!  "মিয়াও!" অন্য কিছু নে আহ! ওখানে উঠিস না, সব পড়ে যাবে যে! "মিয়াও!" বিল্লি বলছে মিয়াও বিড়াল ভাষায় একটিই শব্দ, মিয়াও। 

ভূতের সাথে আড্ডা

বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দিন দুয়েক ধরে হচ্ছে এরকম, বর্ষা এসে গেল বলে। বর্ষার সাথে সাথে আমার মধ্যে বাঙালিয়ানার বহর বেড়েছে হঠাৎ। কয়েক দিন ধরেই খুব ইচ্ছে করছে এরকম একটা দুর্যোগময় সন্ধ্যায় (এখন দুপুর) একটা ভূতের গল্পের আড্ডা দেব বন্ধুদের সাথে। এইরকম আড্ডা আজকাল বিরল হয়ে গেছে, বিশেষত এই টেকনো-হাব নিউ টাউনে কোথাও এইরকম খাস বাঙালি আড্ডা হয় কিনা আনার জানা নেই। বড় বেশি যান্ত্রিক এই অফিস পাড়াময় নিউ টাউন। হিউম্যান টাচটা পাই না। তার উপরে এখন নিউ টাউনের যেখানে থাকি, সেটা একেবারেই কলকাতার শেষপ্রান্ত।  যাকগে, একলা চলো রে! ঠিক করে ফেললাম আজ বন্ধুদের কে ডেকে নিয়ে আড্ডা দেবই। আমি নিজের ফ্ল্যাটে একা থাকি, বাবা মা গত হয়েছেন বেশ কিছু বছর হলো আর আমি বিয়ে করিনি। অতএব কেউ মদ খেয়ে রাতে থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। অন্যান্য দিন রান্নাবান্না করে খেয়ে দেয়ে লাইব্রেরী যাই লেখালিখি করতে। কিছু পত্রপত্রিকায় লেখালিখি করে আর অন্য লেখকদের বই অনুবাদ করে আমার সংসার চলে। সংসার মানে আমি আর আমার কুকুর, শান্তিগোপাল। হ্যাঁ, কুকুরের নাম রেখেছি শান্তিগোপাল। আজ লাইব্রেরি যাওয়া ক্যান্সেল করলাম। মুদির দোকানে কিছু সরঞ্জামাদি বলে দিল...

বাবা

খালি দিতে এসেছিলে এ জীবনে তাই চাওয়া কি শেখায়নি বিধাতা মনে পড়ে যায় শৈশবের বাগানে তোমার আমার আর লাকির খেলা।  আজ তুমি একা শীত শেষের হাওয়ায় ভাসে স্মৃতির ছেঁড়া পাতা সব দিয়েও মানুষ ফুরিয়ে যায় না তাই আজও সবার জন্য সব আনিয়ে দেওয়ার তাড়া।  অসৎ চিন্তা এলে মাথায় ভেসে আসে তোমার রাগী মুখটা হতাশ হলে বাজে মাথায়, তোমার "লড়ে যা" বিপ্লব আর সংসারের জাঁতাকলকে ব্যালান্স করার খেলা জীবন আমিও ট্রাপিজে চড়ি টলমল পায়ে...

বসুন্ধরা

দূর থেকে পুলিশের সাইরেনের আওয়াজ শুনে বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে আবারও আমাকেই ধরতে আসছে নাকি? না না কেন আসবে চার কুড়ি পার হয়ে গেল বন্ধুরা, কমরেডরা সময় করে সব কেটে পড়েছিল ভালো চাকরি, ব্যবসা করতে ঘরসংসারের টানে রেগুলার রাতে সেক্স, দিনভর মেকি ঝগড়া ন্যাকামি আমিই আজও হলদেটে পুরনো বইয়ের পাতায় বদলের স্বপ্ন দেখছি গা গোলায় মাঝে মাঝে নারীর যোনির গন্ধে ঘেন্না হয় এত অন্যায়, তবুও তুমি প্রসূতি? এত শত দর্শনের মাঝে মাঝে ঝরঝরে বাতাস এনে দেয় পিওর ছাগলামির বসন্ত উৎসব আহা! ছাগলারাই আনন্দে আছে পিঠে রং মেখে... আবার সাইরেন বেজে ওঠে হঠাৎ যদি কোন পুরনো লাফড়ার জন্য শালা কেস খাই? হলদেটে বইয়ের পাতায় ঢুকে থাকি...

প্রথম আলো

মনে হয় যুগ যুগ যুগ ধরে কত জন্ম মরে আমি ফেলে এসেছি তোমায়... কালের বন্ধন ছিঁড়ে জীবনের ঋণ জুড়ে আমি খুঁজেছি তোমায়। হৃদয়ে স্পন্দন হয়ে জেগে আছো  না পাওয়ার ছাতিফাটা জ্বালা এ জীবন হেসে খেলে চালিয়েছি তবু আমি একদিন তোমায় ফিরে পাবো বলে... না সে প্রেম ছিল না, মোহ মাত্র বলে কাটিয়ে দিয়েছি সংসারের গারদ ভিজে ন্যাকড়া দিয়ে মুছে পরিস্কার করেছি কারণ এ ছেড়ে আমার ঘর কই? এ ঘরে তুমি নেই প্রিয়তমা প্রথম আলো যেমন নিশাচরের ভাগ্যে নেই  সেই প্রথম আলোর মত তুমিও আমার ভাগ্যে নেই... দুরস্তের সকালে মাঝে মাঝে ওপারের ডাক আসে যেন দেখি সবুজ জঙ্গলের স্বপ্ন আফ্রিকার আদিবাসী হাস্যমুখে আমাকে করে আবার স্বাগত আমার প্রথম মনুষ্য জন্মে এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে এভাবেই মিলিয়ে যাবো অন্য ঠিকানায়।  প্রিয়তমা আমার ভাগ্যে তুমি নেই তাই আমাকে জ্যোতিষী বললেন একাই থাকলাম তাই তোমার প্রতিক্ষায় জানতাম, কিন্তু মানতাম না যা হবার তা হবেই তবু যদি না হয়? একলা মরিতে ভয় নাই আছে কেবল রাশি রাশি হতাশা মহাকাশীয় পরিহাসের পালা সেখানে সময় ততটাই অসহায়, যতটা সময়ের কাছে আমি কোটি কোটি তারা আর লক্ষ লক্ষ সৌরজগতের সীমানায় আমি খুঁজেছি শুধু তোমায় যুগ যুগ যুগ ধ...

নিচুজাত

আমরা মানুষ, তবে ওরা বেশি মানুষ ওরাই সত্যিকারের মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায় আমাদের ঘরকে ওরা বস্তি বলে আমাদের ঘরের সামনে ওরা হেগেমুতে মাটি উর্বর করে দিয়ে যায় সেই উর্বর মাটিতে ফসল কিছুই হয় না আমার ছেলেটা খেতে পায় না আমার মেয়েটাকে বেচে দিল সেদিন যে ক'টা পয়সা দিল,  তাতে দুটো মানুষ এক হপ্তাও দু বেলা নুন ভাত হয় নে কো তারপর আবার মুতে দিল আমরা মাটিতে শুইবসি ওদের মুত এসে মুখে ছিটলো তারপর সেই হেগেমুতে উর্বর করা মাটিতেই ভাত খেলাম রোজই খাই যেমন।  চকচকে কাঁচের মত কিসব যন্তর ওরা টিপতে টিপ্তে যায় ইস্মাটফোন না কি বলে খায় না মাখে, জানি নে কো আমরাও মানুষ, কিন্তু ওরা অনেক বেশি মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায়।  ওদের গৃহদেবতার কল্যাণে ওদের সন্তান থাকে দুধেভাতে আমাদের গরীবের দেবতা নাই ওদের দুধভাত খাওয়া মোটা সন্তানের মুত দিয়ে আমাদের সন্তান থাকে মুতে ভাতে ওদের ভোট হয় বছর বছর ওদের নেতারা আমাদের মুখে মুতে দেওয়ার সুযোগ পায় ভোটের পর আবার মুতে দেয় বছর বছর ফিবছর এই চলে শুধু মুত আর মুত মুতের গন্ধে ভরপুর জীবন একে বেঁচে থাকা বলে না তাই বোধহয় ওরা আমাদের মানুষ মানুষ বললেও ঠিক মন থেকে মানুষ ভাবে ...

দিগগজের মৃত্যুদিন

এক দিগগজের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে বাইরে থেকে সন্দিগ্ধ শবযাত্রীরা এসে বসে আছে তার পুরুষ জন্ম সার্থক অচেনা বাগানের প্রত্যাবর্তিত ঝর্ণায় প্রতিটা গাছ নিয়তি চেনায়।  অমোঘ মৃত্যুর কালো আকাশ ফুটপাথবাসীর গায়ের নোংরা কালো চাদর হয়ে তাজে ঢেকে ফেলেছে আজ অস্বস্তি তো হবেই একটু।  মালি গেছে পরস্ত্রীকে নিয়ে চতুরঙ্গে  ভ্রান্তি মুকুরে কান পেতে বসে আছি আমি প্রেমের ফুল শুঁকছি অন্ধকার শালবন পিঠের কাছে ছায়ামরিচ স্থায়ী ঝাউয়ের ডাকে স্বেচ্ছাচারী হৃদয়পুর কখনও বুকের মাঝে ওঠে মহেঞ্জোদারো  ঠাকুমার আঁচলের খুঁট থেকে মেসোপটোমিয়া ব্যবিলনের বাগান ঝোলে অনন্ত কুয়োর জলে বৃষ্টি নেমেছে সন্ধ্যায় চাঁদকে মনে পড়লো  আনন্দ-ভৈরবীর বাড়ির চাবি আছে?  হলুদবাড়ির সরোজিনী কোনদিনই পাবে না তাকে নীল ভালোবাসায়।  একলা পাখি যেতে যেতে বলে গেল বড় আনন্দের সময় নয় এখন এ নয় আনন্দের সময় জাতীর মৃত্যু চায়, অশিক্ষিতের জাতীয়তাবাদ।  বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে স্বপ্নের মধ্যে তুমি, তোমার হাত ধরে মনুমেন্টে চড়ি আমি  অরণ্যের মেসেঞ্জার  লম্পট ময়ুর মেলে পেখম যেখানে।  পুরনো স্মরণিকা জাগিয়ে রেখেছিলো আমায় একটা বাগানঘ...

তুমি যাও

তুমি যাও তুমি না গেলে আমি পাগল হতে পারব না কবি হতে হবে কবি হওয়ার সব উপাদানই পেয়েছি এই ফালতু জীবনে সময় নষ্ট, দুঃখ, হতাশা, ব্যর্থতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে কাগজের টুকরোর মত নিয়তিকে উড়িয়েছি বাতাসে  যেখানেই গেছি, লাথ খেয়েছি কব্জি ডুবিয়ে  রশি কাটা পালের মত সামুদ্রিক ঝড়ে উথালপাতাল উড়ছে জীবন  কেবল তুমি হাল ধরে আছো শক্ত হাতে তুমি বাদে কেউই নেই আমার কিন্তু তুমি কেন ধরে আছো? তুমি যাও তুমি চলে যাও!  তুমি না গেলে আমি পুরো পাগল হবো কেমন করে? ল্যাংটো হয়ে লোককে ভেঙচি কেটে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরব কেমন করে?  এই সুখের ভণিতা করে সমাজের জঞ্জালকণা হয়ে বেঁচে থাকা আর কতদিন? কার জন্য এই খাঁচা? খাঁচার বাইরে বাজপাখি ছিঁড়ে খাবে যেমন খেয়েছে আমার কমরেডদের বিপ্লব সফল হয়েছে তাদের মৃত্যুতে, আমার জন্য পুঁতিগন্ধময় অবশেষ রয়ে গেছে ভাত খাওয়া আর হাত ধোয়ার একেকটা দিন স্বাভাবিকতার অভিনয় করে যাওয়ার আর সন্ধ্যা রাতে নিয়ন্ত্রিত নেশা করে বাড়ি ফেরার এ কি জীবন?  কেবল ঘড়ির ব্যাটারি শেষ করা কেবল সীজন চেঞ্জ দেখা বছর ফি বছর নতুন দলের ক্ষমতায় আসা আমি আর পারছি না প্রেয়সী, এই শেষ বাঁধন তুমি খুলে নাও তুমি এবার যাও তুমি আমাকে ...

ডালকুত্তার দিনরাত্রি

আরেকটা সূর্য জানালা দিয়ে ছুঁড়ে দিলাম আবার কালকে ফেলবো ডালকুত্তা বালক  লাথি খেয়ে বেড়ায় যে বেশি ভালোবাসা দেখায়, সে পিডোফাইল বোধহয়।  আরেকটা দিন জানালার কাঁচ বেয়ে ঢুকে পড়েছে নির্লজ্জ রকমের বিন্যাস ছোট জীবনে এত গল্প বলবে কি করে? সময় লাগবে হয়ে দেখাতে, যা তুমি হয়েই জন্মেছিলে। 

ডারউইন

কিছু মানুষের দিনগুলো অপেক্ষায় অনাহারে কেটে যায় কেন সবার দিন সমান হয় না? এর পর যদি তাদের বলি জীবনের পরে কোন জীবন নেই তবে? কোথায় তাদের ভগবান? কোথায় তাদের কেউ? আরেকটা চান্সও বলছ পাবে না?  এই সভ্যতার কোন প্রয়োজন নেই কোন প্রয়োজন নেই মেকি সর্বহারার রক্তচোষা সভ্যতার এ সভ্যতা মানব জাতির লজ্জা এ সভ্যতা কেবল অর্থের গোলাম এ সভ্যতা সভ্যতা নয়। 

কৃষ্ণ কর্ণ সংবাদ

এমনই এক বজ্রনিনাদের ভোর রাতে দেবতাদের দিয়েছিলাম দান আমার কবচ কুন্ডল মহাযুদ্ধ তখন শিয়রে  দুপক্ষেই অধর্ম, কিন্তু বিজয়ে ঈশ্বরের পক্ষপাত।  এ সমগ্র সংসার আমার ঋণী  আমার ঋণ মেটাতে পারবে না কখনও আমার মা ঋণী আমার ভগবান  কেবল খলনায়কের কাছে ঋণ আমার তাই তা মেটানোর জন্য তোমাকে ফেরালাম, হে মধুসূদন।  পরিচয় দিয়ে পেলাম দ্রোণের প্রত্যাখ্যান পরিচয় লুকিয়ে পরশুরামের অভিশাপ অনন্ত সূর্যের ন্যায় আবার উঠে দাঁড়ালাম  হে মধুসূদন, কেবল তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম দু-দুবার কারণ বিজয়ে তোমার পক্ষপাত। 

ঈশ্বর চেতনা

ঈশ্বর চেতনা মানুষকে সংস্কারাচ্ছন্ন করে দেয় না, তাকে মুক্ত করে দেয়। সংস্কারের বেড়াজালে পড়ে যে পুজো করছে নিত্যনৈমিত্ত্য বা ৫ বার ঘটা করে নামাজ পড়ছে, তার মধ্যে প্রকৃত ঈশ্বর চেতনা জাগেনি। সে হয় মনে করছে এসব করে তার কিছু বস্তু লাভ হবে বা সে ধর্মভীরু কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তবে নাস্তিক্যবাদ এর সমাধান না। একজন ঘোর নাস্তিকের সাথে একজন ধর্মোন্মাদ ব্যক্তির কোন বিশেষ পার্থক্য নেই। তারা উভয়েই ঈশ্বরের স্বরূপ সম্বন্ধে কোনদিন অবগত হতে পারবে না। তারা কেবল ঈশ্বর আছে না নেই, এই প্রশ্ন করেই সাড়া হবে সারা জীবন। বা ওই ঘটা করে চার বেলা শাঁখ বাজিয়ে ধূপ দিয়ে পুজা করে বা নামাজ সেজদা করে বা "ওইসব ঈশ্বর ফিশ্বর কিছু হয় না" এই তর্ক করেই জীবন শেষ করে ফেলবে। বোধশক্তিহীন মানুষের কাছে ধর্ম একটি বোঝা। হতে পারে সে নাস্তিক অথবা ধর্মোন্মাদ। চেতনার জাগরণ না হলে কিছুতেই কিছু হবে না। নিজেকে জ্ঞানী সবাই মনে করে, কিন্তু কোন মতবিরোধ হলেই অপরপক্ষকে  আক্রমণ করে বা গাধার মত এক কথা বারবার বলতে থাকে। তর্কে যেতে যে ভয় পায়, সে জ্ঞানহীন। তবে যুক্তিপূর্ণ তর্ক। কেবল তর্কের জন্যেই তর্ক করে কোন লাভ নেই।  কিন্তু আমার মতে একজন নাস্তিকের ...

আরেকবার

আরেকবার তোর কাঁধে হাত রেখে চলে যাব কৈশোরের রেকলেস বেলায় হতাশা বিহীন মৃত্যু বর্জিত সেই দিন বিল্ডিং এর ট্যাঙ্কে বসে গাঁজা টানব তুই বলবি তোর নীলাঞ্জনার কথা, কবে কোথায় ওর হাতে ধরে বলেছিলি চলো আমার সাথে সাথে পিছনে ওর পরিবারের কে কোন গুরুগম্ভীর সদস্য তাড়া করেছিল এইসব গল্প শুনব আর জোর করে বিশ্বাস করাবো নিজেকে যাতে একটু উৎসাহ পেয়ে এরকম আরো গল্প বলিস তুই এই সব আর রক এন্ড রোল শুনেই কেটে যাবে স্কুল বাঙ্ক মারা দিনটা তারপর গিটারটা পিঠে নিয়ে আবার বেড়াতে বেরোবো দুজনে সন্ধেবেলা বাজাতে পারি ছাই না, গিটার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটাই আসল। 

আরেকটা সকাল

আরেকটা সকাল ঢুকে এসেছে ভাঙা জানালা দিয়ে অপমান নিত্যসঙ্গী দারিদ্র্য যেন এক নিশ্ছিদ্র প্রাচীর এক দুর্ভেদ্য আঁধার প্রাচুর্যদায়িনী জীবন আবার সব কেড়েও নেয় কামের ফাঁদ। মুখের থেকে গ্রাস ছিনিয়ে নেয় "মা প্রকৃতি" আমি ফুল ফল মৌমাছি দেখতে পাই না কারণ সে প্রিভিলেজপ্রাপ্ত জাতি আমি নই আমি খালি দেখতে জীবন্ত দগ্ধ হওয়া মানুষ ও খাঁচায় জীবন কাটিয়ে দেওয়া প্রাণীদের  আমি দেখতে পাই কেবল সর্বহারাদের যাদের কোন মানসম্মানের ধার ধারে না কেউ আমি খালি রক্তমাংসমাখা ভয়াবহ মৃত্যুগুলো দেখতে পাই যখনই তাকাই আকাশপানে চেয়ে ফিলোসফি ফ্যান্সি করি না তাই প্রেম মানে বুঝি দেহের তাড়না পয়সার কামনা... আরেকটা সকাল এসে ঢুকেছে জানালার ফাঁক দিয়ে নিয়ে উদাসীন জীবন মৃত্যুচেতনার কালো গহ্বর এসে গ্রাস করে অবসর সময় আর ক্ষিদে মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়  মাতা প্রকৃতি কোথায় সে ভগবান? কোথায় আল্লাহ? মসিহা? না এরা কখনো আসে এদের আসার আশা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় যে মূহুর্তে খুলবে জ্ঞানচক্ষু কিছুই দেখতে পাবে না একটা ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপি অন্ধকার আর মৃত্যু.... আরেকটা সকাল...

তুমি আমার নসীবে নেই

আমি লিখতে ভুলে গেছি এখন খালি সমুদ্রের পাড়ে ঢেউ অনুবাদ করি বৃষ্টি বাজাই আর কভু লটারি জেতার স্বপ্ন দেখি।  সবাই পলিটিকাল হয়ে গেছে এই দল না হলে ওই দল আমি সামুদ্রিক বাতাসের টানে ছুটে এসেছি তোমার কাছে।  দিকপালদের যদি মতি ফেরে না কি দিকভ্রান্তরাই সব দিগগজ  শিগগিরই সব পালটে যাবে  সেই আশায় বৃষ্টি বাজাই।  আশা নিয়েই বেঁচে থাকা আশাই বেঁচে থাকা, এ আর কে না জানে প্রিয়তমা আমার হৃদয় জুড়ে আছো তুমি তুমি আমার কিসমত মে নেহি।  তুমি আমার হৃদয় জুড়ে স্বপ্নদুয়ারে মেঘের ভাসানে, ঢাকের তালে যেমন মধুসূদনের জন্য রাধিকা  কিন্তু তুমি আমার নসীবে নেই প্রিয়তমা। একটু দূরে জলসার সুর মিলিয়ে যাচ্ছে আমি ভেসে ভেসে যাচ্ছি সমুদ্রের কাছে ঢেউয়ের গান শুনব বলে আমি সঙ্গ দেব, বৃষ্টি বাজিয়ে।  আজকে কারা যেন চাঁদে পা রাখবে কত কিছু দেখা বাকি এ পৃথিবীর  বাইরের দিকে নজর দেওয়া উচিৎ না নাকি এ ধরা বর্জ্য?  ত্যাগের বিনিময়।  ছোত্ত বেড়ালি এসেছে একটু খেতে আদর ছাড়া কিছুই নেই এখন সিগারেট খাবি বিল্লি? আয় বোছ বোছ! তোকে ইস্তানবুলের স্বপ্ন দেখাই... মিথ্যা পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে শান্তি খুঁজে পাওয়া বড়ই...

অন্ধকারের ক্যানভাসে

অন্ধকারের ক্যানভাসে ভীতি রাক্ষস খোক্কস আঁকে। যতই বোঝাই, ভয়ের কারণে ভূত, ভূতের কারণে ভয় না, কোথাও একটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।  এই যে এত বড় ব্রহ্মাণ্ড, এত মাত্রা বা ডিমেনশন, না শুরু না শেষ - আমরা কি একটু বেশিই র‍্যাশনাল হয়ে যাচ্ছি না?  সত্যিই কি এতই সহজে ২ আর ২ এ ৪?  এতগুলো লোকের চিন্তাভাবনা সব জল্পনা?  আবার ভাবি, হ্যাঁ অবশ্যই তাই!  ২ আর ২ এ ৪ নয় তো কি?  আসলে ভয় একটা ইন্সটিংক্ট, একটা নেসেসিটি।  যেমন রাগ, আনন্দ, অভিমান ইত্যাদি ইত্যাদি। ন্যাকামি ইত্যাদি।  ভয় আসলে মনের সাথে সাথে শরীরেরও খাবার, এই যেমন খিদে আর সেক্স।  মানে ভয়ে মনে আলোড়ন আর শরীর ঠান্ডা, ভারী। খিদে পেলে যেমন খেতে ইচ্ছে করে বা লালা পড়ে পশুদের বা পেট কামড়ায়।  তেমনি ভয় পেতে ইচ্ছে হলে লোকে ভয় পায় আর ভয় পেলে ভূতপ্রেত এসব দেখে বা ভাবে।  সেক্স জাগলে যেমন লিঙ্গ উত্থিত হয় - কিন্তু কেউ কি জানে এই সেক্স জিনিসটা আসে কোথা থেকে? মনের অন্তঃস্থল থেকে?  কিউপিড বা এরস (Eros) বা কামদেব ইত্যাদি  অজাগতিক প্রাণীদের এর জন্য দায়ী করা হয়, কিন্তু এরা কি কোন রক্তমাংসের জীব না অ্যাবস্ট্র‍্য...

আমাকে ভুলিয়া যাইয়ো

অন্ধকারে আসিয়াছি অন্ধকারে চলিয়া যাইব কেহ খবর রাখে নাই কারো খবর আমি রাখি নাই।  ঘুমন্ত পুরীতে আমার রূপকথার অস্তিত্ব মুছিয়া ফেলিতে মূহুর্তও লাগিবে না পাতা উল্টিয়া বই বন্ধ করিয়া আমাকে ভুলিয়া যাইয়ো।