Posts

প্রথম আলো

মনে হয় যুগ যুগ যুগ ধরে কত জন্ম মরে আমি ফেলে এসেছি তোমায়... কালের বন্ধন ছিঁড়ে জীবনের ঋণ জুড়ে আমি খুঁজেছি তোমায়। হৃদয়ে স্পন্দন হয়ে জেগে আছো  না পাওয়ার ছাতিফাটা জ্বালা এ জীবন হেসে খেলে চালিয়েছি তবু আমি একদিন তোমায় ফিরে পাবো বলে... না সে প্রেম ছিল না, মোহ মাত্র বলে কাটিয়ে দিয়েছি সংসারের গারদ ভিজে ন্যাকড়া দিয়ে মুছে পরিস্কার করেছি কারণ এ ছেড়ে আমার ঘর কই? এ ঘরে তুমি নেই প্রিয়তমা প্রথম আলো যেমন নিশাচরের ভাগ্যে নেই  সেই প্রথম আলোর মত তুমিও আমার ভাগ্যে নেই... দুরস্তের সকালে মাঝে মাঝে ওপারের ডাক আসে যেন দেখি সবুজ জঙ্গলের স্বপ্ন আফ্রিকার আদিবাসী হাস্যমুখে আমাকে করে আবার স্বাগত আমার প্রথম মনুষ্য জন্মে এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে এভাবেই মিলিয়ে যাবো অন্য ঠিকানায়।  প্রিয়তমা আমার ভাগ্যে তুমি নেই তাই আমাকে জ্যোতিষী বললেন একাই থাকলাম তাই তোমার প্রতিক্ষায় জানতাম, কিন্তু মানতাম না যা হবার তা হবেই তবু যদি না হয়? একলা মরিতে ভয় নাই আছে কেবল রাশি রাশি হতাশা মহাকাশীয় পরিহাসের পালা সেখানে সময় ততটাই অসহায়, যতটা সময়ের কাছে আমি কোটি কোটি তারা আর লক্ষ লক্ষ সৌরজগতের সীমানায় আমি খুঁজেছি শুধু তোমায় যুগ যুগ যুগ ধ...

নিচুজাত

আমরা মানুষ, তবে ওরা বেশি মানুষ ওরাই সত্যিকারের মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায় আমাদের ঘরকে ওরা বস্তি বলে আমাদের ঘরের সামনে ওরা হেগেমুতে মাটি উর্বর করে দিয়ে যায় সেই উর্বর মাটিতে ফসল কিছুই হয় না আমার ছেলেটা খেতে পায় না আমার মেয়েটাকে বেচে দিল সেদিন যে ক'টা পয়সা দিল,  তাতে দুটো মানুষ এক হপ্তাও দু বেলা নুন ভাত হয় নে কো তারপর আবার মুতে দিল আমরা মাটিতে শুইবসি ওদের মুত এসে মুখে ছিটলো তারপর সেই হেগেমুতে উর্বর করা মাটিতেই ভাত খেলাম রোজই খাই যেমন।  চকচকে কাঁচের মত কিসব যন্তর ওরা টিপতে টিপ্তে যায় ইস্মাটফোন না কি বলে খায় না মাখে, জানি নে কো আমরাও মানুষ, কিন্তু ওরা অনেক বেশি মানুষ ওরা আমাদের মুখে মুতে দিয়ে যায়।  ওদের গৃহদেবতার কল্যাণে ওদের সন্তান থাকে দুধেভাতে আমাদের গরীবের দেবতা নাই ওদের দুধভাত খাওয়া মোটা সন্তানের মুত দিয়ে আমাদের সন্তান থাকে মুতে ভাতে ওদের ভোট হয় বছর বছর ওদের নেতারা আমাদের মুখে মুতে দেওয়ার সুযোগ পায় ভোটের পর আবার মুতে দেয় বছর বছর ফিবছর এই চলে শুধু মুত আর মুত মুতের গন্ধে ভরপুর জীবন একে বেঁচে থাকা বলে না তাই বোধহয় ওরা আমাদের মানুষ মানুষ বললেও ঠিক মন থেকে মানুষ ভাবে ...

দিগগজের মৃত্যুদিন

এক দিগগজের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে বাইরে থেকে সন্দিগ্ধ শবযাত্রীরা এসে বসে আছে তার পুরুষ জন্ম সার্থক অচেনা বাগানের প্রত্যাবর্তিত ঝর্ণায় প্রতিটা গাছ নিয়তি চেনায়।  অমোঘ মৃত্যুর কালো আকাশ ফুটপাথবাসীর গায়ের নোংরা কালো চাদর হয়ে তাজে ঢেকে ফেলেছে আজ অস্বস্তি তো হবেই একটু।  মালি গেছে পরস্ত্রীকে নিয়ে চতুরঙ্গে  ভ্রান্তি মুকুরে কান পেতে বসে আছি আমি প্রেমের ফুল শুঁকছি অন্ধকার শালবন পিঠের কাছে ছায়ামরিচ স্থায়ী ঝাউয়ের ডাকে স্বেচ্ছাচারী হৃদয়পুর কখনও বুকের মাঝে ওঠে মহেঞ্জোদারো  ঠাকুমার আঁচলের খুঁট থেকে মেসোপটোমিয়া ব্যবিলনের বাগান ঝোলে অনন্ত কুয়োর জলে বৃষ্টি নেমেছে সন্ধ্যায় চাঁদকে মনে পড়লো  আনন্দ-ভৈরবীর বাড়ির চাবি আছে?  হলুদবাড়ির সরোজিনী কোনদিনই পাবে না তাকে নীল ভালোবাসায়।  একলা পাখি যেতে যেতে বলে গেল বড় আনন্দের সময় নয় এখন এ নয় আনন্দের সময় জাতীর মৃত্যু চায়, অশিক্ষিতের জাতীয়তাবাদ।  বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে স্বপ্নের মধ্যে তুমি, তোমার হাত ধরে মনুমেন্টে চড়ি আমি  অরণ্যের মেসেঞ্জার  লম্পট ময়ুর মেলে পেখম যেখানে।  পুরনো স্মরণিকা জাগিয়ে রেখেছিলো আমায় একটা বাগানঘ...

তুমি যাও

তুমি যাও তুমি না গেলে আমি পাগল হতে পারব না কবি হতে হবে কবি হওয়ার সব উপাদানই পেয়েছি এই ফালতু জীবনে সময় নষ্ট, দুঃখ, হতাশা, ব্যর্থতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে কাগজের টুকরোর মত নিয়তিকে উড়িয়েছি বাতাসে  যেখানেই গেছি, লাথ খেয়েছি কব্জি ডুবিয়ে  রশি কাটা পালের মত সামুদ্রিক ঝড়ে উথালপাতাল উড়ছে জীবন  কেবল তুমি হাল ধরে আছো শক্ত হাতে তুমি বাদে কেউই নেই আমার কিন্তু তুমি কেন ধরে আছো? তুমি যাও তুমি চলে যাও!  তুমি না গেলে আমি পুরো পাগল হবো কেমন করে? ল্যাংটো হয়ে লোককে ভেঙচি কেটে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরব কেমন করে?  এই সুখের ভণিতা করে সমাজের জঞ্জালকণা হয়ে বেঁচে থাকা আর কতদিন? কার জন্য এই খাঁচা? খাঁচার বাইরে বাজপাখি ছিঁড়ে খাবে যেমন খেয়েছে আমার কমরেডদের বিপ্লব সফল হয়েছে তাদের মৃত্যুতে, আমার জন্য পুঁতিগন্ধময় অবশেষ রয়ে গেছে ভাত খাওয়া আর হাত ধোয়ার একেকটা দিন স্বাভাবিকতার অভিনয় করে যাওয়ার আর সন্ধ্যা রাতে নিয়ন্ত্রিত নেশা করে বাড়ি ফেরার এ কি জীবন?  কেবল ঘড়ির ব্যাটারি শেষ করা কেবল সীজন চেঞ্জ দেখা বছর ফি বছর নতুন দলের ক্ষমতায় আসা আমি আর পারছি না প্রেয়সী, এই শেষ বাঁধন তুমি খুলে নাও তুমি এবার যাও তুমি আমাকে ...

ডালকুত্তার দিনরাত্রি

আরেকটা সূর্য জানালা দিয়ে ছুঁড়ে দিলাম আবার কালকে ফেলবো ডালকুত্তা বালক  লাথি খেয়ে বেড়ায় যে বেশি ভালোবাসা দেখায়, সে পিডোফাইল বোধহয়।  আরেকটা দিন জানালার কাঁচ বেয়ে ঢুকে পড়েছে নির্লজ্জ রকমের বিন্যাস ছোট জীবনে এত গল্প বলবে কি করে? সময় লাগবে হয়ে দেখাতে, যা তুমি হয়েই জন্মেছিলে। 

ডারউইন

কিছু মানুষের দিনগুলো অপেক্ষায় অনাহারে কেটে যায় কেন সবার দিন সমান হয় না? এর পর যদি তাদের বলি জীবনের পরে কোন জীবন নেই তবে? কোথায় তাদের ভগবান? কোথায় তাদের কেউ? আরেকটা চান্সও বলছ পাবে না?  এই সভ্যতার কোন প্রয়োজন নেই কোন প্রয়োজন নেই মেকি সর্বহারার রক্তচোষা সভ্যতার এ সভ্যতা মানব জাতির লজ্জা এ সভ্যতা কেবল অর্থের গোলাম এ সভ্যতা সভ্যতা নয়। 

কৃষ্ণ কর্ণ সংবাদ

এমনই এক বজ্রনিনাদের ভোর রাতে দেবতাদের দিয়েছিলাম দান আমার কবচ কুন্ডল মহাযুদ্ধ তখন শিয়রে  দুপক্ষেই অধর্ম, কিন্তু বিজয়ে ঈশ্বরের পক্ষপাত।  এ সমগ্র সংসার আমার ঋণী  আমার ঋণ মেটাতে পারবে না কখনও আমার মা ঋণী আমার ভগবান  কেবল খলনায়কের কাছে ঋণ আমার তাই তা মেটানোর জন্য তোমাকে ফেরালাম, হে মধুসূদন।  পরিচয় দিয়ে পেলাম দ্রোণের প্রত্যাখ্যান পরিচয় লুকিয়ে পরশুরামের অভিশাপ অনন্ত সূর্যের ন্যায় আবার উঠে দাঁড়ালাম  হে মধুসূদন, কেবল তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম দু-দুবার কারণ বিজয়ে তোমার পক্ষপাত।