Posts

কবিতার স্বপ্নে

কবিতার স্বপ্নে উড়ছি আমি  নীল আমিন হয়ে স্কাই স্ক্রেপারের মাথা দিয়ে পোস্ট মডার্ন আরব্য রজনীতে।  আর সব কবিরাও উড়ছে আমি কখনও বেশি উড়ছি কখনও কম কতটুক ডানে গেলে টাল খাবো? কতটুকু বামে গেলে ব্যালান্স বাঁচাবো? কবিতা উড়ছে অক্ষরমালা হয়ে নীল স্বপ্নে নীল স্কাই স্ক্রেপারের মাঝে মাঝে।  যে জীবন বাঁচা হয়নি তা স্বপ্নে দেখি প্রায়ই ঘুম ভেঙে উঠে রোজনামচা দাঁতমাজা-মুখধোয়ার সাথে ভুলে যাই যদি আরেক চান্স পাই তবে কি ঘুরিয়ে দেব সব?বদলে দেব সব? নাকি সেই জীবনেও একই অভিযোগ থাকবে অন্য জীবনটাকে না পাওয়ার কবিতার স্বপ্নে উড়ছি পোস্ট মডার্ন আরব্য রজনীতে নীল আমিন হয়ে স্কাই স্ক্রেপারের মাঝে মাঝে। 

একটি অরূপকথার গল্প

ক্রেডিট কার্ডের জংগল বাদাড় পেড়িয়ে আমি রাক্ষসপুরিতে ঢুকি এখানে গাছপালা অন্ধকার পাখিদের ডাক ঝোপের আড়ালে জন্তু জানোয়ারদের হুক্কাহুয়া  কই মানুষ খেকোরা কই? মানুষ জাতীয় কিছু কই? বা রাক্ষসজাতীয়? না, কিছুই তো রুপকথার ডেস্ক্রিপশান ম্যাচ করছে না... এখানে তো কোনো ত্রাস নেই কোনো মায়াবী হরিণ নেই কোন মানুষের হাড়গোড় মাংস পড়ে নেই রাস্তা সব শুনশান রাক্ষসরা সব মৃত কেবল খালি রুপকথার ময়দান তেপান্তরের শুণ্যতা  লাইটপোস্ট এ LED bulb, Wifi receiver, lcd screen এ traffic  awareness  আমি তাহলে পারলাম না ক্রেডিট কার্ডের ঋণমুক্ত হতে! অফিস কি শেষ হয়েছে না আবার যেতে হবে? সেই IT sector এর জামা jeans sports shoes backpack 5" smartphone  সবাই এক হয়ে গেছে রাক্ষসরা মরে গেছে মানুষ zombie হয়ে গেছে...

একটা দুপুরের ঘুমের স্বপ্ন

ট্রেনের বাদাম মফস্বল মেশা গন্ধে একটা স্থায়ী সুখ আছে বা শান্তি কারণ যত পয়সাই থাকুক না কেন বসে থেকে জানালা দিয়ে দেখা ছাড়া সেরকম কিছু করার নেই হা আছে, কিন্তু সেরকম না ট্রেনে সবাই বাদাম খায় iPhoneওয়ালারাও আমার কোন কিছুই ভালো লাগে না কোন কিছুই না চাকরি, কাজ...বেশিক্ষণ কবিতাও ভালো লাগে না ফুর্তি? না, বেশি না তবে ট্রেনে একটা ভালো সীট পেলে মনে হয়, "এ পথ যদি না শেষ হত..." প্লেনেও ভালো মেঘের ফাঁকেফাঁকে তবে বড্ড বেশি জ্বালাতন লাগে এয়ারহস্টেসদের আনাগোনা পাইলটের বকবক ওঠার আগে হাজারটা চেকিং লোকগুলো বড় মেকি সাজে ট্রেনেই ভালো বাদাম মফস্বল মেশা নস্টালজিয়া আর সিরিয়াস বিড়ি খাওয়া কাষ্ঠল গলায় পাতিরামের পাতি গল্প সেখানে সন্ধেয় এখনো অন্ধকার হয় সকালের অনেক দাম বাদাম মফস্বল ঝোপঝাড় ছেলেমেয়ে সন্ধের হাট।

কবি ও রেন্ডি

"এ সোসাইটির অনার আমি চাই না" মোটা ব্যবসায়ীরাই তো বাস্তববাদী অ্যানোনিমাস কবিরা অন্ধকারে মরবে না ত্যাগ, না ভোগের টানাপোড়েনে  গড্ডালিকাপ্রবাহে ভেসে যাওয়াই তো সুখের সম্মানের  ছেলে কি করে? না, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার সিএ কোন কবি তার ছেলে মেয়েকে কবি বানাতে চায়? কোন রেন্ডি তার মেয়েকে রেন্ডি বানাতে চায়? কি রেন্ডি শব্দটা নিয়ে ভাবতে বসে গেলে? ভাষার নান্দনিকতায় মজে আছো তুমি  ন্যাম্বি প্যাম্বি বেঙালি  রিফাইন্ড মিডিওক্রিসি তোমার, আমি খুব ভালোবাসি লাগাবো কিন্তু হাইমেন ফাটবে না মাল খাবো কিন্তু গন্ধ ছাড়বে না সকালে উঠে ময়লা কাপড় দিয়ে ঘরদোর পরিস্কার করে নেব ময়লা দিয়ে পরিস্কার করব...তাই জন্য উর্দি পরা কতগুলো ক্রিমিনালকে দায়িত্ব দিয়েছি আইনরক্ষার উর্দি পরা কটা ক্রিমিনাল আর ভদ্রভাষায় ন্যাংটামো করা কটা ডিপ্লোম্যাট দেশ চালাবে একটা গান আর একটা কাপড়ের পতাকা দিয়ে... "ওইই! দেশের নামে কিছু বলবি না বাঁড়া, চুদে রেখে দোবো!" দেশের নামে কিছু বলবি না  দেশ মানচিত্র  মানচিত্রের নামে কিছু বলবি না বাঁড়া, চু...না না ঠিক যাচ্ছে না... মোটা ডিগ্রিধারীরাই আইন ঠিক করবে  ভুল নাই ভুল নাই রাজামশাই  ...

উৎসব

রাতের আঁধারে লিখতে বসি না পরার কাব্য আর অসীম জন্মের মরণের গল্প পাতার পর পাতা, খাতার পর খাতা জমে কেবল লেখা, কেউ পরেনা কারণ কাউকে আমি পরাতে চাই না আমি লিখি নিজের জন্য, আমি লিখি লেখার জন্য যে লেখার কোন দরকার নেই। অনেক সময় স্রেফ বাঁচার জন্য লেখা প্রত্যেকদিন প্রত্যেকটা কবিতা আমার আয়ু ১ দিন করে বাড়িয়ে দেয় আমার কবিতা লেখে আমার ভাগ্যলিপি অতি তাচ্ছিল্যভরে মৃত্যুকে ফিরিয়ে দি আমি সাদা পাতার মত মৃত্যু। কেউ দিন আনে দিন খায় আর কেউ কবিতা হয়ে ঘুরে বেড়ায় পাতায় পাতায় রাতের আঁধারে কোন আঁতেল এর চশমার ফাঁকে ছাত্রের পাঠ্যবইতে, শিক্ষকের সহায়িকাতে আমি অক্ষর হয়েই বাঁচতে চাই আলোর উৎসবে, যখন নতুন জামাকাপড়ের গন্ধে পথেঘাটে পিঁপড়ের মত মানুষ বেরোয় আমি ঢাক আর মাইকের আওয়াজ থেকে দুরে কোন এক লুকনো কোণে অক্ষরমালা হয়ে সাদা খাতায় পরে থাকতে চাই।

ইউটোপিয়া

দিব্যি আলুসেদ্ধ ভাত দিয়ে একটা ইংরেজি নভেল গিলছিলাম জমি গেছে জমিদারি যায়নি গোছের একটা গল্প না মানে আমার উপন্যাসটা পুরনো থমাস মোরের ইউটোপিয়া হঠাৎ করে হরেকৃষ্ণ এসে বলল "ভাই ইতিহাসে নাম তুলে যেতে হবে, চল বিপ্লব করি" চোয়ালের গ্রাস আলগা হয়ে মাথার ঘিলু চলকে পড়ে গেল এঁঠো হাতে ঘিলু তুলে রেখে বাম হাত দিয়ে চুলকে নিয়ে বললাম "না মানে ইয়ে, মানে ইয়ে তো ইয়ে হয়নি আমার মানে" দেখি হঠাৎ হাতের নভেলটা দাস ক্যাপিটাল হয়ে গেছে হরেকৃষ্ণ "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" করে উঠল ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল বার করে খেলাম কি বাওলা কি বাওলা, দুটো সবজি কেনার পয়সা নেই বলে কিনা বিপ্লব করবে! "ওসব সাহেবসুবোরা করে, বিপ্লব না ইনকিলাব কি ছাই কি দরকার ভালো আছি, দুটো সেদ্ধভাত খাই" হঠাৎ দেখি হরেকৃষ্ণ আর নেই, গায়েব বেমালুম? না পাশের পেন্ডুলামের বাড়ি গেছে কচি মাথা, নেমে পড়বে ওর সাথে যাক গে, আমার ঘাড় থেকে নেমেছে ব্যাটা কি সাহস, আমাকে বলে কিনা বিপ্লব করবে! একটা বিড়ি ধরিয়ে বইটা খুললাম আবার এ কি? এ তো সত্যি দাস ক্যাপিটাল! ইউটোপিয়াটা গেল কই?

আলস্য

আলস্যে ভরা এ জীবনে কিছুই করা হয়ে উঠল না সবাইকেই হতাশ করা বাদে কিন্তু রজত খুব ভালো ছেলে বাবা মায়ের কৃতি ছেলে বড় চাকরি করছে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মাকে রোজগার করে খাওয়ায় সমাজে ইজ্জত আছে ভালো ছেলে ভদ্র ছেলে... আমার সে ইজ্জৎ নেই দু পয়সা রোজগার নেই অথচ দেমাক আছে সমাজে ইজ্জৎ নেই যে কেউ টাইম্পাস মনে করে বেকার ছেলে  মজার ছেলে... অথচ এত যে স্বপ্ন দেখছি চোখ বুজে চোখ খুলে শুয়ে বসে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে জেগে জেগে  সেইসব স্বপ্ন আজকাল কেউ বোঝেনা দেখেনা আসলে ধার ধারে না মনটা বাদে ও আমার সব গল্প শোনে আমার সব কথায় ঘাড় নাড়ে কিন্তু এদিকে মনটার বাবা আবার বাড়ি বিক্রি নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে এটা বেচে একটা বড় ফ্ল্যাট নেবে অন্যত্র মনটাকেও আর পাবো না স্বপ্নগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বারবার ঘুম চাইছে ঘুম।